চাঁদপুর, বুধবার ১২ মে ২০২১, ২৯ বৈশাখ ১৪২৮, ২৯ রমজান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি ও মাননীয় জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন
আমি কেনো অনুদান ও প্রণোদনা পেলাম না?
মইনুদ্দিন লিটন ভূঁইয়া
১২ মে, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


এবার এই করোনাকালে চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে স্থানীয় শিল্পী ও সংস্কৃতির সাথে যুক্ত মানুষের জন্যে সরকারিভাবে অনুদান ও প্রণোদনা দেয়া হলো। কিন্তু আমি কেনো পেলাম না? এর সঠিক বিবেচনা নিয়ে আমার মধ্যে সংক্ষুব্ধতা জন্ম নিয়েছে। না দেয়ার কারণটা আমার কাছে একদমই যুক্তিসংগত মনে হচ্ছে না। বরং আমার মনে হচ্ছে এই মহতী কর্ম উদ্যোগের ভেতরে এমনই গলদ রয়েছে, যা আমাদের শিল্পাঙ্গনে আমার মতো আরো অনেককেই মর্মাহত করেছে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে অনেক রকম মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে আমার লেখার এটাই মূল প্রসঙ্গ নয়। মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে আমি এই প্রণোদনা কিংবা অনুদান নিয়ে অল্প বিস্তার করতে চাই।



বিশ্বব্যাপি ইভোলা ভাইরাস কোভিড-১৯-এর ভয়ংকর মহামারী চলছে। এর প্রথম ঢেউ অতিক্রান্ত হয়েছে। এখন এর দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে আসছে তৃতীয় ঢেউ। হয়তো আরো ঢেউ আসবে। কোভিডের ভয়ংকর ঢেউয়ে আছড়ে পড়ছে মানুষের লাশ। এখন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যেনো এই করোনায় মৃত্যুর সমুদ্র-সৈকত। কিন্তু মানুষ তো বরাবরই মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বেঁচে আছে। এটা আগেও হয়েছে, এখনো হচ্ছে। মৃত্যুর সাথে এ লাড়াই থেমে গেলে যে মানুষের সভ্যতাই থেমে যাবে। এটা মানুষের আদিতম লড়াই। এ লড়াই চলছে এবং চলবে। এ লড়াইয়ে মানুষই মানুষের প্রতিপক্ষ হয়। আবার মানুষের পাশে মানুষই এসে দাঁড়ায়। মানুষের এই চরিত্রটাকেই আমি বলি মানবতা। এটাই মানব সভ্যতার অন্তর্গত মূল শক্তি। আমরা দেখেছি অতীতেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাষ্ট্র ও সরকার মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সরকার ও রাষ্ট্র এই করোনা দুর্যোগের সময় নানাভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালো, যা উল্লেখ করার মতো প্রশংসার যোগ্য। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন বেশ কিছু মহতী উদ্যোগ নিয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়ে মানুষের পাশে থেকেছে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সংগঠনও প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে এগিয়ে এসেছে। অর্থাৎ যা বলছিলাম, মৃত্যুর সাথে এ লড়াইয়ে মানুষই মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার এই করোনাকালে সরকার ও রাষ্ট্র শিল্প সংস্কৃতির জগতের মানুষের জন্যে বিশেষভাবে কিছু করলো যা আমাকে অন্যভাবে পুলকিত করেছে।



আমাদের চাঁদপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি স্থানীয় শিল্পী যারা এই করোনাকালে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় পড়েছেন তাদের জন্যে নানাভাবে সাহায্য নিয়ে এসেছে। আমরা এটাকে প্রণোদনা বলছি। প্রণোদনা শব্দের অর্থ হলো অনুপ্রেরণা। অর্থাৎ এই প্রণোদনা দিয়ে শিল্পীদের নিজেদের কর্মস্পৃহা নিয়ে বেঁচে থাকার জন্যে অনুপ্রেরণা জানানোই এর লক্ষ্য। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অনুদানও দেয়া হয়েছে। অনুদান মানে কিন্তু দান নয়, ভাতা। মানে সরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহায়তা, ইংরেজিতে যাকে বলে 'সাবসিডি'। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি এরূপ প্রণোদনা ও অনুদান দিয়েছে। শিল্পীরাও পেয়েছে। এক-দুবার পণ্য ও পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এবার দশ হাজার টাকা করে দেয় হলো। খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। অন্তত আমরা যারা সংস্কৃতির কর্মকা-ের মধ্যে আছি তাদের কাছে তো বটেই। কিন্তু আমি এই অনুদান কিংবা প্রণোদনা এর কোনোটাই পেলাম না! আর পেলাম না বলে আমি মোটেই দুঃখিত নই। বরং লজ্জিত বোধ করছি। কারণ কী কারণে আমি পেলাম না সেটা জানার চেয়ে কী কারণে আমি পেতে পারি সেটা নিয়ে যে ধোঁয়াশা সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে আমি কোনোভাবেই নিষ্কৃতির পথ খুঁজে পাচ্ছি না। আর পাবোই বা কী করে, যেসব ক্রাইটেরিয়া বিবেচনা করে এই সব অনুদান ও প্রণোদনা দেয়া হলো তার সাথে প্রাপ্তদের অনেকের যেরূপ আর্থসামাজিক অবস্থান রয়েছে তা আমাকে এবং আমার মতো অনেককেই বিস্মিত করেছে। কিছুদিন আগে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। এবার কর্মহীন শিল্পী, কলাকুশলী ও কবি-সাহিত্যিকদের অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল হতে দশ হাজার টাকা করে সর্বমোট তের লক্ষ নব্বই হাজার টাকা দেয়া হলো। শিল্পী, কলাকুশলী ও কবি-সাহিত্যিকরা এ টাকা পায়নি আমি এ কথা বলছি না। আমি যা বলছি, যারা পেলো না, তারা কেনো পেলো না? আর যাঁরা পেলো তাঁরা কী করে পেলো? তা কতটুকু সঠিক-যাচাই করে দেখা হয়েছে? আর যদি এমন বলি যে, এটা সঠিক যাচাই করেই দেয়া হয়েছে, তাহলে আমার প্রত্যক্ষ প্রশ্নটাই সামনে চলে আসে। আর সেটা হলো, আমি কেনো পেলাম না?



