চাঁদপুর, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ২ জিলহজ ১৪৪৩  |   ৩৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুরের সাবেক এসপি কৃষ্ণ পদ রায় সিএমপির কমিশনার
  •   চাঁদপুরের রোটার‌্যাক্ট ক্লাবগুলোর জিরো আওয়ার সেলিব্রেশন প্রোগ্রাম
  •   চাঁদপুর পৌরসভার অর্থায়নে একটা ব্লাড ব্যাংক করবো
  •   বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে
  •   রোটারিয়ানগণ সেবামূলক যে মহৎ কার্যক্রম করছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়

প্রকাশ : ১০ মে ২০২২, ০০:০০

চোরের কবলে যখন বিচারকের বাসা ও কার্যালয়!
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুরে প্রায় তিন বছর আগে জেলা ও দায়রা জজের বাসায় জানালা খুলে চোর মোবাইল ফোন চুরি করে নিলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। নিতান্তই চুরি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে চোর আসলে তাতে যে উক্ত বিচারক ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতেন, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। চোর সেজে খুনি যদি আসতো, তাহলে বিচারক খুনেরও শিকার হতে পারতেন। বিচারকের বাসা সংলগ্ন গুয়াখোলা মহল্লায় সিসিটিভি ক্যামেরার একটি পয়েন্ট থাকায় চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ উক্ত ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে চোর শনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং চুরিকৃত মালামাল উদ্ধারসহ চোরকে আটক করে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি সামাল দেয়। এ চুরির ঘটনায় বিচারকের নৈশকালীন নিরাপত্তা জোরদার করতে নৈশ প্রহরী ও মডেল থানা পুলিশ সক্রিয় হয়। এমনকি জেলা পুলিশ চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানোর উদ্যোগ নেয়।

জেলা ও দায়রা জজের বাসায় সংঘটিত উক্ত চুরির ঘটনা মন থেকে পুরোপুরি মুছে না যেতেই জেলা ও দায়রা জজের কার্যালয়ে তাঁর খাস কামরা ও এজলাসে চুরির ঘটনা ঘটেছে, যাতেও সৃষ্টি হয় ব্যাপক তোলপাড়। ৭ মে শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে এ চুরি সংঘটিত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ চুরির ঘটনায় কোনো নথি বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো ফাইল হারানো যায় নি। চোর খাস কামরার কিছু সরঞ্জাম বস্তায় ঢুকিয়ে সেগুলো পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। দ্বিতীয় তলার রেলিং ভেঙ্গে চোর এজলাসের দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর, কম্পিউটারের সিপিউ, টিস্যু বক্স, চশমা, মাইক সেট, ফ্লাক্স, গাড়ির কাগজ ও বেশ ক’টি মাল্টিপ্লাগ বস্তায় ঢোকায় এবং তারপর নিচে ফেলতে গেলে সেটি ডোবায় পড়ে যায়। আর জেলা জজের ব্যবহৃত টেবিলের ওপর রাখা জরুরি কাগজপত্র মেঝেতে এলোপাতাড়ি ফেলে রেখে যায়। চোর দীর্ঘ সময় জেলা জজের খাস কামরা ও এজলাসে অবস্থান করলেও আদালত এলাকায় কর্মরত নৈশ প্রহরীরা বিষয়টি টের পায়নি। পরদিন ৮ মে এ চুরির ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ সুপার, সিআইডি, পিবিআই, ডিবি ও চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এটা নিশ্চিত, জেলা ও দায়রা জজের বাসায় এবং কার্যালয়ে চুরির সময় নৈশ প্রহরীরা কর্মরত ছিলো। কথা হলো, সেটা কি ঘুমিয়ে না জেগে জেগে? জানালা খুলে ও রেলিং ভেঙ্গে উক্ত দুটি চুরির ঘটনায় অবশ্যই আওয়াজ হয়েছে, তাতেও টের পায়নি নৈশ প্রহরীরা। তাতে ধারণা করা যায়, নিশ্চয়ই নৈশ প্রহরীরা ঘুমন্ত ছিলো। সেজন্যে এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোনো ঘুমন্ত নৈশ প্রহরী দ্বারা জেলা ও দায়রা জজ কেনো, জেলা প্রশাসক কিংবা তদূর্ধ্ব কোনো কর্মকর্তার বাসা ও কার্যালয়ও নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত, মধ্যরাত থেকে সূর্যোদয় এবং তারপর দিবালোকে পালাক্রমে তথা শিফটিং পদ্ধতিতে প্রহরীদের ডিউটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়