রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ৮ মাঘ ১৪২৮  |   ২৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুরে করোনা উপসর্গে এক নারীর মৃত্যু
  •   হাইমচরে মৎস্য ব্যবসায়ীর মৃত্যু নিয়ে দুম্র্রজাল
  •   ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে কামাল হোটেল মালিক আটক
  •   হাজীগঞ্জে হামিদিয়া জুট মিলে দেয়াল চাপায় শ্রমিক নিহত
  •   হাইমচরে বিষপানে গৃহবধূর আত্মহত্যা : পরিবারের দাবী হত্যা

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০০:০০

৩ ডিসেম্বর বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস
মাওলানা এসএম আনওয়ারুল করীম

প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। তারা দেশ ও রাষ্ট্রের সম্পদ। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ। তারাও এ সমাজের অংশ। এ উপলব্ধিই পারে সবার মাঝ থেকে বৈষম্যের প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিতে। মহান আল্লাহর যতো সৃষ্টি মানুষ তার মধ্যে সেরা জীব। ক্ষণিকের এই পৃথিবী যতো না সুন্দর তার চেয়ে মানুষ বেশি সুন্দর। আদি পিতা হজরত আদম (আঃ)-এর সন্তান হিসেবে সবাই সমান। ভাষা-জাতি, ধর্ম-বর্ণ-গোত্র হিসেবে ভেদাভেদ থাকলেও সবাই একই মায়ের সন্তান। হাতের পাঁচটি আঙ্গুল যেমন সমান হয় না তেমনি আল্লাহর সৃষ্টি মানুষও এক হবে না। কাউকে আল্লাহ বিশেষ শারীরিক ও মানসিক দক্ষতা এবং ক্ষমতা দান করেছেন। আবার কাউকে অক্ষম, প্রতিবন্ধী বা শারীরিকভাবে বিকলাঙ্গ করে সৃষ্টি করেছেন। এটি আল্লাহর দেয়া বড় নিয়ামত। ইসলাম এই প্রতিবন্ধীদের বিশেষ মর্যাদা দান করেছে। মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সাঃ) প্রতিবন্ধীদের খুব ভালোবাসতেন। শুধু তা-ই নয়, বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তাদেরকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এমনকি তাদের সাথে সুন্দর আচরণ করা, সহানভূতি দেখানো, বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং খোঁজখবর নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন। যার প্রতিদান হিসেবে দুনিয়াবি কল্যাণ ও আখিরাতে জান্নাতের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধীরা সমাজের স্বাভাবিক মানুষের সাথে একই ছাতার নিচে বসবাস করেন। তাদের রয়েছে নানা প্রকৃতি ও ধরণ। প্রতিবন্ধীদের সাধারণত চার ভাগে ভাগ করা যায় : মানসিক বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী (গবহঃধষষু যধহফরপধঢ়ঢ়বফ), শারীরিক প্রতিবন্ধী (চযুংরপধষষু যধহফরপধঢ়ঢ়বফ), দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী (ঠরংঁধষষু রসঢ়ধরৎবফ), শ্রবণ বা বাক্প্রতিবন্ধী (ঐবধৎরহম রসঢ়ধরৎবফ)।

ইসলামে প্রতিবন্ধীদের মর্যাদা

মহান আল্লাহর নাজিলকৃত মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে সরাসরি প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে কোনো আয়াত নাজিল না হলেও বিভিন্ন আয়াতে প্রতিবন্ধীদের নানা প্রতিবন্ধকতা যেমন : অন্ধ, বোবা, বধির, খঞ্জ, মূক ইত্যাদির কথা উল্লেখ করেছেন।

