চাঁদপুর, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সফর ১৪৪৪  |   ৩২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ চেয়ারম্যানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার
  •   হাইমচরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিঁঁখোজ
  •   চাঁদপুরে চুরি হওয়া ৪২ মোবাইল উদ্ধার
  •   ফরিদগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
  •   টাকার বিনিময়ে নকল সরবরাহ করেন শিক্ষকরা!

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

আগুন বাহিনীকে নিভিয়ে দেয়া হোক

আগুন বাহিনীকে নিভিয়ে দেয়া হোক
অনলাইন ডেস্ক

ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের বিশকাটালী এলাকায় ৩১ জুলাই রোববার মাদক কারবারি দুগ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় আগুন বাহিনীর হামলায় ১০টি বসতঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে শতবর্ষী ফাতেমা বেগমসহ অন্তত ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। আর ৩টি খড়ের গাদা আগুন বাহিনী আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। মাদক কারবারি দুটি গ্রুপের মধ্যে একটি গ্রুপ ফরিদগঞ্জের এবং অপরটি পাশর্^বর্তী উপজেলা হাইমচরের। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হাইমচর এলাকার কথিত ‘আগুন বাহিনী’র লোকজন পুলিশবাহী সিএনজি অটোরিকশা ভাংচুর করে। এ ব্যাপারে অটোরিকশা চালক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে।

স্থানীয় লোকজন জানান, রোববার বিকেলে হাইমচর এলাকার ‘আগুন বাহিনী’র আল-আমিন, জয় ও আরিফের সাথে ফরিদগঞ্জ এলাকার তানজিল ও রাজনের মারামারি হয়। এর জের হিসেবে ওইদিন সন্ধ্যায় আল-আমিন ও জয়ের নেতৃত্বে আগুন বাহিনীর প্রায় শতাধিক যুবক ফরিদগঞ্জের বিশকাটালী গ্রামের বেপারী বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে কমপক্ষে ১০টি বসতঘর কুপিয়ে ভাংচুর করাসহ ৩টি খড়ের গাদা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় নারী-পুরুষ সবাই আতঙ্কে স্তব্ধ হয়ে পড়ে। ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশের সামনেই আগুন বাহিনীর লোকজন অটোরিকশাটি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। তখন পুলিশ আত্মরক্ষার্থে সরে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নেভায়। আগুন বাহিনীর হামলায় সেনাবাহিনীর এক মেজরের বসতঘরও ভাংচুরের শিকার হয়। এই মেজরের অনুরোধে ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

ফরিদগঞ্জের চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান বিএসসির বক্তব্যে আগুন বাহিনীর হামলার ভয়াবহতা আঁচ করা যায়। তিনি জানান, হামলার কারণে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোঃ শহীদ হোসেন রোববারের ঘটনা সম্পর্কে সোমবার বিকেলে জানান, মাদক কারবারি দু গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তবে হামলাকারী ও হামলার শিকার কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসির এমন বক্তব্যে সাধারণ মানুষ হতাশ। তিনি অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন, অন্যথায় ব্যবস্থা নেবেন না এমনটাই ধারণা করা যায়। যদি এ ধারণা সঠিক হয়, তাহলে হাইমচরের আগুন বাহিনীর আগুন ফায়ার সার্ভিস সাময়িক নেভাতে পারলেও পুরোপুরি নিভবে না। কারণ, এ বাহিনী পুলিশবাহী সিএনজি অটোরিকশা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়ার সাহস দেখিয়ে হিরো বনে গেছে। যদিও চালকের মামলায় পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে। আমরা মনে করি, পুলিশ এতোটুকু অ্যাকশনে থেমে গেলে চলবে না। আরো কঠোর অ্যাকশনে গিয়ে ‘আগুন বাহিনী’র শক্তির সকল উৎস গুঁড়িয়ে দিতে হবে তথা তাদের তেজের আগুন চিরতরে নিভিয়ে দিতে হবে। আমরা অতীতে ফেণী ও লক্ষ্মীপুরের মতো কোনো বিশেষ বাহিনীর উত্থান ও দোর্দণ্ড প্রতাপ চাঁদপুর জেলার কোথাও প্রত্যাশা করি না। আমরা আগুন বাহিনী দমাতে অসময়ের দশ ফোঁড় এড়াতে সময়ের এক ফোঁড়ই কেবল চাই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়