চাঁদপুর, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ২ জিলহজ ১৪৪৩  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুরের সাবেক এসপি কৃষ্ণ পদ রায় সিএমপির কমিশনার
  •   চাঁদপুরের রোটার‌্যাক্ট ক্লাবগুলোর জিরো আওয়ার সেলিব্রেশন প্রোগ্রাম
  •   চাঁদপুর পৌরসভার অর্থায়নে একটা ব্লাড ব্যাংক করবো
  •   বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে
  •   রোটারিয়ানগণ সেবামূলক যে মহৎ কার্যক্রম করছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২২, ০০:০০

ডাকাতিয়ার ড্রেজিংকৃত বালিতে জলাধার ভরাটের হিড়িক
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে জলাধার ভরাটের হিড়িক পড়েছে। ডাকাতিয়া নদীতে ড্রেজিং করা বালু পাইপের মাধ্যমে নিয়ে এই সকল জলাধার ভরাট কার্যক্রম বেশ কিছু দিন ধরে চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা চাঁদপুর কণ্ঠকে জানিয়েছেন। বিশেষ করে হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন ও শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের বহু পুকুর ও ডোবাসহ জলাধার ভরাট করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ডাকাতিয়া নদী খননের কাজ শুরু হয়। এরপর থেকে দুই উপজেলায় নদীর পাড় সংলগ্ন গ্রাম সমূহে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর ও ডোবাসহ জলাধার ভরাট হয়ে গেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ের এসব জলাধার ভরাট প্রকাশ্যে করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীর নাব্যতা ধরে রাখা ও নৌপথ সচল রাখতে ২০১৭ সালে তৎকালীন নৌ-পরিবহণমন্ত্রী শাহজাহান খান হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ মাঠে ডাকাতিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় নদী খননের (ড্রেজিং) বালু দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিগত জলাধার ডোবা, পুকুর ইত্যাদি ভরাট করা।

ডাকাতিয়া নদীর হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি উপজেলার যে অংশে ড্রেজিং হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে, নদীর পাড় সংলগ্ন সেসব এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ওইসব গ্রামের লোকজন তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর, নর্দমা ও ডোবাসহ জলাধারগুলো ভরাট করেছেন। এতে করে গত চার বছরে প্রায় অর্ধ-শতাধিক জলাধার ভরাট হয়েছে। জলাধারগুলো ভরাট করে তাতে বসতি নির্মাণ হওয়ায় দেশীয় মাছের আবাসস্থল ধ্বংসসহ পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

দেখা গেছে, ডাকাতিয়া নদী থেকে বালি উত্তোলনে প্রশাসনের কোনো নজরদারি ও সমন্বয় নেই। ফলে সহজেই ভরাটের জন্যে বালি পাওয়া যাচ্ছে। ড্রেজিংয়ের বালি পাইপের মাধ্যমে নদী থেকে পৌর এলাকা কিংবা ইউনিয়নের যে কোনো জায়গায় নেয়া যাচ্ছে। রাতারাতি ভরাট হয়ে যাচ্ছে শতকের পর শতক জলাধারসহ মিঠাপানির আবাসস্থল।

৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের সদস্য হিরা জানান, জগন্নাথপুর ব্রীজের গোড়া দিয়ে নদীতে ড্রেজিংয়ের বালির লাইন আমাদের ইউনিয়নে ও আরেকটি লাইন শাহরাস্তির দিকে চলে গেছে।

জলাধার ভরাট সংক্রান্ত পরিবেশ সংরক্ষন আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী বলা হয়েছে, যে কোনো ধরনের জলাধার বা পুকুর ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ভরাটকারীর বিরুদ্ধে আইনের ৭ ধারায় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে পরিবেশগত ক্ষতি ও বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

এছাড়াও জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০-এ বলা হয়েছে, কোনো পুকুর-জলাশয়, নদী-খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। ওই আইনের ৫ ধারা মতে, জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণিও পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু এসব আইনের কোনো তোয়াক্কাই করছেন না পুকুর ভরাটকারীরা। এতে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, নিজের পুকুর হলেও কোনো ব্যক্তি তা ভরাট করতে পারবে না। তাই দ্রুত এ ভরাট বন্ধ করা উচিত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

তারা আরো বলেন, আমাদের এই জলাধারগুলো অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে শোষণ করে এবং শুষ্ক মৌসুমের জন্য পানি সংরক্ষণ করে, যা জনসাধারণকে খরা বা অনাবৃষ্টির মতো বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে। এছাড়াও এই জলাধারগুলো আমাদের এই এলাকার মাছের চাহিদা পূরণ এবং মৎস্যচাষীসহ বেকারদের আয়ের অন্যতম অবলম্বন।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, জলাধার ভরাটের কোনো সুযোগ নেই। আর নদী ড্রেজিংয়ের বালু ব্যক্তি পর্যায়ে বিক্রির এখতিয়ার আছে কিনা এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়