চাঁদপুর, সোমবার, ৮ আগস্ট ২০২২, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯, ৯ মহররম ১৪৪৪  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ
  •   গলায় ফাঁস লাগিয়ে কিশোরের আত্মহত্যা
  •   জমি খারিজের নামে হাতিয়ে নিলেন বিপুল পরিমাণ টাকা
  •   কিশোর গ্যাং গড়ে উঠার আগেই নির্মূল করতে হবে : মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম
  •   ডিবি পুলিশের অভিযানে আন্তঃ জেলা প্রতারকচক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২১, ০০:০০

এলাকার চাহিদার প্রতি সম্মান জানাক রেলওয়ে
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর শহরের পশ্চিম-উত্তর প্রান্তের সর্বশেষ জায়গাটুকুর অবস্থান হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাঁদপুর স্টেশন তথা বড় স্টেশনের সর্ব পশ্চিমে। মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলের এ জায়গাটির এক সময়কার নাম ছিলো ঠোঁডা। বড্ড গিঞ্জি পরিবেশ ছিলো এ জায়গাটিতে। ওয়ান ইলেভেনের সময় (১/১১/২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের প্রাক ডিসেম্বর) দেশের রাজনীতিতে অবরুদ্ধতা পরিলক্ষিত হলেও বড় স্টেশন ঠোঁডায় সৃষ্টি হয় উন্মুক্ত পরিবেশ। সেনা কর্মকর্তারা এই ঠোঁডা থেকে সরিয়ে দেন তাবৎ দখলদারিত্ব। উন্মুক্ত পরিবেশে নির্মল বায়ু সেবনের মোক্ষম স্থানে পরিণত হয় এই ঠোঁডা। মেঘনার ভাঙ্গনমুখরতা ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ঠোঁডাকে বানিয়ে ফেলে মোলহেড। মোলহেড হচ্ছে নদীর ঢেউ নিবারণের জন্যে প্রকা- বাঁধের মাথা। সত্যিই সরকারের পক্ষে পাউবো বড় স্টেশন ঠোঁডার তিন দিকের চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধকে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ও সিমেন্ট-কংক্রিট (সিসি) ব্লক নিক্ষেপ করে একটি প্রকা- মাথাই বানিয়ে ফেলে। ফলস্বরূপ ভাঙ্গন রোধের কাজটি টেকসই হয়ে যায় এবং পুরো মোলহেড এলাকা হয়ে যায় অঘোষিত পর্যটন কেন্দ্র। এখানে প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের আনাগোনা বৃদ্ধি পায় অস্বাভাবিক। এ স্থানটি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন পাক হানাদার বাহিনীর বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত হওয়ায় চাঁদপুরের ষোড়শ জেলা প্রশাসক প্রিয়তোষ সাহা তার কর্মকালে (২৪-৩-২০১০ থেকে ৪-১০-২০১২) স্বীয় প্রচেষ্টায় ও চাঁদপুর পৌরসভার সহযোগিতায় এখানে নির্মাণ করেন ‘রক্তধারা’ নামের দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। আর পৌরসভা নির্মাণ করে দর্শনার্থীদের অবস্থান-উপযোগী স্থাপনা, যেমন-বসার পাকা বেঞ্চ ও টয়লেট। সাথে সাথে উচ্ছেদ করে ছোট ছোট কিছু স্থাপনা। অষ্টাদশ জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল মোলহেডকে গড়ে তোলেন ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’-এর ব্র্যান্ডিং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে।

চাঁদপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ প্রায় ছয় মাস আগে চাঁদপুরে যোগদান করে পৌরসভার সাথে সমন্বয় করে বড় স্টেশন মোলহেডকে পর্যটকবান্ধব করার উদ্যোগ নেন। তিনি এখানে প্রয়োজনীয় উচ্ছেদ অভিযান চালান, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে এখানে আসার আমন্ত্রণ জানান এবং জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা মিলে যৌথভাবে এর সম্ভাব্য উন্নয়নে মনোযোগী হন। অথচ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মোলহেডকে কেবল নিজের জায়গা দাবি করে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়াবার প্রয়াস চালায়। পাউবো কোটি কোটি টাকা খরচ করে মোলহেড না বানালে যে বড় স্টেশনের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতো অন্তত ২০বছর আগে, আজ সে মোলহেডে রেল কর্তৃপক্ষ নূতন করে স্থাপনা বানাবার পরিকল্পনা করছে বলে জানা যায়। যেটা ঝুঁকিপূর্ণ এবং স্থানীয় এলাকার তথা এলাকাবাসীর চাহিদাকে অসম্মান করার শামিল বলে মনে করছে সচেতন সকলে।

আমরা মনে করি, চাঁদপুর শহরকে সামগ্রিকভাবে সুন্দর করতে হলে চাঁদপুর স্টেশন (বড় স্টেশন) ও চাঁদপুর কোর্ট স্টেশন নামে দুটি স্টেশন থাকার প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা এখন আর নেই। বড় স্টেশন ও কোর্ট স্টেশনের মাঝামাঝি সুবিধাজনক স্থানে অথবা অন্য স্থানে দুটি স্টেশনের পরিবর্তে একটি স্টেশন গড়ে তুললে যানজট যেমন দূর হবে, তেমনি কোর্ট স্টেশনের বিলুপ্তিতে সৃষ্ট প্রশস্ত জায়গায় শহরের প্রাণকেন্দ্র হয়ে যাবে সুপরিসর ও নান্দনিক। এক্ষেত্রে বড় ছাড় দিতে রেল কর্তৃপক্ষের উদারতাই বড় প্রয়োজন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়