শনিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮  |   ২২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বালুবাহী ট্রাক চাপায় গাড়ির হেলপার নিহত
  •   চাঁদপুর শহরে যুবকের আত্মহত্যা
  •   ফরিদগঞ্জে ৪ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
  •   করোনায় মৃত্যু ২০, শনাক্ত ১৫৪৪০ জন
  •   ফরিদগঞ্জে আগুনে পুড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:৫৮

চাঁদপুরে জেলা বিএনপির সমাবেশ জনসমূদ্রে পরিণত

দেশের জনগণ খালেদা জিয়ার পূর্ণ মুক্তি চায় : ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন

দেশের জনগণ খালেদা জিয়ার পূর্ণ মুক্তি চায় : ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
মিজানুর রহমান

আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে কেবল বাংলাদেশের জনগণই নয়, বিশ্ব সোচ্চার হয়েছে। বেশিদিন টিকতে পারবে না। যার যার অবস্থান থেকে প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, বিদেশে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আইন কোনো বাধা নয়,বাধা হচ্ছে সরকার। সাজা মওকুফ সরকারের যে নির্বাহী আদেশে হয়েছে, সেই নির্বাহী আদেশ সংশোধন করলেই সমস্যার সমাধান হয়। বেগম খালেদা জিয়ার পূর্ণ মুক্তি দাবি করেন দলটির সিনিয়র এই নেতা।

বুধবার (১২ই জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুর শহরের জেএম সেনগুপ্ত সড়কের মনিরা ভবন প্রাঙ্গনে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে চাঁদপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত বিশাল জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খন্দকার মোশাররফ বলেন, আজকে বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালে দুরারোগ্য রোগে ভুগছেন। চিকিৎসকরা বলে দিয়েছেন তার চিকিৎসা বাংলাদেশে নাই। বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি করেছে। বেগম খালেদা জিয়াকে যে প্রশাসনিক অর্ডারের মাধ্যমে সাময়িক সাজা মওকুফ করা হয়েছে। সেই ধারার মধ্যে আছে মওকুফ শর্তহীন অথবা শর্ত যুক্তভাবে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ যে শর্ত দিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশে যেতে না পারে। আমাদের দাবি সেই শর্তযুক্ত সংশোধন করে শর্তহীন করে দিলেই আমাদের নেত্রী বিদেশে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারে কিন্তু এ সরকার স্বৈরাচারী সরকার। এ সরকার কোন মানবিক সরকার নয়, দানবীয় সরকার।

সে জন্য সারা বাংলাদেশের মানুষ যে আওয়াজ তুলেছে সরকার কর্ণপাত করছে না। সাজা মওকুফের সরকারের নির্বাহী যে আদেশে হয়েছে, সেই নির্বাহী আদেশ সংশোধন করলেই সমস্যার সমাধান হয়। বিদেশে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য আইন কোনো বাধা নয়,বাধা হচ্ছে সরকার এই সরকার। তাই সারা বাংলাদেশে আওয়াজ উঠেছে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে এবং তাকে বিদেশে যাওয়ার জন্য তাদের যে শর্ত আছে তা তুলে দিতে হবে।

তিনি বলেন,আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে চিকিৎসা পাঠানোর দাবিতে বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ। চাঁদপুরের মানুষও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিশাল সমাবেশে উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু যেহেতু সরকার কোন গণতান্ত্রিক সরকার নয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় নাই। জনগণের দাবিকে কোনরূপ ভ্রুক্ষেপ করছে না।তারা জনগণের সরকার নয়, দিনের ভোট রাতে চুরি করে। শুধু ভোট চোর নয়, তারা ভোট ডাকাত।তারা স্বৈরাচারী কায়দায় ক্ষমতায় টিকে আছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের অপশাসন গণতন্ত্রকে হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন,মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ব্যাপারে আজকে কেবল বাংলাদেশের জনগণ নয়, সারা বিশ্ব সোচ্চার হয়ে উঠেছে। আপনারা শুনেছেন আমেরিকায় সারাবিশ্বের ১৪১ টি দেশের একটি গণতান্ত্রিক সামিট হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশ আমন্ত্রণ পায় নাই। আজকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশে গণতন্ত্র নাই, এটা দেশের জন্য লজ্জার। লাখো মুক্তিযোদ্ধার রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই দেশ। আওয়ামী লীগ বারবার গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। স্বাধীনতার পরে এই সরকার ক্ষমতায় ছিল বাকশাল কায়েম করে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল।

