চাঁদপুর, শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯, ৪ রজব ১৪৪৪  |   ২৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আয়োজনে সরস্বতী পুজা উদযাপন
  •   চাঁদপুর শহরে বেড়েই চলছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত
  •   চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপি প্যানেলের নিরঙ্কুশ বিজয়
  •   চাঁদপুর সেন্ট্রাল ইনার হুইল ক্লাবের গৌরবের যুগপূর্তি অনুষ্ঠান
  •   হয়রানির আরেক নাম প্রি-পেইড বিদ্যুৎ মিটার

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২২, ০০:০০

চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে সাক্ষাৎকারে নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান

জেলা আওয়ামী লীগ চাঁদপুর সদরের সম্মেলনের তারিখ কেনো নির্ধারণ করছে না-সেটা অজ্ঞাত

বিএনপির মতো সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক দলের ফাঁদে জনগণ পা দিবে না এবং তাদের আন্দোলন কখনোই সফল হবে না

জেলা আওয়ামী লীগ চাঁদপুর সদরের সম্মেলনের তারিখ কেনো নির্ধারণ করছে না-সেটা অজ্ঞাত
গোলাম মোস্তফা ॥

চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান বলেছেন, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ১ বছর পূর্বে আমাদের অধীনস্থ সকল ইউনিয়নের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে। যথারীতি উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করে প্রোফাইল দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে সম্মেলনের তারিখ চাওয়ার পরও কেনো জেলা আওয়ামী লীগ চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করছে না, এ বিষয় আমার জানা নেই।

গতকাল দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে তাঁর দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। তাঁর পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি নিম্নে তুলে ধরা হলো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি আওয়ামী লীগের যে ইউনিটের সাথে সংশ্লিষ্ট, সে ইউনিটের সর্বশেষ সম্মেলন কবে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

নাজিম দেওয়ান : ২০০৩ সালের জুন মাসে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কত বছর পর পর একটি শাখা/ইউনিটের সম্মেলন করতে হয়?

নাজিম দেওয়ান : আমরা সকল সম্মেলন ত্রি-বার্ষিক করে থাকি। অর্থাৎ সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩ বছর পর পর এ সম্মেলন করতে হয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনার ইউনিটের সম্মেলন আয়োজনে কী কী বাধা আছে বলে মনে করেন?

নাজিম দেওয়ান : আমাদের সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজনে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা নেই। কিন্তু নানা প্রতিকূল পরিবেশের কারণে আমরা আমাদের সম্মেলন নির্ধারিত সময়ে করতে পারিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : ২০০১ সাল থেকে রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ, তারপর ১/১১ এবং ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ একের পর এক রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশ। এতো সব কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন করতে পারিনি। চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ১ বছর পূর্বে আমাদের অধীনস্থ সকল ইউনিয়নের ওয়ার্ড এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন করে। যথারীতি উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সকল ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করে প্রোফাইল দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে সম্মেলনের তারিখ চাওয়ার পরও কেনো জেলা আওয়ামী লীগ চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করছে না, এ বিষয় আমার জানা নেই।

চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভা করে চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবং এ উপজেলার সাংগঠনিক কমিটির মনিটরিং করার জন্যে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু ভাইকে প্রধান সমন্বয়ক করে দায়িত্ব দেয়া হয়। তাঁর নির্দেশনা এবং পরামর্শ অনুযায়ী আমরা আমাদের সকল কার্যক্রম শেষ করেছি। অবশ্য আমি চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন না হওয়ার জন্যে সংগঠনের সভাপতি হিসেবে সকল দায়ভার নিজের কাঁধে নিলাম বা কোনো অংশে আমার উপরও এ দায়ভার বর্তায়। হয়তো আমি পারস্পরিক সমন্বয় করতে না পারায় এটি বিলম্ব হচ্ছে। চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন জেলা নেতৃবৃন্দ শীঘ্রই করবেন-এটি আমার প্রত্যাশা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার কথা, যেটা নিয়ে মিডিয়ায় খবর এসেছে। সে আলোকে কোনো তোড়জোড় তো দেখা যাচ্ছে না। কারণ কী?

