চাঁদপুর, শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১১ আষাঢ় ১৪২৯, ২৪ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   পদ্মা সেতু : কোন খাতে কত ব্যয়
  •   স্বপ্নের পদ্মা সেতু : অসাধ্যকে সাধন করার মহাকাব্য
  •   বাবুরহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামানের ইন্তেকাল
  •   পদ্মা সেতু উদ্বোধন উদ্‌যাপনে চাঁদপুরেও উৎসবের আমেজ
  •   আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ : স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২২, ০০:০০

বিষয়টি অনেক দুঃখজনক
অনলাইন ডেস্ক

ফরিদগঞ্জের রূপসায় পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীদের অবরুদ্ধ করার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সে মামলায় প্রধান আসামী হিসেবে ফরিদগঞ্জের রূপসার জমিদারদের বংশধর ও ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতওয়াল্লী সৈয়দ মেহেদী হাসান চৌধুরীর নাম জানাজানি হওয়ায় জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মেঘনার পূর্বপাড়ে জনহিতৈষী মুসলিম জমিদার হিসেবে ব্রিটিশ আমল থেকে খ্যাতিমান রূপসার জমিদার। এঁদের অবদানে সড়ক ও নৌপথ, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অনেক জনকল্যাণকর প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এঁদের প্রজা-হিতৈষণার জ্বলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ‘খান বাহাদুর’ উপাধিপ্রাপ্ত আবিদুর রেজা চৌধুরী, যিনি একাধারে ত্রিশ বছর অবিভক্ত কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন।

গত ক’দিন পূর্বে চাঁদপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি-২ ফরিদগঞ্জ জোনাল অফিসের লোকজন রূপসা উত্তর ইউনিয়নের রূপসা বাজারে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল বিষয়ে মাইকিং করতে গিয়ে জনরোষের শিকার হয়। পরবর্তীতে রূপসা জমিদার পরিবারের সদস্য ও ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতওয়াল্লি সৈয়দ মেহেদী হাসান চৌধুরীর বাসায় তাঁর উপস্থিতিতে হামলাকারী ও পল্লীবিদ্যুতের লোকজনের মধ্যে মীমাংসা হয়। কিন্তু পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সেখানে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে স্বীকার করলেও ঘটনাস্থল থেকে ফিরে বোল পাল্টে ফেলে। ঘটনার মীমাংসাকারীদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়ের করে। গত ২১ জুন ফরিদগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত মামলায় সৈয়দ মেহেদী হাসান চৌধুরীকে প্রধান আসামী করা ছাড়াও রূপসা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি ফারুক খান, এশিয়ান টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি জাহিদ হোসেনসহ ৮ জনকে নামীয় আসামী এবং আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামীয় আসামী করা হয়েছে।

ব্যাপক লোডশেডিং, লোভোল্টেজসহ বিবিধ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্যেই ফরিদগঞ্জের লোকজন পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ওপর রুষ্ট। এমতাবস্থায় বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের জন্যে মাইকিং ও চাপের মুখে তাদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীদের নিজেদের সুবিধামতো পেয়ে চড়াও হওয়া এবং অবরুদ্ধ করা মোটেও বীরত্বের কাজ হয়নি। তারা যদি সংগঠিত হয়ে মানববন্ধন ও মিছিল এবং স্মারকলিপি পেশের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতো, বড় জোর ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরস্থ পল্লীবিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে কর্মকর্তাদের নিকট থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিশ্চিয়তা সংক্রান্ত অঙ্গীকার আদায় করতে পারতো, তাহলে সেটা বীরত্বপূর্ণ কাজ হতো। সেটা না করে ছোটখাট বিদ্যুৎ কর্মীদেরকে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করার সময় হামলা করা কিংবা অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যেটা কাপুরুষোচিত কাজ হয়েছে। এমন কাজে আমরা নিন্দা জানাই। সাথে সাথে এমন নিন্দনীয় কাজের মীমাংসায় সহায়তাকারীদেরকে পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মামলায় আসামী করাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করছি। এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়