চাঁদপুর, সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৬ মহররম ১৪৪৪  |   ৩১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   মন্ত্রীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যে ‘ফুঁসছে’ আওয়ামী লীগ
  •   নিস্তেজ হচ্ছে ডলার, দর কমেছে প্রায় ৮ টাকা
  •   ১৪০০ লিটার চোরাই ডিজেলসহ আটক ১
  •   ,হাইমচরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলেজ শিক্ষকের উপর হামলা
  •   ছাত্রকে বিয়ে করা সেই শিক্ষিকা নিহত!

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২২, ০০:০০

আহব
অনলাইন ডেস্ক

অনিত্য এই সংসারে সকলেই জীবনযোদ্ধা। জীবনের বিভিন্ন স্তরে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে সমাধানের লক্ষ্যে যুদ্ধ করতে হয়। শুভ কাজে শতেক বাধার সম্মুখীন হতেই হয়। প্রাচীনকালে বীর ধর্মযোদ্ধারাই এই প্রতিকূলতার সন্তোষজনক সমাধান করতো। এক্ষেত্রে হয়তো শহিদ নতুবা গাজী হতো। বদরের যুদ্ধে শহিদ বীর আমীর হামজালার বীরত্ব এতোই উল্লেখযোগ্য ছিলো যে, স্বয়ং নবীজিও অশেষভাবে ব্যথিত হয়েছিলেন।

স্বরযোদ্ধা হিসেবে যারা বিপুল খ্যাতি অর্জন করে শ্রোতার হৃদয়ে অমোচনীয়ভাবে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে মান্না দে, হেমন্ত মুখপাধ্যায়, লতা মুঙ্গেশকর, সন্ধ্যা মুখপাধ্যায়, আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, পূর্ণদাশ বাউল, আব্দুল আলীম প্রমুখ।

শব্দচয়ন যোদ্ধার আবেগ আর সুরের মূর্ছনা যখন দ্রবীভূত হয়ে এক অজ্ঞাত অনুভূতির প্রস্রবনে ধাবিত হয় তখন মানুষ নিজেকে হারায়ে ফেলে। সেই যোদ্ধারা হলেন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার এবং শাহিদ লুধিয়ান ভী প্রমুখ। প্রবাদ প্রতিম শব্দচয়ন যোদ্ধার অমর কীর্তি মনোমুগ্ধকর বটে।

শব্দযোদ্ধা এমআর আক্তার খান মুকুলের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানে বাচনভঙ্গিতে যথাস্থানে যথোপযুক্ত শব্দচয়ন করে মুক্তিযোদ্ধাদেরকে এমনভাবে উদ্বেলিত করতেন, পরিকল্পনায় সামান্যতম ক্রটি-বিচ্যুতিতে মৃত্যু অনিবার্য জেনেও সঠিক নিশানায় পরিকল্পনা অত্যন্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধকে অভাবনীয় অল্প পরিসরে নিয়ে আনাটা সম্ভব করেছেন।

বাংলার অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অগ্নিস্ফুলিঙ্গের ন্যায় শব্দচয়নে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক অবিশ্বাস্য সাফল্য অর্জন করেছেন। যেমন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের নি- িদ্র প্রতিরক্ষা ব্যুহকে ছেদ করে তাকে পরলোকে প্রেরণ করেছেন।

উদ্দীপক যোদ্ধার উদ্দীপনামূলক সঙ্গীত যেভাবে ব্রিটিশমুক্ত ভারত গড়তে বাংলার যুবকদের অপরিমিত শক্তি জুগিয়েছিলো, তন্মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামণ্ডই অদ্বিতীয়। বাংলার দামাল ছেলেদের রক্তে যে উত্তপ্ত ঢেউ সৃষ্টি করেছিলো তা হলো “চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল, নি¤েœ উতলা ধরণীতল”। এই সদৃশ্য অগণিত গণসঙ্গীত ভারতবাসীর রক্তে এমন এক অপ্রতিরোধ্য শক্তির সঞ্চার করেছিলো, যা অচিরেই ব্রিটিশমুক্ত ভারত গড়তে সাহায্য করেছিলো। যেমন : ‘বিদ্রোহী’ কবিতাখানা।

অনুপ্রেরণা জাগানো যোদ্ধা/কলমযোদ্ধার মধ্যে অন্যতম আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, এমআর আক্তার মুকুল এবং বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক প্রমুখ। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত মোক্ষম সময় পর্যন্ত যাঁদের লেখনি অবিরাম গতিতে ক্লান্তিহীনভাবে ১৯৭১-এর স্বাধিকার আন্দোলন পর্যন্ত অমূল্য প্রেরণা জুগিয়েছিলো। আঃ গাফ্ফার চৌধুরীর সেই পংক্তি “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি!” যতোদিন এই মহীতে ভানুর উদয় অস্ত হবে, যতোদিন পাখিদের নীড়ে ফেরার কল-কাকলী থাকবে, যতোদিন বাংলা ভাষা বেঁচে থাকবে ততোদিন সেই কালজয়ী চির অমর গানের স্বরলিপিও বেঁচে থাকবে। আর সেই অনুপ্রেরকও যেথায় বাংলা ভাষা-ভাষীর আস্তানা সেথায় প্রাণে প্রাণে চির অম্লান অমর থাকবেন।

প্রতিবাদী কণ্ঠযোদ্ধা শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, বঙ্গবীর আব্দুল কাদের ছিদ্দিকী, এম. আর. আকতার মুকুল প্রমুখের উক্তি এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলো কালক্রমে বাস্তবতায় রূপান্তরিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একমাত্র প্রবাসী প্রতিবাদী কণ্ঠ এম. আর. আকতার মুকুলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আব্দুল গাফ্ফার সাহেব ‘বাংলার ডাক’ নামে একখানা পত্রিকা প্রবাসে মুদ্রণ করে বাংলায় ঘটে যাওয়া নারকীয় কদর্য ঘটনা বিশ্ববাসীর নজরে আনেন।

মানবতাবাদী কালজয়ী যোদ্ধা, লেখক ও গায়ক স্বয়ং ভুপেন হাজারীকা “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না”! আর “শরৎ বাবু, খোলা চিঠি দিলাম তোমার কাছে।” এটা প্রত্যক্ষ মানবতাবাদীর উপমা নয় কি?

বিপ্লবী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তার ক্ষুরধার লেখনীতে যে সকল বিদেশী ভাষা এবং বাংলা ভাষার যেসব উত্তোজক শব্দ ব্যবহার করেছেন তা অবশ্যই বিপ্লবী চেতনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।

আবার মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর Captive Lad-তে প্রচার ও প্রসার না পেয়ে ইংরেজির অলংকার ‘সনেট’কে বাংলায় এমনভাবে অমিত্রাক্ষর ছন্দে তথা চতুর্দশপদী ছন্দে রূপায়িত করে যে বিস্ময়কর ভাষাগত বিপ্লব এনে দিলেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।

সংস্কৃতিযোদ্ধারা দেশীয় সংস্কৃতির ব্যাকরণ। যেমন এক সময় এদেশে সপরিবারে কোন সিনেমা বা নাটক দেখা যেত না। কিন্তু সুচিত্রা-উত্তম জুটি এমন মানসম্মত নাটক জাতিকে উপহার দিয়েছিল, যা সংস্কৃতি বিচারে প্রশংসার যোগ্য।

বিমল কান্তি দাশ : কবি ও লেখক; অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক, বলাখাল যোগেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয় ও কারিগরি কলেজ, হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়