শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ড্রেজার ধ্বংস করাসহ মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
  •   শাহরাস্তিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
  •   ফরিদগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী
  •   হাজীগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
  •   ভুয়া দুদক কর্মকর্তা সেজে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

হানারচর ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্ধ নারীসহ ২০ জনের ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার ॥

চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্ধ নারীসহ ২০ জনের ভাতার অর্ধ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে। ৬ আগস্ট শনিবার দুপুরে ইউনিয়নের হরিণা বাজারে ব্যাংক এশিয়ায় ভাতা বিতরণকালে এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট কর্মকর্তার যোগসাজশে এ ঘটনা ঘটায় বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

‘শেখ হাসিনার মমতা বয়স্কদের জন্য নিয়মিত ভাতা’-এ শ্লোগানে সমাজসেবা অধিদপ্তর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশে বয়স্ক ভাতা প্রদান করে থাকে। ভাতাভোগীদের বছরে ২ বার ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে। সরকার নির্ধারিত ৬ হাজার ১ টাকা ভাতার টাকা ধার্য করা হলেও চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নে মুক্তিযোদ্ধা ও অন্ধ নারীসহ ২০ জনের ভাতার সম্মানী কাউকে ৩ হাজার আবার কাউকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা প্রদান করেন উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ও সাধারণ ওয়ার্ডের মেম্বারগণ। এ ঘটনা ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশে হয় এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

ইউপি সদস্যরা ভাতাভোগীদের কাছ থেকে নিজেদের ও বিভিন্ন কর্মকর্তার কথা বলে এই টাকা রেখে দেয় এবং আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়।

টাকা বিতরণকালে হানারচর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, ইউপি সদস্য বাশার, খায়ের, কালু, মহিলা ইউপি সদস্য রাশিদা বেগম ও খুরশিদা বেগম উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম ভাতাভোগীদের বইয়ে ৬ হাজার টাকার সামনে স্বাক্ষর দেন। ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যরা পরিকল্পনা করে ভাতাভোগীদের এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

বয়স্ক ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান বেপারী জানান, আমার মোবাইলে ৬ হাজার টাকার ম্যাসেজ আসছে। আমার বইয়ে ৬ হাজার টাকার সামনে স্বাক্ষর নিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা। কিন্তু আমি ৪ হাজার ৫শ’ টাকা পেয়েছি। এছাড়া ৬ হাজার টাকার স্বাক্ষরে একই পরিমাণ টাকা পেয়েছেন অন্ধ ফরবুলিন্নেছা ও মাফিয়া বেগম।

ভাতাভোগী মাফিয়া বেগম জানান, হারুন ও রাশিদা মেম্বার বলছে প্রতি বইয়ে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা খরচ আছে।

ভাতাভোগী ছালেহা বেগম ও রওশন আলী জানান, তারা দুজনই স্বাক্ষর করে পেয়েছেন ৩ হাজার টাকা করে। প্রতি বইয়ে সমাজসেবা কর্মকর্তার ১ হাজার ও মেম্বারদের ৫শ’ টাকা দিতে হয় বলেছে হারুন মেম্বার। শনিবার ব্যাংক বন্ধের দিন। তারা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই সকলে মিলে বন্ধের দিন ভাতাভোগীদের টাকা প্রদান করেন।

ভাতাভোগী আনামতির স্বামী সলেমান রাঢ়ী জানান, আমি ও আমার স্ত্রী দুপুর ১২টায় হরিণা বাজার ব্যাংক এশিয়ায় গেলে আমাদেরকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। বাড়িতে আসলে ছেলে মিজান ৬ হাজার টাকার স্থলে ৩ হাজার টাকা দেয়ায় আবার ব্যাংকে পাঠায়। পরে ৬ হাজার টাকার ম্যাসেজ দেখালে বাকি ৩ হাজার টাকা দিয়ে দেয়।

ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম জানান, আমি সবগুলো বই একসাথে নিয়ে টাকা ও স্বাক্ষর দিয়ে দিয়েছি। তারা টাকা না পেলে আমার কিছু করার নেই।

মহিলা মেম্বার রাশিদা বেগম জানান, আমি ভাতাভোগীদের ফিঙ্গার নিয়েছি। টাকার বিষয়টি সমাজসেবা কর্মকর্তা বলতে পারেন।

ইউপি সদস্য কালু জানান, ৬ হাজার টাকার স্থলে টাকা কম দেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ব্যাংকে আমি সাথে সাথে প্রতিবাদ করেছি। ঘটনা সত্য।

ভাইস চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, আমি শেষ মুহূর্তে ব্যাংকে গিয়েছি। আমি কোনো টাকা নেই নাই। সবকিছু সমাজসেবা কর্মকর্তা জানেন।

হানারচর ইউনিয়নের ফিল্ড অফিসার আবদুল জলিল জানান, আজকে টাকা বিতরণের কথা ছিল না। ব্যাংক থেকে টাকা দিতে পারবে বলে আমাদেরকে জানায়। আমি সকালে চেয়ারম্যান সাহেবকে বিষয়টি জানিয়েছি। টাকা আত্মসাতের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সকল ভাতাভোগীর টাকা মেম্বাররা নিজেই বিতরণ করেন। আমি শুধু টাকা সংশ্লিষ্টরা পেয়েছে কি না এবং স্বশরীরে উপস্থিত হয়েছে কি না এটা দেখি। আমি সবার হাতে হাতে টাকা দিয়েছি। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার পর কে কী করছে সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।

ইউপি সচিব ফজলুল হক গাজী জানান, ভাতা বিতরণের বিষয়ে আমাকে কেউ অবগত করে নি।

হানারচর ইউপি চেয়ারম্যান ছাত্তার রাঢ়ী জানান, যারা ভাতার টাকা আত্মসাৎ করেছে তাদের বিষয়ে আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ভাতা বিতরণের বিষয়টি আমি বা সচিব কেউ অবগত নই।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়