চাঁদপুর, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   নদীর বাতাসও যেন ঘুরে চলে যায় অন্য কোথাও
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া
  •   একদিনের সফরে আজ চাঁদপুর আসছেন শিক্ষামন্ত্রী
  •   চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারই এখন আইজিপি
  •   হাজীগঞ্জে মৃত বোনের চাঞ্চল্যকর ডিভোর্স জালিয়াতি

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

শোক ও সঙ্কট উত্তরণের আগস্ট
অনলাইন ডেস্ক

আগস্ট ছিল এক বিবেচনাহীন আদিম হন্তারক।

খুনি আগস্ট সপরিবারে একজন রাষ্ট্রনেতাকেই হত্যা করেনি, হত্যা করেছে একজন সুরসিক অনন্য ব্যক্তিত্বকে। মহাকবি কালিদাস কিংবা বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল যেমন প্রত্যুৎপন্নমতিত্বসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ছিলেন, তেমনি বঙ্গবন্ধুর তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তাপ্রসূত রসবোধের উৎসারণও তাদের সমমাত্রিক ছিল। তিনি কখনো অহেতুক রসবোধ প্রদর্শন করেননি। তাঁর রসবোধের প্রকাশ ছিল ঘটনা বা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র একশ’ পঁচিশ পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু নিজের জবানিতে বলেছেন, একদিন তিনি ও কাজী আলতাফ হোসেন সাহেব মাওলানা শামসুল হক সাহেবের সাথে তাঁর বাড়িতে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। রাত দশটায় এক মাঝির নৌকায় মধুমতী দিয়ে। কারণ তাঁর বাড়ি মধুমতীর পাড়ে। নদীটা এক জায়গায় খুব চওড়া। এই স্থানে এলে ডাকাতি হয়। এটা মুজিবের জানা ছিল। যারা পানির দেশের মানুষ নৌকায় ঘুমাতে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। বঙ্গবন্ধুও অভ্যস্ত চিলেন নৌকায় ঘুমাতে। সারাদিনের ক্লান্তিতে বঙ্গবন্ধু ঘুমিয়েই পড়েছিলেন। কাজী সাহেব তখনও ঘুমাননি। এমন সময় একটা ছিপ নৌকা তাদের নৌকার কাছে ভিড়ল। ছিপ নৌকায় চারজন। ওরা নৌকার মাঝির কাছে আগুন আছে কি না জানতে চাইল। আগুন চেয়েই এরা নৌকার কাছে আসে। এটাই এদের পন্থা। জিজ্ঞেস করে নৌকা কই যাবে? মাঝি বললো টুঙ্গিপাড়া। নৌকায় কে? মাঝি মুজিবের নাম বলল। ডাকাতরা মাঝিকে ভীষণভাবে বৈঠা দিয়ে একটা আঘাত করে বললো, ‘শালা আগে বলতে পার নাই, শেখ সাহেব নৌকায়’। এই বলে তারা নৌকা বেয়ে চলে গেল। মাঝি মার খেয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে চিৎকার করে নৌকার ভিতর ঢুকে পড়লো। মাঝির চিৎকারে মুজিবের ঘুম ভেঙে যায়। কাজী সাহেব জেগে ছিলেন। ভয়ে তিনি তার আংটি, ঘড়ি, টাকা সব লুকিয়ে ফেলেছিলেন। তিনি সৌখিন মানুষ ছিলেন। মুজিব জেগে জিজ্ঞেস করলেন, ব্যাপার কী? মাঝি ও কাজী সাহেব ঘটনা জানালো। কাজী সাহেব বললেন, ডাকাতরা আপনাকে শ্রদ্ধা করে। আপনার নাম করেই বেঁচে গেলাম। না হলে উপায় ছিল না। মুজিব বললেন, ‘বোধ হয় ডাকাতরা আমাকে তাদের একজন ধরে নিয়েছে।’ দুইজনে এতে খুব হাসাহাসি হলো।

কর্মীদের পরিবেষ্টিত হয়ে একদিন আলোচনাকালে বঙ্গবন্ধু হঠাৎ করে বললেন, বাংলাদেশে তেল পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। কর্মীরা বঙ্গবন্ধুকে জিজ্ঞেস করলেন, লিডার, কীভাবে জানলেন? বঙ্গবন্ধু জবাবে বলেছিলেন, দেখ যাদের তেল আছে তারা মুসলিম কান্ট্রি। বাংলাদেশও তা-ই। ঐসব তেলওয়ালা দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের নামে শেখ আছে। আমার নামেও শেখ আছে। সুতরাং আমাদেরও তেল আছে। বঙ্গবন্ধুর জবাব শুনে সবাই হো হো করে হেসে দিলেন। যদিও ঐ সময় রসিকতা ছিল, কিন্তু এখন আমরা সত্যিই অল্প হলেও তেলওয়ালা দেশ। ভুট্টো সম্পর্কে বাহাত্তরে এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু রসিকতা করে বলেছিলেন, ভুট্টো সাপ এখন দাঁড়াস্ হয়ে গেছে। অর্থাৎ সামরিক শাসনের যাঁতাকলে জুলফিকার আলী ভুট্টো বিষহীন দাঁড়াস্ সাপের মতো ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছে। বঙ্গবন্ধুর তিন আস্থাভাজন সাংবাদিক ছিলেন ফয়েজ আহমদ, এবিএম মুসা আর গাফ্ফার চৌধুরী। এদের তিনি যথাক্রমে আপদ, বিপদ ও মুসিবত নামেই ডাকতেন। বঙ্গবন্ধুর রসিকতার আরো ঘটনা আছে। তিনি আক্ষেপভরে দুর্নীতি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানীরা এদেশ থেকে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমাকে দিয়ে গেছে চোরের খনি। ওরা যদি চোরের খনি নিয়ে যেত তাহলে আমিও খুব খুশি হতাম।

বঙ্গবন্ধু সত্যিকার অর্থেই দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ ছিলেন। তাঁর সেই দুর্নীতি বিষয়ক আক্ষেপ আজও আমাদের জন্যে সত্য হয়ে আছে। আজও আমরা দুর্নীতির দুষ্টু চক্রে আবর্তিত হয়ে ঘুরে মরছি। আজও আমাদের অগ্রগতির পথ রোধ করে আছে দুর্নীতির অসুর। বঙ্গবন্ধু থাকলে এই অসুর জয়ের বিজয়ার শোভাযাত্রা হতো আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়