মানুষকে প্রতিবন্ধী করে সৃষ্টির কারণ : মানুষকে আল্লাহ প্রতিবন্ধী করার পেছনে অনেক কারণই বিদ্যমান। বান্দা যেনো আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে জানতে পারে এবং বুঝতে পারে তিনি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান। তিনি সুন্দরও করেন আবার তার ব্যতিক্রমও করতে পারেন। প্রতিবন্ধী তার একটি নমুনা মাত্র। যেমন : আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ মানুষের প্রতি কোনো অনুগ্রহ করলে তার কোনো নিবারণকারী নেই, আর তিনি কিছু নিরুদ্ধ করতে চাইলে তার কোনো উন্মুক্তকারী নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়’ (সূর ফাতের : ২)। তবে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা মানুষকে প্রতিবন্ধী করেই ছেড়ে দেননি। তাদের সমাজে চলার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও তৈরি করে দিয়েছেন। তাদেরকে সমাজে চলার মতো সম্মানও দেখিয়েছেন কুরআন-হাদিসে। যেমন : আল্লাহ অপর এক আয়াতে বলেন, ‘অন্ধের জন্য কোনো অপরাধ নেই, খঞ্জের জন্য কোনো অপরাধ নেই এবং পীড়িতদের জন্য কোনো অপরাধ নেই’ (সূরা নূর : ৬১)।

প্রতিবন্ধীদের সুন্দর নামে ডাকা ও উত্তম ব্যবহার করা : কুরআনে প্রতিবন্ধীদের উপহাস না করা উত্তম ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবন্ধী বা অসহায়, দুস্থ, দুর্বল মানুষ যারা সমাজে বসবাস করে তাদেরকে সম্মান শ্রদ্ধা করতে বলেছেন। তাদেরকে সুন্দর নামেও ডাকতে বলেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেনো কোনো পুরুষকে উপহাস না করে; কারণ হতে পারে যাকে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম এবং কোনো নারীও যেনো কোনো নারীকে উপহাস না করে; হতে পারে যাকে নিয়ে উপহাস করা হয় সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম। তোমরা একে অপরকে দোষারোপ করো না এবং মন্দ নামে ডেকো না’ (সূরা হুজরাত : ১১)।

প্রতিবন্ধীদের সেবায় খলিফা উমরের দৃষ্টান্ত : মুসলিম সা¤্রাজের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রাঃ)ও তার খেলাফতকালে দুর্বল ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন লোকদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রেখেছেন। যেমন : তিনি রাতের আঁধারে অসহায়, মিসকিনদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতেন ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। ইমাম ইবনে বাসির (রহঃ) তার আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে উল্লেখ করেন, একদিন তালহা বিন উবাউদুল্লাহ (রাঃ) উমর (রাঃ)কে দেখতে পেলেন তিনি রাতের আঁধারে একটি ঘরে প্রবেশ করেছেন। সকালে তিনি সে ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন, সে এক বৃদ্ধা নারী, যে ছিলো অন্ধ ও বিকলাঙ্গ। তিনি বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এই ব্যক্তি রাতের বেলা আপনার আপন ঘরে এসে কী করেন? বৃদ্ধা উত্তর দিলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমার দেখাশোনা করেন, আমার প্রয়োজনীয় কাজ করে দেন; আমার ঘর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দেন (ইবনে কাসির-৭/১৫২)।

প্রতিবন্ধীদের জন্যে রাসূল (সাঃ)-এর সুসংবাদ : অসুস্থদের মর্যাদা যেমন দিয়েছেন রাসূল (সাঃ), তেমনি একজন মৃগীরোগীর ব্যাপারেও জান্নাতের সুসংবাদ দেন। আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহঃ) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল (সাঃ) তাকে বলেছেন, তুমি কি জান্নাতি নারী দেখতে চাও? আমি বললাম হ্যাঁ, তখন তিনি বললেন, এই কালো বর্ণের নারী। নবী (সাঃ) বললেন, সে মৃগীরোগে আক্রান্ত। সে বললো, আমার সতর খুলে যাওয়ার আশঙ্কা হয়। তাই আপনি আমার জন্যে দোয়া করেন। তখন রাসূল (সাঃ) বলেন, তুমি যদি ধৈর্য ধারণ করো তবে বিনিময়ে জান্নাত পাবে, আর যদি তুমি সুস্থতা চাও তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করবো। উত্তরে নারী বললো, আমি ধৈর্য ধারণ করবো, আপনি শুধু আমার সতর যাতে না খুলে যায় তার জন্যে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন। তখন নবী (সাঃ) দোয়া করলেন। (বুখারি-৭/১১৬, ৩৬৫)।

