শুক্রবার, ০১ জুলাই, ২০২২  |   ২৮ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই
  •   বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ১০ জুলাই
  •   ডাকাত সন্দেহে কোস্টগার্ডের হামলায় নিখোঁজ ১ : আহত ২
  •   হাজীগঞ্জে নবজাতকের লাশ উদ্ধার
  •   অধ্যাপক    কামরুজ্জামান সাহেবের স্মরণ সভা  ও মিলাদ

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২২, ০০:০০

জন্মগত কম ওজনের নবজাতকের জন্য আশীর্বাদ স্কেনু ইউনিট
এএইচএম আহসান উল্লাহ ॥

আড়াইশ’ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় সম্প্রতি যে কটি সুযোগ সুবিধা সংযোজন হয়েছে, তার মধ্যে SCANO (স্কেনু) অন্যতম। জন্মগতভাবে কম ওজনের নবজাতকদের এই ইউনিটে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। যা অতীতে এই হাসপাতালে ছিল না। গত নভেম্বরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার পর এ বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে এটির কার্যক্রম শুরু হয়। গত ১৬ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন।

হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় স্কেনু ও ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিট পাশাপাশি স্থাপন করা হয়। স্কেনুতে কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদের চিকিৎসা দেয়া হয়। আর এর চেয়ে কিছুটা ভালো পর্যায়ের নবজাতককে ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। গত সোমবার হাসপাতালের স্কেনু এবং ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ইউনিটে গিয়ে এর চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখা হয়। এ সময় সাথে ছিলেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ একেএম মাহাবুবুর রহমান, সহকারী পরিচালক ডাঃ সাজেদা বেগম পলিন ও আবাসিক সার্জন ডাঃ মাহমুদুন্নবী মাসুম। তখন স্কেনু ইউনিটে দেখা গেলো ৫/৬ জন নবজাতক সেখানে ভর্তি রয়েছে। এর ইনচার্জ মাসুমা আক্তারের সাথে তখন কথা বলেন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মাহাবুবুর রহমান। তিনি চিকিৎসা সেবার খোঁজ-খবর নেন। ইনচার্জ মাসুমা আক্তার এই প্রতিবেদককে এই ইউনিটের হালনাগাদ তথ্য জানালেন। তিনি জানান, এখানে সিট রয়েছে নয়টি। রোগী সবসময়ই থাকে। নয়শ’ গ্রাম ওজনের নবজাতকও এখানে চিকিৎসা নিয়েছে। এছাড়া ১২শ’ ১৩শ’ গ্রাম ওজনের নবজাতকও এখানে ভর্তি হয়। কোনো কোনো সময় এমন রোগীর জন্য চাপ থাকে যে, তখন সিরিয়াল দিতে হয়। তত্ত্বাবধায়ক জানালেন, আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপির আন্তরিক প্রচেষ্টায় স্কেনু ইউনিট স্থাপনসহ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম দিন দিন উন্নত হচ্ছে। তিনি এবং তাঁর বড় ভাই ডাঃ জেআর ওয়াদুদ টিপু সার্বক্ষণিক এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার খোঁজ খবর রাখেন। নতুন নতুন সেবা ইউনিট চালুর দিকটি তাঁরা আন্তরিকতার সাথে দেখেন। তিনি জানান, এই ইউনিটের জন্য নার্স সম্পূর্ণ আলাদা। আর চিকিৎসক শিশুদের ডাক্তাররাই। তবে এখানকার নার্স এবং ডাক্তারদের এর জন্যে বিশেষ ট্রেনিং দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই এই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক জানালেন, আড়াই কেজি থেকে দুই কেজির কম ওজন নিয়ে জন্মানো শিশুদেরই স্কেনু ইউনিটে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। বাচ্চাদের ইনকিউবেটরে রেখে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। তিনি জানান, গত নভেম্বরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এটি উদ্বোধনের পর ২৬ জানুয়ারি থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়। এটি চাঁদপুরের জন্য অনেক বড় একটি আশীর্বাদ বলে তিনি জানান। আগে এমন নবজাতককে চাঁদপুর থেকে ঢাকা ও কুমিল্লা নিয়ে যাওয়া হতো। হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হতো অভিভাবকদের। আর চাঁদপুরে এটি হওয়াতে মানুষ বিনে পয়সায় চিকিৎসা নিতে পারছে। ইনচার্জ মাসুমা আক্তার জানালেন, ২৬ জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১৪৭ জন নবজাতক স্কেনু ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে পাঁচজন। অন্য শিশুরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে এখান থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে।

এ সময় কথা হয় এই ইউনিটে ভর্তি হওয়া কয়েকজন নবজাতকের মার সাথে। তারা এমন চিকিৎসা সেবার সুযোগের জন্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। এটিকে এ জেলাবাসীর জন্যে আশীর্বাদ বলে তারা উল্লেখ করেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়