এখানে বলে রাখছি, উনিশশ চুয়াত্তর সাল থেকে শিল্প-সংস্কৃতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত থেকে, দীর্ঘকাল ধরে পত্রিকা ও লিটলম্যাগে লেখালেখি করে, টেলিভিশনে আমার লেখা এগারোটি নাটক সম্প্রচারিত হওয়ার পরে, এ পর্যন্ত সতেরটি যৌথ ও সাতটি একক চিত্র প্রদর্শনী করে, ঢাকা ও চাঁদপুরে শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন মঞ্চে সাতটি মঞ্চ নাটক নির্দেশনা করে আমি এই উপলব্ধিতে উত্তীর্ণ হতে পেরেছি, যদি অনিয়মই নিয়ম হয়, যদি দুর্নীতিই নীতি হয়, তাহলে এরূপ প্রণোদনা কিংবা অনুদান সেটা যা হোক না কেনো, যদি আমি দুঃস্থ শিল্পী হই, যদি আমি কর্মহীন শিল্পী হই, যদি আমি অসহায় শিল্পী হই, আমি এ-রূপ প্রণোদনা কিংবা অনুদান ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করি। কারণ আমি দেখেছি দুর্যোগকালে মানুষ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায়। আবার মহাবিপর্যয়ের সময় মানুষ তার ব্যক্তিচিন্তায় নিবিষ্ট থেকে মানুষের অকল্যাণে মত্ত হয়ে পড়েছে আমি এটাও দেখেছি। আবার এটাও দেখছি, এই করোনাকালে অনেক সবল ও সামর্থ্যবানেরা নিজেদের নাম অসহায় ও দুঃস্থ শিল্পীদের তালিকায় সংযুক্ত করে সরকারি অনুদান ও প্রণোদনার পণ্য ও টাকা হাতিয়ে নিয়ে বুক ফুলিয়ে বড় গলায় কথা বলছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভাষ্যমতে, একেই বলে চোরের মা'র বড় গলা। সুতরাং যে কোনো বিপর্যয়ের সময় আমাদের দৃষ্টিকে এই দুটি দিকেই যথেষ্ট সজাগ রাখতে হবে।



সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনি এই চাঁদপুরের মাননীয় জেলা প্রশাসক। আপনিই চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি। এক কথায় আপনিই এই শহরের অভিভাবক। হয়তো আপনার অজ্ঞাতে প্রকৃতির বিপর্যয়ের এই কালে দুর্বৃত্তায়নের সুবর্ণ ও মোহময় সুযোগ সৃষ্টি করে তাকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করে তুলবে, তাতে আপনি প্রশ্নাতীত থাকবেন কি?



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
    হেরার আলো
    বাণী চিরন্তন
    আল-হাদিস

     


    ২-সূরা বাকারা


    ২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


    পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


     


    ৪৬। তাহারাই বিনীত যাহারা বিশ্বাস করে যে, তাহাদের প্রতিপালকের সহিত নিশ্চিতভাবে তাহাদের সাক্ষাৎকার ঘটিবে এবং তাঁহারই দিকে তাহারা ফিরিয়া যাইবে।


     


     


     


    একজন জ্ঞানী প্রশাসক সময়োপযোগী শাসন করেন। _সিডনি লেনিয়ার।


     


     


     


    অত্যাচার কেয়ামতের দিনসমূহ অন্ধকারের কারণ হবে।


     


     


    ফটো গ্যালারি
    করোনা পরিস্থিতি
    বাংলাদেশ বিশ্ব
    আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৬,৮০,১৩,৪১৫
    সুস্থ ৭,৩২,৮১০ ১৪,৯৩,৫৬,৭৪৮
    মৃত্যু ১২,৪৪১ ৩৪,৮৮,২৩৭
    দেশ ২০০ ২১৩
    সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৮৩০৫১৫
    পুরোন সংখ্যা