প্রতিবন্ধী হয়েও সেরা মুয়াজ্জিন বেলাল (রাঃ) : অনেক জুলুম-নির্যাতন সত্ত্বেও ঈমানের পথে অবিচল থাকা এক মর্যাদাবান সাহাবি হযরত বেলাল (রাঃ)। রাসূল (সাঃ) যাকে খুব ভালোবাসতেন, মদিনার সব মানুষের কাছে যার আজান ছিলো সবচেয়ে প্রিয়। বেলাল (রাঃ)-এর আজানের সুর ভেসে এলেই নারী-পুরুষ শিশু-কিশোর সবাই মসজিদে নববীর দিকে ছুটে আসতো। মদিনার রাত পোহাতো এই বেলালের আজানের সুরে। অথচ তিনি ছিলেন একজন প্রতিবন্ধী সাহাবি। তার জিহ্বা ছিলো একটু খাটো। তাছাড়া কথা বলার সময় কিছুটা জড়তা অনুভব হতো। এমনকি আজানের মধ্যে তা ফুটে উঠতো। তা সত্ত্বেও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাকে মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন।

মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় প্রতিবন্ধী এক সাহাবির নাম আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ)। আল-কুরআনে যার ব্যাপারে আল্লাহ সরাসরি আয়াত নাজিল করেছেন। এমনকি রাসূল (সাঃ) বিদায় হজ ও যুদ্ধে যাওয়ার সময় তাকে মসজিদে নববীর ইমাম এবং তাকে খলিফা হিসেবে তার স্থলাভিষিক্ত করে গেছেন। এক-দুবার নয়, বরং মোট ১৩ বার তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি অন্ধ হয়েও কুরআনের হাফেজ ছিলেন। তিনি ছিলেন সুমধুর কণ্ঠের অধিকারী। যে কারণে রাসূল (সাঃ) তাকেও মসজিদে নববীর মুয়াজ্জিন হিসেবে নিযুক্ত করেন। বেলাল (রাঃ) আজান দিতেন আর ওম্মে মাখতুম (রাঃ) ইকামত দিতেন। রমজান মাসে তিনি সাহরির আজান দিতেন এবং বেলাল (রাঃ) ফজরের আজান দিতেন।

প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে অনেক মর্যাদা দিয়েছেন। তাকে কেন্দ্র করে সূরা আবাসা নাজিল করেছেন। তিনি দুনিয়াতে থাকতেই তার চোখ দুটি জান্নাতে চলে গেছে। তিনি অন্ধ হওয়া সত্ত্বেও পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতের সাথে আদায় করেছেন। যুদ্ধের ময়দানে তিনি ইসলামের পতাকা সমুন্নত রেখে শাহাদাত বরণ করেছেন। কাজেই প্রতিবন্ধীদের সাথে উত্তম আচরণ করা, তাদেরকে মর্যাদার আসনে বসানো, তাদের দেখে ভ্রু কুঞ্চিত না করা এবং ভালো ব্যবহার করা আমাদের জন্য আবশ্যক।

খোঁড়া হয়েও গভর্নর হলেন আমর ইবনুল জামুহ (রাঃ) : রাসূল (সাঃ)-এর একজন প্রিয় সাহাবি ছিলেন এই আমর ইবনুল জামুহ (রাঃ)। রাসূল (সাঃ) তাকে বনু সালামা গোত্রের প্রধান করেন। খোঁড়া হওয়া সত্ত্বেও খুব বীরত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন আমর (রাঃ)। তিনি ছিলেন সততা ও সাহসিকতার বিরল দৃষ্টান্ত। তিনি এত দরিদ্র ছিলেন যে, রাষ্ট্রের দরিদ্র মানুষের তালিকায় তিনি ছিলেন অন্যতম। এতো কিছু সত্ত্বেও তার সততা, নৈতিকতা ও রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা ওমর (রাঃ)সহ সবাইকে মুগ্ধ করে।

