শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ১৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বালুবাহী ট্রাক চাপায় গাড়ির হেলপার নিহত
  •   চাঁদপুর শহরে যুবকের আত্মহত্যা
  •   ফরিদগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
  •   করোনায় মৃত্যু ২০, শনাক্ত ১৫৪৪০ জন
  •   ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০

নিভে গেলো আরেকটি অনির্বাণ শিখা
অনলাইন ডেস্ক

বড্ড দুঃসময়ে অতিক্রম করছি আমরা। জাতির বাতিঘর বা অনির্বাণ শিখা হিসেবে যাঁরা বিবেচিত ও সকল মহলে সমাদৃত, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তাঁরা একের পর এক চিরবিদায় নিচ্ছেন। এই বিদায়ের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজিত হলেন প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম। তাঁর অনেক পরিচয়। চাঁদপুর জেলাবাসীর নিকট তাঁর সবচে’ বড় পরিচয় হচ্ছে, তিনি এ জেলার কালজয়ী এক কৃতী সন্তান।

জাতীয় অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক এবং দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা ও একুশে পদক, বাংলা একাডেমী ও নজরুল একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত দেশখ্যাত ব্যক্তিত্ব, অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা, ভাষা সংগ্রামী, দেশের প্রধান নজরুল গবেষক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম গত ৩০ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৮৭ বছর। তিনি ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশে নিতে চাইলেও তিনি তাতে সম্মত হননি। দেশে অবস্থান করেই তিনি দেশের বায়ু থেকে কষ্ট করে হলেও শেষ শ^াস প্রশ^াসটুকু গ্রহণ করেছেন এবং চিরকালের জন্যে চোখ বুঁজেছেন।

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলাধীন কলাকান্দা গ্রামে ১৯৩৪ সালের ১ জানুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বর্ণাঢ্য তাঁর শিক্ষা ও কর্মজীবন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে ¯œাতক ও ¯œাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৫৮ সালে তিনি এ বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও নজরুল গবেষণায় নিয়োজিত হন। তিনি কালক্রমে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক ও বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপকের পদ অলঙ্কৃত করেন। তিনি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য এবং বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় লিবারেল আর্টসের উপাচার্য। ২০১৮ সালে সরকার তাঁকে কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সভাপতি এবং চলতি ২০২১ সালের ১ জুন বাংলা একাডেমির সভাপতি পদে নিয়োগদান করেন। তিনি ইতিপূর্বে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক পদেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম কতোটা যোগ্যতাসম্পন্ন হলে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান ও গুরু দায়িত্ব পেতে পারেন সেটা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না। বস্তুত তিনি ছিলেন দেশ ও জাতির এক বাতিঘর। যাঁর কাছে পাওয়া যেতো যথার্থ পথনির্দেশ। তাইতো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন, আমি আমার শিক্ষক, গুরুজন ও অভিভাবককে হারালাম। বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমার এ প্রিয় শিক্ষকের উৎসাহ ও প্রেরণা আমাকে সাহস জুগিয়েছে এবং এগিয়ে যেতে শক্তি দিয়েছে।

আমরা চাঁদপুর জেলাবাসীর পক্ষে প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি, মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ দেশের জন্যে তাঁর অমূল্য অবদানকে বিবেচনা করে তাঁকে চির সুখের জান্নাত দান করুক-সে প্রার্থনা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়