চাঁদপুর, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪  |   ১৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় রিয়া হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •   কোস্টগার্ডের অভিযানে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনে ১৩শ’ কেজি জাটকা জব্দ
  •   ডাঃ সাজেদা পলিন নড়াইলের সিভিল সার্জন
  •   মতলবের আনন্দবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি
  •   ভাষার মাসের প্রথমদিনে বাংলায় রায় দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এমন সভা কি সর্বত্র করা যায় না?
অনলাইন ডেস্ক

গত ২৬ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় মতলব (দঃ) উপজেলাধীন ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে আইন শৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মতলব থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ইকবাল হোসেন হাওলাদার এবং সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ কবির হোসেন কালু।

এ সভায় ওসি বলেন, কিশোর গ্যাং ও মাদকের সাথে যারা জড়িত তারা আমাদেরই কারো না কারো সন্তান, কারো ভাই কিংবা বন্ধু। এদেরকে সহমর্মিতা দিয়ে প্রথমত ভালো পথে আনার চেষ্টা করতে হবে। যদি এতে কাজ না হয়, তবে আইনের কঠোরতার মুখোমুখি হতে হবে। তিনি এমন সভা করে সচেতনতা সৃষ্টিসহ আরো কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে মতলবকে একটি শান্তি-শৃঙ্খলার মডেল উপজেলায় পরিণত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ইউপি চেয়ারম্যান তার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নবাসীর সেবক হয়ে সকলের সহযোগিতা নিয়ে ইভটিজিং, কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এছাড়া সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তা কিশোর গ্যাং, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ ও মাদক প্রতিরোধে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

সত্যি কথা বলতে কি, পাকিস্তান আমলে ও স্বাধীনতার অব্যবহিত পর সত্তরের দশকে বাংলাদেশে অভিজ্ঞ ওসিগণ তাদের থানার প্রতিটি ইউনিয়ন, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ বাজারসহ অন্যান্য স্থানে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সভা করতেন। সত্তরের দশকের শুরুতে চুরি-ডাকাতি অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে হাজীগঞ্জ থানার ওসি একের পর এক আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভা করে পাড়া-মহল্লা-সড়কে পুলিশ জনতা সমন্বয়ে নৈশকালীন পাহারার ব্যবস্থা করেন এবং চোর-ডাকাত প্রতিহত করেন।

সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক সারাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম চালুর পর আইন শৃৃঙ্খলা উন্নয়ন সংক্রান্ত সভার পরিমাণ অনেক বাড়ে। ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ এমন শ্লেগানে পুলিশ ও জনতা একাকার হয়ে দেশের বহু স্থানে আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটায়। এতে ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদক ক্রেতা-বিক্রেতার দৌরাত্ম্য হ্রাস সহ কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত নৈশকালীন টহল সদস্যদের কারণে চুরি-ডাকাতি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তা-ই নয়, এই কমিটির মাধ্যমে বাল্য বিয়ে রোধ, দাম্পত্য কলহ নিরসন, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিটানো সহ অনেক ভালো কাজ করাই সম্ভব হয়।

বলা দরকার, প্রতিটি ইউনিয়নেই আইন শৃঙ্খলা কমিটি রয়েছে। প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যান ইচ্ছে করলেই এ কমিটিকে চাঙ্গা ও সক্রিয় রাখা সম্ভব। পাশাপাশি ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটি থাকলে এবং সেটি কর্মমুখর হলে অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করা না গেলেও নব্বই শতাংশ নিয়ন্ত্রণ বা নির্মূল করা যায়। এজন্যে মতলবের খাদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যানের মতো থানার ওসির উপস্থিতিতে সভাসহ সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়। কথা হলো, এমন সদিচ্ছা কি প্রত্যেক ইউপি চেয়ারম্যানের আছে?

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়