চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২১ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু
  •   হাজীগঞ্জের কিউসি টাওয়ারে আগুন :  আহত ১০ 
  •   ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শূন্যপদ ২৩০৯
  •   করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সুপারিশ
  •   চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎষ্পৃষ্টে এক যুবকের শরীর জ্বলসে গেছে

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

চাঁদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করলেন মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল

‘বছরের পর বছর পুরো বর্ষায় আমরা পানিবন্দি থাকতাম’

‘বছরের পর বছর পুরো বর্ষায় আমরা পানিবন্দি থাকতাম’
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট ॥

চাঁদপুর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড। অসম্ভব ঘনবসতি এলাকা। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরই বসবাস বেশি। প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় এমন অনুন্নত এলাকা ছিল তা বিগতদিনের এ এলাকার ভয়াবহ চিত্র না দেখলে বলে কাউকে বিশ্বাস করানো যাবে না।

২নং ওয়ার্ডের আলিয়ার বিল ও মধ্য শ্রীরামদী এলাকাটি অনেক বড় এরিয়া। খুবই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। গতকাল শুক্রবার আলিয়ার বিল এলাকায় যাওয়া হয় এক দোয়া অনুষ্ঠানে। সেখানে মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ কয়েকজন কাউন্সিলরও ছিলেন। দোয়া অনুষ্ঠান শেষে মেয়র আলিয়ার বিল এলাকায় চলমান ড্রেনেজ কাজ ঘুরে ঘুরে দেখেন। মেয়র এসেছেন দেখে এলাকার নারী-পুরুষসহ অনেকেই জড়ো হন। তাদের চোখেমুখে দেখা গেলো হাসির ঝিলিক। তখন অনেককেই মেয়রকে তাদের ঘরে নিয়ে আপ্যায়ন করার আবদার করতে দেখা গেলো। তারা বললেন, ‘মেয়র সাব আমনের কারণে এবারের বর্ষায় আমাগো আর পানির মধ্যে থাকতে হয় নাই। এর আগে বছরের পর বছর বর্ষাকাল পুরাডাই আমরা পানির মধ্যে থাকতাম। এবার আমনে আমাগোরে এমন কষ্ট থিকা মুক্তি দিছেন। আমনেরে আমরা দোয়া করি।’

সেখানে কথা হয় ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ কামাল হাওলাদার, সিডিসির সভাপতি নূরজাহান ও সাধারণ সম্পাদক রূপার সাথে। তারা বললেন বিগতদিনে তাদের দুঃখের কথা। তারা বলেন, এ এলাকা বলতে গেলে পুরোটাই আগে বাঁশের সাঁকো ছিল। বাড়ি-ঘর থেকে সাঁকো বেয়ে আমাদের রাস্তায় উঠতে হতো। বর্ষাকালে পুরো এলাকা পানিতে ভরপুর থাকতো। পুরো বর্ষায় আমরা পানিবন্দি অবস্থায় থাকতাম। কখনো কখনো বুক সমান আবার কখনো কখনো কোমর সমান পানি ভেঙ্গে ঘরের বাইরে যাতায়াত করতে হতো। পানি সরার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। বর্ষার পানি ময়লা-আবর্জনার সাথে একাকার হয়ে মারাত্মক দুর্গন্ধ এবং পরিবেশ খুবই দুষিত হয়ে যেতো। আমরা এমন নিদারুণ কষ্টের মধ্যে কাটিয়েছি বহু বছর। বর্তমান মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল যখন তাঁর নির্বাচনের সময় আমাদের এলাকায় ওয়ার্ক করতে আসেন, তখন তিনি নিজ চোখে আমাদের দুরবস্থার দৃশ্য দেখেন। তখন তিনি কথা দিয়েছিলেন তিনি নির্বাচিত হলে এ এলাকার উন্নয়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করবেন। বিশেষ করে প্রথমেই এলাকাবাসীকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দিবেন। মেয়র সাহেব যে কথা দিয়েছেন তা রেখেছেন। আলিয়ার বিল ও মধ্য শ্রীরামদী এলাকাসহ পুরো এলাকা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু ফেলে অনেক উঁচু করে দিয়েছেন এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এই ড্রেনেজের কাজ এখনো চলছে। পাশাপাশি আরসিসি রাস্তার কাজও চলছে। আর যেখানে যেখানে আগে আমরা সাঁকো দিয়ে চলাচল করতাম, সেখানে তিনি আরসিসি রাস্তা করে দিয়েছেন। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের কষ্ট আমাদের দূর হলো। তারা আরো জানান, আমাদের এই কাজে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মালেক শেখ ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ কামাল হাওলাদার।

মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল এ সময় বলেন, আমার নির্বাচনের সময় আমি যখন এ এলাকায় নির্বাচনী ওয়ার্কে আসি, তখন কোথাও বুক সমান, কোথাও কোমর সমান পানি ছিল। ময়লা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ভেঙ্গে আমি ভোটারদের ঘরে যেতে পারি নাই। তারাও আমার কাছে আসতে পারে নাই। ঘরে থেকেই তারা হাত নেড়ে আমার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছে। তাদের এমন দুরবস্থা দেখে তখন আমি তাদেরকে কথা দিয়েছিলাম আমি নির্বাচিত হলে পুরানবাজারের এই এলাকার মানুষগুলোকে আগে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেবো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আমি আমার দেয়া ওয়াদা রক্ষা করতে পেরেছি। আজকে এই এলাকায় এসে ভালো লাগলো। পুরো বর্ষায় কোথাও কোনো পরিবারকে পানিবন্দি অবস্থায় দেখতে পাই নি। পৌরসভার নিজস্ব অর্থায়নে এবং পৌরসভার পরিচালিত এলআইইউপিসির বরাদ্দ এই যৌথ ফান্ড দিয়ে আমি এই এলাকাটির উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমার আরো বৃহৎ পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি আমি করতে পারবো।

এ সময় মেয়রের সাথে ছিলেন চাঁদপুর জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, সদস্য আব্দুল গণি গাজী, পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী মাঝি, প্যানেল মেয়র অ্যাডঃ হেলাল হোসাইন, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মালেক শেখ, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ফেরদৌসী বেগমসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়