চাঁদপুর, বুধবার, ১৮ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের সর্বজন শ্রদ্ধেয় অধ্যপক আব্দুর রশিদ মজুমদার আর নেই
  •   হাজীগঞ্জে সেফটিক ট্যাংক পরিস্কার করতে গিয়ে দুই ভাইয়ের মৃত্যু!
  •   রিলাক্স বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ব্যাপক হতাহত ॥ তীব্র যানজট
  •   হাজীগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুটি ঘরসহ সকল আসবাবপত্র পুড়ে ছাই
  •   ফরিদগঞ্জে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার ৩

প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ০০:০০

ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে আলাপচারিতায় জেলা ক্রীড়া অফিসার তারিকুল ইসলাম

চাঁদপুরে নিয়মিত খেলাধুলা হলে অনেক খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে

চাঁদপুরে নিয়মিত খেলাধুলা হলে অনেক খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম ॥

চাঁদপুর জেলাতে তিনি এসেছেন মাত্র কয়েক বছর হলো। এর মধ্যেই তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জেলার ৮টি উপজেলাতেই নিয়মিত বিভিন্ন ক্রীড়াভিত্তিক ইভেন্টের খেলাগুলো চালিয়ে এসেছেন। তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা ক্রীড়া অফিসের মাধ্যমে চাঁদপুরের প্রত্যেকটি উপজেলায় ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ক্রীড়া মৌসুমে খেলাগুলো সুন্দর মতো চালিয়েছেন। চাঁদপুর জেলাতে এর আগে অনেক জেলা ক্রীড়া অফিসার ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া অফিসার হিসেবে যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, তিনি ওই সমস্ত ক্রীড়া অফিসারের তুলনায় বয়সে অনেক ছোট। বয়সে ছোট হলেও জেলাতে খেলাধুলার জন্য নিয়মিত বড় কাজ করছেন।

তিনি প্রত্যেকটি ক্রীড়া মৌসুমে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিটি উপজেলাতে বিভিন্ন ইভেন্টের খেলাগুলো চালানোর জন্যে। এর মধ্যে খেলার আয়োজনের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণের পর্বটা সেরে ফেলেন প্রতিযোগিতার সাথে সাথেই। প্রত্যেক উপজেলায় তার মাধ্যমে বেশ ক’টি প্রশিক্ষণ হয়েছে। বর্তমানে মতলব উত্তর উপজেলাতেও তার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ চলছে। তার স্বপ্ন চাঁদপুরে খেলাধুলার মাধ্যমে নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি করা। তিনি হলেন চাঁদপুরের তারুণ্যদীপ্ত জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ তারিকুল ইসলাম। তার বাবার নাম মরহুম আব্দুল মমিন তালুকদার। মায়ের নাম মরহুম শামসুন্নাহার। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলায়। তিনি ওই জেলা সদরের পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের ধানবান্দী গ্রামে বসবাস করেন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। ২০১৯ সালে তিনি একই জেলার বেলকুচি উপজেলার সাইফুল ইসলাম (সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)-এর মেয়ে কানিজ ফাতেমা সিবলার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি এসএসসি ও এইচএসসি সিরাজগঞ্জ থেকে পাস করে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে বাংলাতে অনার্স ও এমএ করেন। এরপর তিনি পাবনার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড শেষে ঢাকার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে এমএড করেন এবং বিপিএড করেন মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ থেকে। পাস করার পরে তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে সিরাজগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকে জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে চাকরি নেন। মাত্র একমাস চাকরি করার পরে জাপানে যাবেন বলে চাকুরি ছেড়ে জাপানী ভাষা শিখেন জাইকাতে কাজ করার জন্য। এর কিছুদিন পর ২০১৮ সালের মার্চে ঈশ^রদীতে ইক্ষু গবেষণা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। নয় মাস চাকরি করার পরে বিপিএসসি’র রেজাল্ট বের হয়। ওই সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা ক্রীড়া অফিসার পদে ২০১৯ সালের ২৪ শে জুলাই যোগদান করেন। সরকারি চাকরিতে যোগদানের এক মাস চারদিন পর ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তারপর উপজেলায় খেলোয়াড়সহ ক্রীড়া সংগঠকরা তাকে এক নামে চিনেন। তিনি একজন খেলাপ্রিয় মানুষ। তিনি চেষ্টা করছেন চাঁদপুরে যতদিন আছেন ততদিন এই জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ইভেন্টসহ নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করা এবং খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ক্রীড়া কণ্ঠের এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তিনি তুলে ধরেন তার চাঁদপুরে যোগদানসহ খেলার বিভিন্ন বিষয়ে। পাঠকদের জন্য তার প্রদত্ত বক্তব্যগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো।

