চাঁদপুর, সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯, ২৯ সফর ১৪৪৪  |   ৩২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ চেয়ারম্যানের প্রার্থিতা প্রত্যাহার
  •   হাইমচরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিঁঁখোজ
  •   চাঁদপুরে চুরি হওয়া ৪২ মোবাইল উদ্ধার
  •   ফরিদগঞ্জে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু
  •   টাকার বিনিময়ে নকল সরবরাহ করেন শিক্ষকরা!

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

উদাসীনতা আর কাকে বলে!
অনলাইন ডেস্ক

কিছু সরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা আছেন, যারা চাকুরি করেন যেনো শুধু মাসশেষে বেতন পাওয়ার আশায়। তাদের কর্মস্থলের কোনো সমস্যা, সহকর্মীর কোনো সমস্যায় তারা নাক গলাতে চান না। আবার কেউ কেউ আছেন, সরাসরি সমস্যা-সঙ্কটের মুখোমুখি হলেও একেবারে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করেন। তারা ‘চোখ বন্ধ করে প্রলয় থামানো’র প্রয়াস চালান। কিন্তু এ প্রয়াস ফলদায়ক হয় না। এক সময় সমস্যা-সঙ্কট ঘনীভূত হয়ে অনিবার্য বিস্ফোরণ ঘটায়। যে বিস্ফোরণ ব্যাপক জানাজানির সৃষ্টি করে। তখন কিন্তু উক্ত কর্মচারী/কর্মকর্তা কেউ দায় এড়াতে পারেন না।

শাহরাস্তি পৌর এলাকায় অবস্থিত বাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়টি ৭৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত। এ বিদ্যালয়ের নামে কাগজে কলমে ৩৬ শতক জমি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দখলে নেই এক শতকও। অথচ ১৯৪৮ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠাকালে পাঁচজন দাতা একটি খতিয়ানে দুটি দাগে ৩৬ শতক জমি দান করেন। প্রতিষ্ঠার পঞ্চাশ বছর পর ১৯৯৮ সালে বিদ্যালয়টির নূতন ভবন নির্মাণের জন্যে জমির প্রয়োজন হয়। তখন বাদিয়া এম হক উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিতে রেজুলেশনের মাধ্যমে নূতন ভবন নির্মাণের সুযোগ করে দেওয়া হয়। তারপর কেটে গেছে ২৪ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) কিংবা প্রধান শিক্ষকসহ অন্য কেউ খোঁজ নেয়নি বিদ্যালয়ের নামে দানকৃত মূল জমির পরিমাণ কতো এবং তার অস্তিত্ব কোথায়।

বিএস খতিয়ানে বাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে ৩২ নং বাদিয়া মৌজায় ৪ নং খতিয়ানের ১৪২ দাগে ২৮ শতক জমি স্থলভাগে ও ১৫৩ দাগে ৭ শতক জমি জলভাগে অর্থাৎ পুকুরে থাকার রেকর্ড রয়েছে। অথচ এ জমির অস্তিত্ব সুনির্দিষ্টভাবে কোথায় সেটি এসএমসির সভাপতিসহ অন্যরা, প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক, এমনকি ভূমিদাতা পরিবারের সদস্যদের কেউ বলতে পারছেন না।

বিদ্যালয়টিতে ২৪ বছর ধরে প্রধান শিক্ষক পদে কর্মরত আছেন সেলিনা আক্তার, অর্থাৎ নূতন ভবন নির্মাণকাল অথবা অব্যবহিত পর থেকে তিনি বিদ্যালয়টির প্রধান বা কর্ণধার হিসেবে দায়িত্বে অধিষ্ঠিত আছেন। তিনি অকপটে বলেন, কেউ আমাকে ৩৬ শতক জমির দখল বুঝিয়ে দেননি এবং আমার জানা নেই জমির প্রকৃত অবস্থান কোথায়। তার এমন বক্তব্যে কার্যত অতিথিসুলভ, দায়সারা ও এড়িয়ে যাবার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে, কোনোভাবেই আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতা প্রকাশ পায়নি। অবস্থা যেনো এমন : তিনি অতিথি হিসেবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের চেয়ার অলঙ্কৃত করতে এসেছেন। এ চেয়ারে বসে থেকে তিনি মাস শেষে বেতন পাবেন, বিদ্যালয়ের জমি, কাগজপত্র কোথায় আছে সেটি দেখার দায়িত্ব তার নয়। বরং দু যুগ অর্থাৎ ২৪ বছর ধরে তার দায়িত্বপালনকালে কেউ তাকে জমি, কাগজপত্র ইত্যাদি বুঝিয়ে দেননি, অতএব দায় বা দোষ সব তাদের।

বাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সেলিনা আক্তারের উদাসীনতা এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় দাতাদের দানকৃত ৩৬ শতক জমির মধ্যে এক শতক তো খোয়া গেছেই, উপরন্তু জমির অস্তিত্বও অনিরূপিত বা অনির্ণীত রয়ে গেছে-এটা বলতে এখন আর কারো দ্বিধা নেই। এজন্যে তিনি এসএমসি বা অন্য কাউকে দোষ দেবার ফুরসত নেই, যেহেতু তিনি এখানে দীর্ঘ ২৪ বছর যাবৎ একটানা কর্মরত আছেন, এতোটা দীর্ঘ সময়ে তিনি জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে স্বীয় উদ্ভাবনী শক্তি, মেধা-দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আন্তরিক প্রয়াস চালাবার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় নি। সেজন্যে এ সমস্যাটির যেনো বিস্ফোরণ ঘটেছে। যেটি নিয়ে চাঁদপুর কণ্ঠের শাহরাস্তি ব্যুরো ইনচার্জ মোঃ মঈনুল ইসলাম কাজল গতকাল একটি সংবাদ পরিবেশন করেছেন। আমাদের বিশ্বাস, সংশ্লিষ্ট সকল মহল এবার সমস্যাটির সমাধানে এগিয়ে আসবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়