চাঁদপুর, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ৩৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   নদীর বাতাসও যেন ঘুরে চলে যায় অন্য কোথাও
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া
  •   একদিনের সফরে আজ চাঁদপুর আসছেন শিক্ষামন্ত্রী
  •   চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারই এখন আইজিপি
  •   হাজীগঞ্জে মৃত বোনের চাঞ্চল্যকর ডিভোর্স জালিয়াতি

প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

তবুও জাতীয় ইলিশ উৎসবের সফল সমাপ্তি

তবুও জাতীয় ইলিশ উৎসবের সফল সমাপ্তি
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুরের ৩৯ বছর বয়সী চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন ২০০৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ‘জেগো ওঠো মাটির টানে’ স্লোগানে ১৩টি ইলিশ উৎসব সমাপ্ত করেছে স্থানীয় কিংবা জাতীয় পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরে। চলতি ২০২২ সালে এই ইলিশ উৎসবকে জাতীয় উৎসবে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং স্লোগানও পরিবর্তন করা হয়েছে। এবারকার ১৪তম জাতীয় ইলিশ উৎসব চাঁদপুর-২০২২-এর পরিবর্তিত স্লোগান ছিলো ‘জাটকা এবং মা-ইলিশের পাশে/আমরা আছি প্রতিটি নিঃশ্বাসে’। দুঃখজনক বিষয় হলো, এবার অনেক আবেদন-নিবেদন করেও কোনো স্পন্সর পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মৃদু প্রতিবন্ধকতা পাওয়া গেছে। যেমন-অতীতের ১৩টি ইলিশ উৎসবের ভেন্যু হিসেবে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন ভাড়া পেতে কেবল নির্ধারিত ফি জমা দিতে হয়েছে। তবে এবার ১৪তম জাতীয় ইলিশ উৎসব করতে গিয়ে একাডেমির সভাপতি বরাবর দরখাস্ত জমা দিতে হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্যে উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই সময়টায় আয়োজকদের অনিশ্চয়তায় ভুগে অপেক্ষার যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি চাঁদপুর পৌরসভার ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাংস্কৃতিক পক্ষের ভেন্যু একই হওয়ায় মেয়রের কাছে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যে মৌখিক অনুরোধ জানাতে হয়েছে। সে অনুরোধে মেয়র আন্তরিক সাড়া দিলেও সাংস্কৃতিক পক্ষ আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট ২-১ জনের মনঃপীড়া লক্ষ্য করা গেছে।

চতুরঙ্গের জাতীয় ইলিশ উৎসবের স্পন্সর না পাওয়ার পেছনে কারণ ছিলো রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব। স্পন্সর না পাওয়ার কষ্ট এবং ভেন্যু পাওয়ার অনুমোদনের ক্ষেত্রে অপেক্ষার যন্ত্রণার চেয়েও এবার এক প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক চতুরঙ্গের মহাসচিব ও ইলিশ উৎসবের রূপকার হারুন আল রশীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে আমন্ত্রিত অতিথিদের উৎসবে অংশগ্রহণ না করার হীন প্রয়াস ছিলো লক্ষ্যণীয়। এজন্যে হারুন আল রশীদকে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে নিজের স্বচ্ছতা ও অবস্থান পরিষ্কার করতে হয়েছে। উৎসবটি যদি জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি কর্তৃক অনুমোদিত না হতো এবং স্থানীয় জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের আনুকূল্য না পেতো তাহলে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি উৎসবটি নিয়ে হয়তো আরো খারাপ চিন্তার অবকাশ নিতেন। তারপরও তিনি ব্যক্তিগত প্রভাব বলয়ে উৎসববিরোধী প্রকাশ্য কিছু করেননি বলে আয়োজকরা তাকে ধন্যবাদ দিতে কার্পণ্য করবেন বলে মনে হয় না।

স্পন্সর না পাওয়ায় চতুরঙ্গের এক সপ্তাহের ইলিশ উৎসব এবার পাঁচদিনে সমাপ্ত হয়েছে। পর্যাপ্ত ইভেন্ট ও দেশী-বিদেশী বরেণ্য ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবং চতুরঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও শুভানুধ্যায়ীদের অর্থায়নে ১৬ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে ইলিশ উৎসবটি ২০ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতের পূর্বে সফল সমাপ্তিতে পৌঁছেছে। তিনটি আইডি থেকে ফেসবুক লাইভের কারণে দেশ-বিদেশের অসংখ্য দর্শকের কাছে উৎসবটি পৌঁছে গেছে সহজেই। অদম্য ইচ্ছা, নিরলস শ্রম, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগী কর্মী থাকলে যে ব্যয়বহুল একটি উৎসব প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও সাফল্যের বন্দরে পৌঁছতে পারে চতুরঙ্গের ১৪তম জাতীয় ইলিশ উৎসব তার প্রমাণ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়