চাঁদপুর, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪  |   ১৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় রিয়া হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •   কোস্টগার্ডের অভিযানে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনে ১৩শ’ কেজি জাটকা জব্দ
  •   ডাঃ সাজেদা পলিন নড়াইলের সিভিল সার্জন
  •   মতলবের আনন্দবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি
  •   ভাষার মাসের প্রথমদিনে বাংলায় রায় দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

মেধাবীরা আসলে কোথায় থাকে?
অনলাইন ডেস্ক

গত ১০ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন অলিম্পিয়াড শুরু হয় এবং গত ১৯ নভেম্বর সেটি শেষ হয়। এতে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রতিযোগিতা এবং ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে ইংলিশ স্পেলিং কনটেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত দুটি গ্রুপে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে, ইউনিয়ন পর্যায়ে এবং উপজেলা পর্যায়ে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়ে গত ১৯ নভেম্বর জেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় দুটি গ্রুপ বা পর্বেই হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রথম, চাঁদপুর সদর উপজেলা দ্বিতীয় ও কচুয়া উপজেলা তৃতীয় স্থান অর্জন করে। পর্যবেক্ষণকারী শিক্ষকগণ বলেন, জেলা প্রশাসন অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় অনেক বেশি পাঠ্য পুস্তক অধ্যয়নে মনোযোগী হয়েছে।

জেলা প্রশাসন অলিম্পিয়াড আয়োজনের জন্যে প্রথমত চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে হয়। একই সাথে জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বশির আহমেদসহ অন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রমণ্ডঘাম ও আন্তরিকতাসহ সংশ্লিষ্ট অন্য সকলের কথা সপ্রশংসভাবে উল্লেখ করতেই হয়।

জেলা প্রশাসন অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে চাঁদপুর জেলার আটটি উপজেলার শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত অবস্থা ফুটে উঠেছে। চাঁদপুর জেলা সদরের তথা সদর উপজেলার শিক্ষা ও শিক্ষার্থীরা যে একটু-আধটু পিছিয়ে আছে, উক্ত অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে সেটি বস্তুত প্রমাণিত হয়েছে। এতে গ্রাম ছেড়ে সন্তানদের কল্যাণে জেলা সদর অভিমুখী অভিভাবকদের কম-বেশি টনক নড়বে বলে মনে হচ্ছে।

বাস্তবে আমরা জেলা সদরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী এবং শিক্ষককে প্রায়শই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে সনদ পেতে দেখি। এমন সনদ অর্জন সব সময় তদবিরমুক্ত হয়-এটা বুকে হাত দিয়ে বলার লোক ক’জন আছে? যদি তদবিরমুক্ত মূল্যায়ন হতো, তাহলে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়েও অনুরূপ মূল্যায়ন পেতো। কিন্তু সেটা সচরাচর চাঁদপুরের ক্ষেত্রে দেখা যায় না।

নিরেট সত্য কথা হলো, মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকল পর্যায়ের মেধাবীরা কেবল জেলা সদর কিংবা সদর উপজেলায় বসবাস করে না। এরা শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের পিতার জন্মস্থান বরিশালের চাখার ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের মতো প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতেই বেশির ভাগ বসবাস করে। এর ভুরি ভুরি প্রমাণ আছে। এদের মধ্যে যারা সকল আনুকূল্য পায় কিংবা প্রবল সংগ্রামী তারাই মেধার পরিচয় তুলে ধরে, অন্যরা হারিয়ে যায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসন অলিম্পিয়াডে চাঁদপুর সদর উপজেলার চেয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থীদের দাপটে সেটি কিছুটা হলেও প্রমাণিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসন অলিম্পিয়াড আয়োজনের পেছনে জেলা প্রশাসক, তাঁর কার্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কী সেটার লিখিত রূপ আমাদের জানা না থাকলেও এটা ধারণা করা যায় যে, নিশ্চয়ই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই এবং সম্ভাব্য করণীয় নির্ধারণ করে সেটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থা অনুুধাবনের প্রয়াসে ধারাবাহিক কার্যক্রম প্রত্যাশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়