শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ১২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বালুবাহী ট্রাক চাপায় গাড়ির হেলপার নিহত
  •   চাঁদপুর শহরে যুবকের আত্মহত্যা
  •   ফরিদগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
  •   করোনায় মৃত্যু ২০, শনাক্ত ১৫৪৪০ জন
  •   ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

অতীতে এমনটি ছিলো বিরল

অতীতে এমনটি ছিলো বিরল
অনলাইন ডেস্ক

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর দেশে ‘ওয়ান ইলেভেন’ চলাকালে চাঁদপুর সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ইকবাল হোসেন। তিনি তৎকালীন সরকার ও প্রশাসনের আনুকূল্য পেয়ে কলেজের দখলকৃত জায়গাসমূহ উদ্ধার করেন। তিনি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন এবং সম্ভাব্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখার প্রয়াস চালান। তারপর অধ্যক্ষ পদে প্রফেসর মিহির লাল সাহা যোগদান করে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে নিরলস প্রয়াস চালান। এক্ষেত্রে তাঁর সুযোগ্য সহযোগী ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএসএম দেলওয়ার হোসেন, যিনি মিহির লাল সাহা অবসরগ্রহণ করলে অধ্যক্ষ পদে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। নীতি-নৈতিকতায় অগ্রণী, মিষ্টভাষী ও শান্ত মেজাজের ড. দেলওয়ার হোসেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সামগ্রিক উন্নয়নে নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরেও যেনো বাড়তি আত্মনিবেদন নিশ্চিত করেন। ২০২০ সালে তিনি অবসরপূর্ব ছুটিতে গেলে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ অধ্যক্ষ পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি এ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে পরম মমতায় কলেজটিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়নে মনোনিবেশ করেন। সৌভাগ্যক্রমে তিনি চাঁদপুর সদরের এমপি ডাঃ দীপু মনিকে শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পেয়ে সর্বাত্মক সরকারি আনুকূল্য লাভের সুযোগ করায়ত্ত করেন।

‘অধ্যক্ষ হিসেবে অসিত বরণ দাশের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা কতোটুকু সেটা পরিমাপের সময় এখন না হলেও করোনাকালে গরিব শিক্ষার্থী, নিম্ন বেতনভুক কর্মচারী ও কলেজের প্রতিবেশীদের প্রতি তাঁর মানবিক আচরণ স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া নীরবে কলেজ প্রাঙ্গণকে সাজাবার ব্যাপারে তাঁকে আন্তরিক দেখা গেছে। এর ফলে পূর্বের তুলনায় কলেজের আঙ্গিক ক্রমশ পরিবর্তন হয়েছে ও হচ্ছে। তিনি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে যারা ভীষণ অসুস্থ, তাদের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়াবার নজিরও স্থাপন করেছেন। দৈনিক হাজিরাভুক্ত দরিদ্র কর্মচারীর সন্তানের মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া এবং পড়াশোনা চালিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় খরচ মেটাবার দায়িত্বও কাঁধে নিয়েছেন।

গত ২৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় কচুয়া উপজেলার কড়ইয়া এলাকায় হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে বিআরটিসি বাসের চাপায় সিএনজি অটোরিকশার আরোহী হিসেবে চাঁদপুর সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র রিফাতের প্রাণ হারানোর ঘটনা জেনে অধ্যক্ষ অসিত বরণ দাশ তিনজন শিক্ষককে ঘটনাস্থলে পাঠান, শোকাহত পরিবারকে আন্তরিক সমবেদনা জানান এবং আর্থিক সহায়তা দেন। অপর আহত ছাত্র ইব্রাহিম মিয়ার খবর নিতেও হাসপাতালে শিক্ষকদের পাঠান।

অতীতে চাঁদপুর সরকারি কলেজের কোনো অধ্যক্ষকে বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশের ন্যায় এতোটা কলেজ ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনে হয়নি। তাঁরা কম-বেশি আন্তরিকতায় কলেজ ও শিক্ষার্থীদের জন্যে যতোটা কাজ করেছেন তাতে গতানুগতিকতা প্রাধান্য পেয়েছে। আর বর্তমান অধ্যক্ষ গতানুগতিকতার পাশাপাশি ব্যতিক্রম কিছু করার প্রয়াস চালাচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে। আমরা এ অধ্যক্ষের আরো কর্মস্পৃহা ও কর্মযজ্ঞ প্রত্যাশা করছি এবং তাঁর জন্যে নিরন্তর শুভ কামনা রাখছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়