শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ১২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বালুবাহী ট্রাক চাপায় গাড়ির হেলপার নিহত
  •   চাঁদপুর শহরে যুবকের আত্মহত্যা
  •   ফরিদগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
  •   করোনায় মৃত্যু ২০, শনাক্ত ১৫৪৪০ জন
  •   ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০

অজপাড়াগাঁয়ে জুট মিল উদ্বোধন প্রসঙ্গে
অনলাইন ডেস্ক

সোনালী আঁশ পাটকে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সুখবর বলতে কিছু নেই। পাট ও পাটজাত সামগ্রী রফতানি করে দেশের আয় সমৃদ্ধ করার সুযোগ নেই। পাট চাষ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার খবরও মনকে পীড়িত করে। লোকসান দিয়ে একের পর এক জুটমিলগুলো বন্ধ হবার খবরে কার না বিষণœ হয় মন। এরই মধ্যে গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠের প্রথম পৃষ্ঠায় সচিত্র খবর ছাপা হয়েছে ‘মতলবে হাসেম খান ডাইভারসিফাইড জুট মিল উদ্বোধন’। এ মিলটি মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের ঘিলাতলী সাইন বোর্ড মোড়ে অবস্থিত। এটি উদ্বোধনের জন্যে আসেননি স্থানীয় এমপি, মন্ত্রী, ডিসি, এসপি কিংবা অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি কর্তাব্যক্তি। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওয়াসিফ খান ছিলেন মিলটির উদ্বোধক এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মিলের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান খান লোকমান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, এই জুট মিল জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই অজপাড়াগাঁয়ে এমন একটি উৎপাদনশীল শিল্প তৈরি করতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি। তিনি বলেন, এই মিলের উন্নতি মানে মতলবের উন্নতি। তাই তিনি মিলটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতলব দক্ষিণের অজপাড়াগাঁয়ে জুট মিল উদ্বোধনের খবর অবশ্য অবশ্যই অনেক আনন্দের এবং আশাব্যঞ্জক বিষয়ও বটে। এ মিলটি উদ্বোধনের প্রায় দু মাস আগে গণমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ জুট মিলগুলো চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তাভাবনার খবরও আসে। এতে পাটের সোনালী দিনগুলো ফেরার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেবে-এমনটি ভাবার খুব বেশি ফুরসৎ নেই। তবে পাটকেন্দ্রিক হতাশা কিছুটা হলেও কমবে বলে ধারণা করা যায়।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পূর্বে আমাদের দেশে ছিলো ৭৫টি জুট মিল। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ প্রেসিডেন্টের এক আদেশে ব্যক্তি মালিকানাধীন, পরিত্যক্ত ও সাবেক ইস্ট পাকিসÍান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভলপমেন্ট করপোরেশনে ৭৮টি পাটকল তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনায় বিজেএমসি গঠিত হয়। ১৯৮১ সালে মিলের সংখ্যা বেড়ে হয় ৮২টি। ১৯৮২ সালের পর ৩৫টি পাটকল বিরাষ্ট্রীয়করণ, ৮টি মিলের পুঁজি প্রত্যাহার ও ১টি পাটকল একীভূত করা হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে বিশ^ব্যাংকের পাটখাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সময়ে ১১টি মিল বন্ধ, বিক্রি ও একীভূত করা হয়। ২০০২ সালে আদমজী জুট মিলস্ বন্ধ করা হয়। কালক্রমে বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীনে বর্তমানে জুট মিল আছে ৩২টি, ৫টি মিলের মামলা আদালতে বিচারাধীন। অব্যাহত লোকসানের মুখে ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে সব ক’টি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। এক বছর পর সম্প্রতি জানা গেলো, বন্ধ জুট মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সচল করতে ভাড়াভিত্তিক ইজারা দিচ্ছে সরকার। বন্ধ ২৫টির মধ্যে ১৭টি ইজারা দেয়া হবে। বিজেএমসি জানিয়েছে, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পাট ও পাটজাত দ্রব্যের রফতানি বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্যে আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে।

দেশের বন্ধ জুট মিল চালুর উদ্যোগের সময়কালে মতলব দক্ষিণ উপজেলার অজপাড়াগাঁয়ে হাসেম খান ডাইভারসিফাইড জুট মিল উদ্বোধনের খবরে শুধু চাঁদপুর জেলাবাসী নয়, দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষই আনন্দিত হবেন বলে আমরা মনে করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়