সোমবার, ১৮ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮, ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জের পৃথক দুটি তদন্ত চলছে : পরিস্থিতি স্বাভাবিক : ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২১, ০০:০০

করোনা পজিটিভ রোগী ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেই চাঁদপুরে করোনার এমন ঊর্ধগতি : সিভিল সার্জন
রাসেল হাসান ॥

কারো জ্বর হচ্ছে, শ্বাস কষ্ট হচ্ছে, বেশি অসুস্থ হলে করোনা পরীক্ষা করাচ্ছেন। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে আক্রান্ত ব্যক্তি দু’চারদিন বাড়িতে থাকছেন, ঔষধ নিচ্ছেন। একটু সুস্থ হলেই ভাইরাস নিয়েই ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাটে-বাজারে খোলা স্থানে। তাদেরকে বোঝানো যাচ্ছে না করোনা পজিটিভের পর দু-চারদিনে সাময়িক সুস্থ হওয়া মানেই তিনি ভাইরাসমুক্ত নন। বরং তিনি ভাইরাসের বাহক হিসেবে পথে-প্রান্তরে ঘুরে সংক্রমিত করছেন পাড়া-প্রতিবেশীদের। পরক্ষণেই অসুস্থ হচ্ছেন তার কোনো নিকটাত্মীয় বা প্রতিবেশী। এভাবেই দু’জন থেকে চারজন, চারজন থেকে আটজন করে ধীরে ধীরে বাড়ছে চাঁদপুরের করোনা সংক্রমণ। তাই ২০ শতাংশের সংক্রমণ হার এখন পৌঁছেছে ৫০ শতাংশের কাছে। চলমান শিথিল লকডাউনে সংক্রমণের এই হার আরও বাড়তে পারে। এভাবে চলতে থাকলে চাঁদপুরের ভবিষ্যৎ মোটেই সুখকর হবে না। প্রচণ্ড আক্ষেপ আর কষ্ট নিয়ে কথাগুলো বললেন চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ শাখাওয়াত উল্যাহ। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের সাথে ‘চাঁদপুরের করোনা সংক্রমণ সংকট ও আমাদের করণীয়’ বিষয়ক বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথাগুলো বলেন তিনি।

কেন স্বাভাবিক হচ্ছে না চাঁদপুরের করোনা পরিস্থিতি?

‘চাঁদপুরের করোনার ঊর্ধ্বগতির জন্য মূলত দায়ী কে, কেন স্বাভাবিক হচ্ছে না করোনা পরিস্থিতি, কোন্ পদক্ষেপে মিলবে সুফল’ এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সিভিল সার্জন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠকে বলেন, আমরা চাঁদপুরের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন অবজারভেশন করেছি, চাঁদপুর করোনা বিষয়ক জেলা কমিটি অবজারভেশন করেছেন, প্রত্যেকের একটাই মত, করোনা পজিটিভ রোগী ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেই চাঁদপুরে করোনা ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতি হচ্ছে। পজিটিভ রোগীদের আইসোলেশন নিশ্চিত করতে না পারলে এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলবে। বর্তমানে আমরা সংকটময় সময় পার করছি।

করোনার এ সংকট মোকাবেলায় করণীয় কী?

চাঁদপুরে করোনা পজিটিভ রোগী প্রকাশ্য ঘুরে বেড়ানোর এ সংকট মোকাবেলায় করণীয় কী জানতে চাইলে ডাঃ মোঃ শাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে মাননীয় জেলা প্রশাসক প্রতি ইউনিয়নে করোনা প্রতিরোধ কমিটি করে দিয়েছেন। আমরা আপাতত এই কমিটির মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে দেখতে চাই পজিটিভ রোগীদের ঘরে আটকে রেখে তাদের ১৪ দিনের আইসোলেশন নিশ্চিত করে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি-না। আমরা প্রতিদিন ইউপি চেয়ারম্যানের ই-মেইলে তার ইউনিয়নের কোনো পজিটিভ রোগী আছে কি-না, থাকলে রোগীর নাম-পরিচিতি ও বাড়ির ঠিকানা জানিয়ে দিবো। ইউপি চেয়ারম্যান করোনা প্রতিরোধ কমিটির বাকি সদস্যদের নিয়ে রোগীর আইসোলেশন নিশ্চিত করে পারিপার্শ্বিক মানুষদের করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করবেন। যদি প্রতিটি ইউনিয়নের কমিটি যথার্থ ভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেন এবং এ প্রক্রিয়ায় আমরা সফল হই তবে ধরে নিবো আমাদের পর্যবেক্ষণই সঠিক ছিলো।

যদি এ কমিটির মাধ্যমেও সংক্রমণ কমানো না যায় সে ক্ষেত্রে করণীয় কী হতে পারে?

সিভিল সার্জন বলেন, আপাতত আমরা দীর্ঘমেয়াদী কোনো কিছু ভাবছি না। সপ্তাহ ভিত্তিক প্ল্যানিং করে করে আমরা সামনে এগুচ্ছি। আপাতত দুই সপ্তাহের প্ল্যানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে করোনা প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম। এ কমিটির মাধ্যমে সুফল না আসলে পরবর্তী কৌশল কী হতে পারে তা জেলা কমিটির মাধ্যমে যৌথ ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

করোনা মোকাবেলার এ যুদ্ধে চাঁদপুরের সকল চিকিৎসককে নিয়ে যে যুদ্ধ সিভিল সার্জন চালিয়ে যাচ্ছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এ যুদ্ধে তিনি সহ সকল চিকিৎসক তখনই সফল হতে পারবেন যদি মানুষ স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া নির্দেশনাগুলো মেনে চলেন। লকডাউনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে ঈদের আমেজে শপিংমল বা গরুর হাটে উৎসবে মাতবেন যারা, তারাই যদি সচেতন না হয় তবে সুস্থতার ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো কোনো না কোনো পজিটিভ রোগী দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পথযাত্রী হওয়া সময়ের ব্যপার মাত্র।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়