প্রতিবন্ধীদের প্রতি ওমর (রাঃ)-এর উত্তম ব্যবহার : মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) প্রতিবন্ধীদের সাথে মেহমানদারির কথা বলেছেন। তাদের খাবার খাওয়ানো ও হৃদ্যতামূলক আচরণ এবং তাদেরকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিতে বেশ উৎসাহিত করেছেন। প্রতিবন্ধী দেখলে সাধারণত মানুষ এড়িয়ে চলে। তাদেরকে দয়া ও করুণার পাত্র হিসেবে মনে করে। এমনকি তাদের পাশে বসা এবং একসাথে খাওয়া দাওয়া করাকেও অপছন্দ করে। জাহেলি যুগের মতো এই সমাজেও এ রকম অনেক মানুষ আছে। অথচ খলিফা ওমর (রাঃ) তাদের পাশে বসে খেতেন। তেমনি এক দৃষ্টান্ত আমর বিন তুফাউল (রাঃ)। ইয়ামামার যুদ্ধে তার একটি হাত কাটা পড়ে যায়। একদিন ওমর (রাঃ) তার মজলিশে কিছু মেহমানের জন্য খাবার পেশ করেন। যেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি খাবারের পরিবেশ দেখে উঠে চলে যাওয়ার জন্য তৈরি হলেন। তখন ওমর (রাঃ) বলেন, আমর তুমি কোথায় যাও। তখন তিনি বলেন, এখানে আমাকে বেমানান দেখায়। ওমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম তুমি না খাওয়া পর্যন্ত আমি খাবার খাবো না। দুনিয়াতে থাকতেই যার একটি হাত জান্নাতে চলে গেছে তাকে বাদ দিয়ে আমি কেমন করে খাই? এটাই ছিল প্রতিবন্ধীদের প্রতি ওমর (রাঃ)-এর উত্তম ব্যবহার। এ ছাড়াও অনেক প্রতিবন্ধী সাহাবিকে রাসূল (সাঃ) সম্মানিত করেছেন। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রাঃ) পঙ্গু ছিলেন। তাকে রাসূল (সাঃ) ইয়েমেনের গভর্নর নিযুক্ত করেন। আবদুুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) শেষ জীবনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। তারপরও তিনি কুরআনের শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার ও সমকালের শ্রেষ্ঠ হাদিস বিশারদের মর্যাদা লাভ করেন। শ্রেষ্ঠ তাবেয়িদের অন্যতম আতা (রহঃ) ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ, অন্ধ ও বোঁচা নাকের অধিকারী। তারপরও তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত।

প্রতিবন্ধীর অনেক গুনাহ মাফ : হাদিসের আলোকে জানা যায়, আল্লাহ তায়ালা তিন শ্রেণীর লোকের গুনাহ মাফ করে দেন, এর মধ্যে আছে যারা শিশু-কিশোর, বালেগ বা জ্ঞানবান না হওয়া পর্যন্ত, পাগল সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত, আর ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত না হওয়া পর্যন্ত যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায় আল্লাহ তাকে মাফ করে দেন; এটা তাদের বিশেষ মর্যাদা।

প্রতিবন্ধীদের জন্য করণীয় : প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়। তারা আমাদেরই অংশ। কাজেই তাদেরকে বিভিন্নভাবে কাজে লাগাতে হবে। তাদেরকে উন্নতমানের শিক্ষা দেয়া, খাদ্য ও নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা, তাদের সাথে বসে ও হাসিমুখে কথা বলা, সাধ্যানুযায়ী দায়িত্ব অর্পণ করা, সহজে নামাজ আদায়ের সুযোগ করে দেয়া। বয়সমতো চিকিৎসাসেবা দেয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ব্যক্তির পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরো সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবন্ধীদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। সব প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় নিয়ে আসা। এছাড়াও সমাজের দানবীর ও বিত্তবান লোকেরা তাদের সাধ্যানুযায়ী এলাকাভিত্তিক প্রতিবন্ধীদের দায়িত্ব নিয়ে তাদের প্রতিপালন করলে প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।

লেখক : মুহাদ্দিস, গবেষক ও প্রাবন্ধিক; খতিব, হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ) জামে মসজিদ, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়