শুক্রবার, ০১ জুলাই, ২০২২  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই
  •   বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
  •   ডাকাত সন্দেহে কোস্টগার্ডের হামলায় নিখোঁজ ১ : আহত ২
  •   হাজীগঞ্জে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
  •   অধ্যাপক    কামরুজ্জামান সাহেবের স্মরণ সভা  ও মিলাদ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২২, ০০:০০

পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে কচুয়ার ৩শ’ একর জমির ধান
মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ॥

ধান উৎপাদনের জন্যে বিখ্যাত কচুয়া উপজেলার আলিয়ারা-কাঠালিয়া বিলের প্রায় ৩শ’ একর জমির ধান নদীর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। নিচু এলাকা ও নদীর জোয়ার হওয়ায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ওই মাঠ। ফলে সোনার ফসল চোখের সামনে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা হতাশ। পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছে এমন প্রায় ৪ হাজার কৃষক। নিচু এলাকা হওয়ায় ওই মাঠে বছরে একটি মাত্র ফসল ইরি ধান উৎপন্ন হয়। যা দিয়ে ওই এলাকার মানুষের সারা বছরের চাহিদা মিটিয়ে অবশিষ্ট ধান বাজারে বিক্রি করে কৃষক।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, মাঠের পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণে রয়েছে প্রবহমান বোয়ালজুরি খাল। যে খাল সরাসরি গিয়ে পড়েছে ধনাগোদা ও ডাকাতিয়া নদীতে। প্রতি বছর ওই খালের পানি দিয়ে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে চাষাবাদ হয়ে থাকে। মাঠ থেকে ধান সংগ্রহ করে নিয়ে আসার জন্য খালের ওপর কোনো ব্রীজ না থাকায় চলাচলের জন্য বাঁশের নির্মিত অস্থায়ী সাঁকো দিয়ে খাল পারাপার হতো কৃষকরা। হঠাৎ নদীর জোয়ারের পানি আসায় ওই সাঁকো তলিয়ে গেছে। এছাড়া বিলের মাঝখান দিয়ে মাঠ থেকে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে যাবার নেই কোনো রাস্তা।

ওই মাঠের কৃষক ও সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন জানান, আলিয়ারা-কাঠালিয়া বিলের চারপাশের দশ গ্রামের প্রায় ৪ হাজার কৃষক বিএডিসি সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ধান চাষ করে আসছে। আগাম বৃষ্টি, বোয়ালজুরি ও জোরাখালের জোয়ারের পানি মাঠে ঢুকে পড়ায় পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে এই মাঠের ফসল। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের নেই কোনো ব্যবস্থা।

ওই মাঠের কৃষক বিমল, আবদুর রহিম মোল্লা, আতাউল করিম ও আনোয়ার হোসেন জানান, কাঠালিয়া থেকে আলিয়ারা পর্যন্ত মাঠে মাঝ বরাবর একটি রাস্তা নির্মাণ, খালের পাড়ে বাঁধ ও বোয়ালজুরি খালের ওপর পাকা ব্রীজ নির্মাণ করলে ধান সংগ্রহ করা সম্ভব। তাছাড়া মাঠের ভেতর পানি প্রবেশ বন্ধ করতে পারলে বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এ সমস্যা হতো না। এ পর্যন্ত ওই বিলের প্রায় ২০/২৫ একর জমির ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। বাকি জমির ধান নিয়ে বিপাকে ওই এলাকার কৃষকরা। তাই কৃষকরা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করে কৃষকদের ধান চাষাবাদ ও ফসলি জমির ধান সংগ্রহ করতে রাস্তা ও ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সোফায়েল হোসেন বলেন, আমি ওই মাঠ পরিদর্শন করেছি। ধানের অধিক ফলনের জন্যে ওই মাঠ বিখ্যাত। বোয়ালজুরি খালের চাড়টভাঙ্গা এলাকায় একটি স্লুইচ গেট বা বাঁধ দিলে বর্ষার মৌসুমে ওই মাঠে পানি প্রবেশ করতে পারবে না। তাছাড়া খাল খনন করলে ওই খালের পানি সেচ মৌসুমে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে কৃষকদের ধান ফলন ও সংগ্রহ করা সহজ হবে। বিলের মধ্যখানে হার্ভেস্টার মেশিন পাঠানোরও কোনো ব্যবস্থা নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোতাছেম বিল্যাহ জানান, কাঠালিয়া বিলের কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা খালে স্লুইচগেট বা অন্য যে কোনো প্রকারে হোক একটি ব্যবস্থা নিবো। অধিক ফসল ফলানের জন্যে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়