চাঁদপুর, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ৩৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   নদীর বাতাসও যেন ঘুরে চলে যায় অন্য কোথাও
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া
  •   একদিনের সফরে আজ চাঁদপুর আসছেন শিক্ষামন্ত্রী
  •   চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারই এখন আইজিপি
  •   হাজীগঞ্জে মৃত বোনের চাঞ্চল্যকর ডিভোর্স জালিয়াতি

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রাথমিক শিক্ষার অর্জন এবং চ্যালেঞ্জ
অনলাইন ডেস্ক

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর আগমনী সুরে বাঙালির হৃদয় যখন আনন্দে উদ্বেলিত, ঠিক তখনই ভয়াবহ করোনার থাবা এসে ছোবল মারে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু মহামারী করোনাও বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। থেমে যাবার জন্যে বাঙালি জাতির জন্ম হয়নি। কারণ যাঁর হাত ধরে শুরু হয়েছিলো এই বাঙালি জাতির পথচলা, তিনি আমাদের শিখিয়ে গেছেন মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র। তিনি হচ্ছেন সেই দীপ্তিমান পুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-আমাদের সকল প্রেরণার উৎস। বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, একটি দেশের মূল ভিত্তি হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা। তাই তো তিনি প্রাথমিক শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দান করেছেন। সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১৯৭৩ সালে একযোগে জাতীয়করণ করার মাধ্যমে তিনি যে সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন তা সত্যিই বিরল। বঙ্গবন্ধুর আজন্ম লালিত স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার দীপ্ত শপথ নিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিলো প্রাথমিক শিক্ষার স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আজ তা পরিপূর্ণতা লাভের পথে।

প্রাথমিক শিক্ষা কী?

জীবনের প্রারম্ভে একটি শিশু যে শিক্ষার মাধ্যমে তার শিক্ষাজীবন শুরু করে তা-ই তার প্রাথমিক শিক্ষা। বাংলাদেশে শিশুর ৫ বছর বয়স থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় এবং ৬+ থেকে ১০+ প্রতিটি শিশুর জন্যে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুরা সর্বমোট ১২টি বিষয়ের ওপর শিক্ষা লাভ করে। বিষয়গুলো হচ্ছে : বাংলা, গণিত, ইংরেজি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, প্রাথমিক বিজ্ঞান, ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা, হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, খ্রিস্টধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, বৌদ্ধধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, সঙ্গীত, শারীরিক শিক্ষা এবং চারু ও কারু। এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি শিশুরা বিভিন্ন সহ-শিক্ষাক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। যেমন : খেলাধুলা, বিতর্ক, কুইজ প্রতিযোগিতা, কবিতা আবৃত্তি, ছবি আঁকা ইত্যাদি। এছাড়াও তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্যে রয়েছে কাবিং কার্যক্রম। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্মবোধে, বিজ্ঞানমনস্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্যে ১৩টি উদ্দেশ্য এবং ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের চাহিদা অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা ১৮৯টি, শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী প্রান্তিক যোগ্যতা ১৭৯০টি এবং শিখনফল ৩৩৯০টি-প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী অর্জন করবে বলে আশা করা যায়।

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাস

ব্রিটিশ আমল : প্রাচীনকালে এবং মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক মতবাদে প্রভাবিত ছিলো। সাধারণ মানুষ এ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন ছিলো। বর্তমানে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয় উইলিয়াম অ্যাডাম নামে একজন ব্রিটিশের মাধ্যমে। তিনি কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য :

* জেলাভিত্তিক শিক্ষা-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ।

* নিজ মাতৃভাষায় পাঠ্যপুস্তকের প্রচলন।

* শিক্ষা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতি জেলায় ইন্সপেক্টর নিয়োগ।

* শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ।

* প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে বৃত্তির প্রচলন।

লর্ড কার্জন ১৯১০ সালে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্যে আইন পরিষদে একটি বিল উত্থাপন করেন। তবে বিলটি খারিজ হয়ে যায়। এর পরিবর্তে পৌর এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার একটি বিল পাস হয়। ১৯৩০ সালে বেঙ্গল (পল্লী এলাকা) প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়েছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শিক্ষা উন্নয়নের জন্যে সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্টে (১৯৪৪ সালে প্রকাশিত) শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেয়া হয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলে সার্জেন্ট কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন হয়ে যায়।

পাকিস্তান আমল : ভারত বিভক্তির পর, সার্বজনীন বাধ্যতামূলক এবং বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষার জন্যে একটি রেজ্যুলেশন জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনে (১৯৫৭) উপস্থাপন করা হয়। ১৯৫৭ সালে সরকার জেলা স্কুল বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসনিক, নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপর ন্যস্ত করে। সাবেক জেলা স্কুল ইন্সপেক্টরগণ জেলা প্রশাসকদের অধীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ১৯৫১ সালে বেঙ্গল (পল্লী এলাকায়) প্রাথমিক শিক্ষা আইন সংশোধন করা হয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার জন্যে সরকার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থাগ্রহণ করে। নির্বাচিত ইউনিয়নের ৫,০০০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করা হয় ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ পরিচালনা করার জন্যে। বাকিগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা ‘বাধ্যতামূলক’ করা হয়নি। ১৯৫১ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা ৪ বছর মেয়াদী কোর্স ছিলো। ১৯৫২ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৫ বছর মেয়াদী কোর্স করা হয়।

‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ পরিচালনাকারী এবং ‘অ-বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা’ পরিচালনাকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে বিভাজন তৈরি করা হয়। অতঃপর সরকার ১৯৫৭ সালে ৫,০০০টি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা পরিচালনা বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নামকরণ করে। বাকিগুলো ‘অ-মডেল’ প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে পরিচালিত হয়। মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ অ-মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন ও তত্ত্বাবধান করতে পারতেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগকে গুরুত্ব দেয়া হয়। ১৯৫৯ সালে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়। উক্ত শিক্ষা কমিশন পরবর্তী ১৫ বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাকে ৮ বছর মেয়াদী কোর্সে উন্নীত করার সুপারিশ করে এবং বয়সের ভিত্তিতে উদার প্রমোশন পদ্ধতি প্রবর্তনেরও সুপারিশ করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়, প্রাথমিক শিক্ষা উপ-খাতের উন্নয়নে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়, যাতে বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষার্থী বৃদ্ধি করা হয়।

বাংলাদেশ আমল : ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন সংবিধানে প্রাথমিক শিক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিধানগুলো হলো :

ক) একটি অভিন্ন, জনসম্পৃক্ত ও সার্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা এবং সব ছেলেমেয়ের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, যা আইন দ্বারা নির্ণয় করা যেতে পারে।

খ) শিক্ষাকে সমাজের চাহিদার সাথে সংযোগ করা ও সমাজের ওই সব চাহিদা পূরণে সক্ষম প্রশিক্ষিত এবং প্রণোদিত নাগরিক তৈরি করা এবং

গ) একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিরক্ষরতা দূর করা আইন দ্বারা নির্ধারণ করা যেতে পারে।

সরকার জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষাকে স্বীকার করে এবং শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, যা বাংলাদেশে একটি নতুন যুগের সূচনা করে। স্বাধীনতার সূর্যোদয়ের পর থেকে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে পুনর্জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। তারই আলোকে স্বাধীনতার পর পরই শিক্ষাব্যবস্থা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিলো। প্রতিবেশী দেশগুলোর শিক্ষা পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করার জন্যে এর উদ্দেশ্য, কৌশল এবং কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে সুপারিশ করার জন্যে ১৯৭২ সালে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।

মুজিববর্ষে প্রাথমিক শিক্ষা : ২০২০ খ্রিস্টাব্দ মুজিববর্ষ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। মুজিবর্ষকে ঘিরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিরক্ষরতামুক্তসহ মোট ১৭টি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলো। এসব কর্মপরিকল্পনার মধ্যে ছিলো ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা শোনা, বলা, পড়া ও লেখায় শতভাগ দক্ষ করে তোলা, উপানুষ্ঠানিক ব্যুরোর মাধ্যমে দেশের ২১ লাখ নিরক্ষর মানুষকে সাক্ষরতা দান করা, ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ অক্টোবর প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে ঢাকায় সমাবেশের আয়োজন করা।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বেশ কিছু কার্যক্রম জোরালোভাবে শুরু করা হয়েছিলো। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীকে ২০২০ খ্রিস্টাব্দের ৩১ আগস্টের মধ্যে বাংলা বিষয়ে দক্ষ করে তোলা নিশ্চিত করা। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলায় শতভাগ দক্ষতা অর্জনের প্রয়াস নেয়া হয়েছিলো গুরুত্ব সহকারে। আশা করা হয়েছিলো মুজিববর্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিশু তার বাংলা পাঠ্যবই ও সমমানের সম্পূরক পঠনসামগ্রী সাবলীলভাবে পড়তে পারবে। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছিলো। মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরিবীক্ষণও করছিলো। এর মধ্যেই আমরা বৈশ্বিক মহামারি করোনার কবলে আক্রান্ত হই। ফলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়ে।

ইতোমধ্যে আমরা অনেকটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি। করোনাকালে বিদ্যালয়, স্থানীয়, উপজেলা বা জেলাভিত্তিক অনলাইন স্কুল কার্যক্রম চালু হয়েছে। সংসদ বাংলাদেশ টিভিতে কোমলমতি শিশুদের জন্যে শ্রেণিকার্যক্রম চালু ছিলো। বাংলাদেশ বেতারের মাধ্যমে ‘ঘরে বসে শিখি’ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছিলো। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্যে উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও চলমান ছিলো। তাই মহামারী করোনার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও আমরা আবার আস্তে আস্তে মূলধারায় ফিরে যেতে সক্ষম হচ্ছি।

২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ অর্জনে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর। এর অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার ন্যায্যতা ও একীভূততা অর্জনের পাশাপাশি জীবনব্যাপি শিক্ষা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। মহমারি করোনা আমাদের সাময়িকভাবে একটু বাধাগ্রস্ত করলেও আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছি। ভবিষ্যতে আমরা জাতিকে আরও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা দিতে পারবো এই হোক আমাদের প্রত্যাশা। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাথমিক শিক্ষা বাংলাদেশকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে-মুজিববর্ষে এই ছিলো আমাদের দৃঢ়প্রত্যয়।

মুহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন : সহকারী শিক্ষক, বিষ্ণুদী আজিমিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালতলা, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়