খালেদা জিয়াকে গায়ের জোরে সরকারের নির্দেশে একটি ভূয়া মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বেগম জিয়া নাকি এতিমের কোটি কোটি টাকা মেরে খেয়েছেন, অথচ ওই দুই কোটি টাকা এখনো ব্যাংকে। সেই টাকা এখন বেড়ে আট কোটি টাকার বেশি হয়েছে। যদি ব্যাংক থেকে একটি টাকাও উত্তোলন না হয়ে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে এতিমের টাকা মেরে খেলেন? অর্থাৎ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।

প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা আপনারা এদেশের জনগণের সেবক জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয় আপনাদের চাকরি পার্মানেন্ট। আজকের যে আওয়ামী লীগ সরকার আছে গায়ের জোরে যতদিন ক্ষমতায় থাকুক না কেন এখন মাত্র সময়ের ব্যাপার আওয়ামী লীগ থাকবে না আপনারা থাকবেন তাই এখনো সময় আছে এই স্বৈরাচার মিথ্যাবাদী বিদেশে বাংলাদেশকে যারা অপমান বদনাম করেছে তাদের পক্ষ দয়াকরে ত্যাগ করুন জনগণের কাতারে দাঁড়ান যেখানে অন্যায় হয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান।

ডঃ খন্দকার মোশাররফ বলেন, চাঁদপুরের সমাবেশ রায় দিয়েছে- অনতিবিলম্বে বেগম খালেদা জিয়াকে পূর্ণ মুক্তি দেন, বিদেশে চিকিৎসার জন্য সকল বাধা তুলে দেন, না হলে সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য এই চাঁদপুরও প্রস্তুত।'

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম। তিনি সরকার পতনের আন্দোলনে চাঁদপুরবাসী কে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

চাঁদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে এবং সিনিঃ যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডঃ সলিম উল্লাহ সেলিম,যুগ্ম আহবায়ক দেওয়ান মোঃ সফিকুজ্জামান, মুনীর চৌধুরীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন,কেন্দ্রীয় বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রিয় নেতা ও মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, কৃষক দল কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারন সম্পাদক শহিদুল ইমলাম বাবুল, তাঁতীদলের কেন্দ্রিয় সভাপতি আবুল কালাম আজাদ দুলাল খান, কেন্দ্রীয় নেত্রী ও সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা, কেন্দ্রিয় যুবদলের সহ সভাপতি মুরতাজুল করিম বাদরু,কেন্দ্রিয় মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, যুবদল কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সভাপতি জাকির হোসেন, কেন্দ্রিয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব মিয়া।

চাঁদপুর জেলা উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব আনোয়ার বাবলু,বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন খান বাবুল,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খলিলুর রহমান গাজী,সেলিমুছ সালাম,চাঁদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন মাঝি, সাধারন সম্পাদক অ্যাডঃ হারুনুর রশিদ,ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শরীফ মোঃ ইউনুছ,মতলব উঃ উপজেলা বিএনপি সাধারন সম্পাদক নুরুল হক জিতু, হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইমাম হোসেন হাজী, মতলব দঃ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক বাদল, চচাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনটির সভাপতি শাহজালাল মিশন,সাধারন সম্পাদক অ্যাডঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খান,হাইমচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিন উল্লাহ বেপারী প্রমুখ।

সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশিদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, মোতাহের হোসেন পাটোয়ারী সহ কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতৃবৃন্দ মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর শহরের সকল ওয়ার্ড,পাড়া মহল্লা, বিভিন্ন উপজেলা ও শহরের আশপাশের ইউনিয়ন থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। মঞ্চেও ছিল নেতার ভিড়।

সুবিশাল এলাকা জুড়ে মনিরা ভবন প্রাঙ্গণে বিএনপি'র নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সমাবেশস্থল জনস্রোতে পরিণত হয়। এই সমাবেশের উল্লেখযোগ্য দিক ছিল চারিদিকে সুবিশাল জায়গা মনোরম পরিবেশ সুউচ্চ মঞ্চ। পাহাড়ের অাদলের সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই নেতারা তাদের বক্তব্য শেষ করেন। বিএনপি'র এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর শহর বেলা বারোটার পর থেকে মিছিলের শহরে পরিণত হয়। ' মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই কেন আর প্লেকার্ড ফেস্টুন আর নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত ছিল শহরের রাজপথ ও সমাবেশ স্থল।

এদিকে সমাবেশের কারণে শহরে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়