নাজিম দেওয়ান : আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে রয়েছি এবং এই উপজেলার জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে কোনো কথা বলতে পারবো না। এটি জেলা আওয়ামী লীগের বিষয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস সঙ্কট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিসহ আরো কিছু কারণে বিএনপির যে ধারাবাহিক আন্দোলন, তাতে আপনারা কতোটুকু উদ্বিগ্ন?

নাজিম দেওয়ান : এটি নিয়ে আমরা যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী এবং জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি, তারা উদ্বিগ্ন নই। কারণ কোভিড মহামারী এবং ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধে সারা বিশ্বের জনগণ উদ্বিগ্ন। একদিকে মহামারি ও যুদ্ধের পর সারা বিশ্বে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। সারা বিশ্বে সকল বিষয় নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যেখানে বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রেকর্ড ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ১ মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন। তারা বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে এতোটাই উদ্বিগ্ন। আমি মনে করি, মহান আল্লাহ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্বের মধ্যে অনেক ভালো রেখেছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এজন্যে পূর্বেই বলেছেন, কোথাও এক ইঞ্চি জায়গা খালি রাখা যাবে না। বাসার ছাদেও নিজের প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদনের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ সেটি সকলের প্রয়োজন হচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা আজ সময়োপযোগী। আমাদের নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে আমরা পৃথিবীর অনেক দেশের চাইতে ভালো আছি। অতএব আমি মনে করি, আমাদের দেশের জনগণ সকল বিষয় সম্পর্কে অনেক সচেতন। তাই বিএনপির মতো সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক দলের ফাঁদে জনগণ পা দিবে না এবং তাদের আন্দোলন কখনোই সফল হবে না।

চাঁদপুর কণ্ঠ : এ আন্দোলন সাংগঠনিকভাবে কিংবা অন্য কী উপায়ে মোকাবেলা করা যায় বলে আপনি মনে করেন?

নাজিম দেওয়ান : আমি পূর্বেই বলেছি, আমাদের দেশের জনগণ সকল বিষয়ে সচেতন। অতএব, বিএনপির ফাঁদে পা দিবে না। তাদের আন্দোলন আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো এবং আমরা বিজয়ী হবো।

চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি এমন মানসিক আস্থা পোষণ করেন যে, বিদ্যমান সমস্যা বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক সঙ্কট, সম্ভাব্য বৈশ্বিক মন্দা তথা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আওয়ামী লীগ স্বীয় জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে পারবে?

নাজিম দেওয়ান : আমি আবারো বলছি, কোভিড মহামারির পর রাশিয়ার-ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধে সারা বিশ্বের মধ্যে অর্থনৈতিক সঙ্কট এবং মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি। এটার জন্যে আমাদের দেশের সরকার দায়ী নয়। এ বিষয়টি সুযোগসন্ধানী রাজনৈতিক দল বিএনপি জনগণকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। কিন্তু দেশের জনগণ অনেক সচেতন এবং দেশের জনগণ সারা বিশ্বের এ ঘটনা সম্পর্কে পুরোপুরি অবহিত বিধায় বিএনপির হাঁক-ডাকের আন্দোলন দিন দিন নিষ্প্রাণ হচ্ছে এবং কখনোই সফল হবে না। কারণ সকল কিছুর মধ্য দিয়েও দেশের জনগণের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। তাই আমরা বিশ্বাস করি এবং জনগণের প্রতি আস্থা রেখে বলতে চাই, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা ৪র্থ বারের মতো দেশের জনগণের রায় নিয়ে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার বিজয় হবে এবং সরকার গঠন করবে ইনশাআল্লাহ।

চাঁদপুর কণ্ঠ : উপরোক্ত প্রশ্নমালার বাইরে আপনার অন্য কোনো বক্তব্য থাকলে উপস্থাপন করতে পারেন।

নাজিম দেওয়ান : আমরা মনে করি, এ দেশের জনগণ কোনো বোকা নয়, দেশের জনগণ এখন সচেতন। অতএব, জনগণ মনে করে যাদের দ্বারা তাদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে তাদের পক্ষে তারা থাকবে। সেটি এদেশের জনগণ বিগত ৩টি নির্বাচনে প্রমাণ করেছে এবং আগামীতেও সেটির প্রমাণ দিবে ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। তিনি ১৯৭৬ সালে তৎকালীন হানারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালে চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হন। ১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত নিজ ইউনিয়নে দুবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে একই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়