ক্রীড়াকণ্ঠ : কেমন আছেন?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : জি¦ আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরে যোগদানের পর আপনার প্রথম কর্মসূচি কী ছিলো ? ওই কর্মসূচি কে উদ্বোধন করেন?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : আমি চাঁদপুরে যোগদানের পরই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুনন্নেচ্ছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করি। ওই সময় এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন মেঘনাপাড়ের কন্যা স্থানীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দাীপু মনি। আমি ওই সময়ে চেষ্টা করেছি দু’টি প্রতিযোগিতায়ই প্রত্যেক উপজেলাতে গিয়ে খেলাগুলো দেখার এবং খেলার মান উন্নয়নে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকসহ খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলার। ওই সময় থেকেই খেলাধুলার আয়োজনের ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি এবং আমাদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বছরব্যাপী যে কর্মসূচিগুলো রয়েছে সেগুলো পরিচালনা করে আসছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ২০২০ সালে কী কী করেছেন?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : আমি ওই বছর যে ক’দিন সময় পেয়েছি তার মধ্যে চাঁদপুরের প্রত্যেকটি উপজেলাতেই খেলাধুলার আয়োজনসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আমি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গ্রামীণ খেলাধুলা, বিশেষ চাহিদাসম্পান্ন শিশুদের ক্রীড়া উৎসব, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, দাবা, ভলিবলসহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করেছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি কি বাংলাদেশ লোক প্রশাসন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন? প্রশিক্ষণ শেষে?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : হ্যাঁ আমি ২০২০ সালে বাংলাদেশ লোক প্রশাসন কেন্দ্রে দু’মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সারাদেশের ২৮ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে আমিও চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া অফিসার হিসেবে সে সুযোগটি পেয়েছিলাম। প্রশিক্ষণ শেষে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রাণলয়ের সিনিয়র সচিব আকতার হোসেনের কাছ থেকে সনদপত্র গ্রহণ করি। আমিসহ সকল প্রশিক্ষণার্থী গোপালগঞ্জে জাতির পিতার সমাধিস্থলসহ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সকল স্থানে যাই এবং শ্রদ্ধা অর্পণ করি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের সামাজিক কর্মকা-ে?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : আমি ২০২০ সালে চাঁদপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডে করোনাকালীন সময়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে করোনাকালীন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের বিনামূল্যে চাল দেয়া কার্যক্রমের তথ্য যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেই।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ২০২১ সালে জেলা ও উপজেলাতে কী কী আয়োজন ছিলো? উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণীতে কে কে ছিলেন?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : আমি মতলব উত্তর উপজেলার ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টসহ বেশ ক’টি ক্রীড়া ইভেন্টের আয়োজন করি। ওই খেলাগুলোতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল ইসলামসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডঃ নুরুল আমিন রুহুল ছিলেন। এছাড়া ফরিদগঞ্জে ফুটবল ও অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতাসহ বেশ ক’টি উপজেলাতে আমাদের মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় খেলার প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। ওই বছরই মে মাসে জেলা শহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেচ্ছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনূর্ধ্ব-১৭ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করি। ওই বছরই জেলার দুটি (পুরুষ/মহিলা) দলকে নিয়ে চট্টগ্রামে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলতে যাই। এছাড়া ১২ ডিসেম্বর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভলিবল ও কাবাডি খেলার আয়োজন করি। একটি প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ এবং অপরটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার)।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চলতি বছর কী করেছেন?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : আমি চলতি বছর ৪ জানুয়ারি চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের নিয়ে ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন করি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। এছাড়া ২৩ জানুয়ারি মতলব উত্তর উপজেলায় প্রস্তাবিত শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে ক্রীড়া পরিদপ্তর, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৫ দিনব্যাপী ফুটবলের আবাসিক ক্যাম্পের আয়োজনে করেছি। ইচ্ছে আছে এ বছরই মাসব্যাপী ক্রিকেট প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরে খেলাধুলার উন্নয়নের জন্যে কী করা প্রয়োজন?

মোঃ তারিকুল ইসলাম : চাঁদপুরে খেলাধুলার উন্নয়নের জন্যে নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। বিশেষ করে টি-২০ ক্রিকেট লীগ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ, বয়স ভিত্তিক খেলা, যেমন -অনূর্ধ্ব-১৭, ১৫, ১৭ ও ১৮ ফুটবলসহ ক্রীড়াভিত্তিক বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন থাকলে এ জেলা থেকে নতুন নতুন অনেক খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনাকে সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

মোঃ তারিকুল ইসলাম : জি¦ আপনাকেসহ আপনার পত্রিকার সকল পর্যায়ের কলাকুশলীসহ গণমাধ্যমকর্মী ভাইদের এবং জেলা ও উপজেলার সকলের প্রতি আমার অনুরোধ, আমি যে ক’দিন চাঁদপুরে আছি সে ক’দিন যেনো খেলাধুলার সকল কিছু সুন্দর মতো করতে পারি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়