চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু
  •   হাজীগঞ্জের কিউসি টাওয়ারে আগুন :  আহত ১০ 
  •   ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শূন্যপদ ২৩০৯
  •   করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সুপারিশ
  •   চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎষ্পৃষ্টে এক যুবকের শরীর জ্বলসে গেছে

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণে চাঁদপুরের বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট ॥

কোভিড-১৯-এর প্রভাবে টানা দুই বছর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ ছিল। পিছিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তাদের মাঝে শিখন ঘাটতি প্রবলভাবে দেখা দেয়। এই শিখন ঘাটতি পূরণ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নানা পরামর্শ ও নির্দেশনা শিক্ষকদের দিয়ে যাচ্ছেন। এই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ ক্লাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এমন বিশেষ ক্লাসের উদ্যোগ চাঁদপুরের স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকেও নিতে দেখা গেছে।

চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হয়েছে। এই পরীক্ষার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীর ফলাফল বিপর্যয় ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এই ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করে দেখেন যে, বিগত দুই বছর করোনা মহামারীর কারণে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক শিখন ঘাটতি হয়েছে। যেমন- বর্তমানে যে ছাত্র ১০ম শ্রেণিতে আছে, সে ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে পড়েনি। তাই দশম শ্রেণিতে তার ফলাফল খুবই খারাপ। আবার যে শিক্ষার্থী এখন ৫ম শ্রেণিতে পড়ে সে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে পড়েনি। তাই ৫ম শ্রেণিতে তার ফলাফল খারাপ। এই শিখন ঘাটতি পূরণের জন্যে ক্লাস চলাকালীন সময়ের আগে বা পরে বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে শিখন ঘাটতি পূরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যায়। এমন বাস্তবতার নিরিখে চাঁদপুরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বিশেষ ক্লাস শুরুও করে দিয়েছে।

এ বিষয়ে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে কথা হয়। তার মধ্যে আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১৭ জুলাই চাঁদপুর-০৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি মহোদয় শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের জন্যে ৫২ টিভিতে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিশেষ ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে Extra Class এর মাধ্যমে অল্প ফি নিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া যেতে পারে। তারই প্রেক্ষিতে বিগত ২৩/০৭/২০২২ ও ২৪/০৭/২০২২ খ্রিঃ তারিখে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করি। এই সমাবেশে অভিভাবকদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণ ক্লাস নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যা গত ১ আগস্ট ২০২২ থেকে শুরু হয়েছে। উক্ত বিশেষ ক্লাসে শিক্ষার্থীদের বিগত দুই বছরের শিখন ঘাটতি চিহ্নিত করে বিশেষ ধরনের ক্লাস রুটিনের মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়। ক্লাস রুটিনের বিশেষত্ব হলো-কোন্ শিক্ষক কোন্ তারিখ ওয়ারী কক্ষে শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির কোন্ বিষয়বস্তু কোন্ সময়ে পাঠদান করবেন তা স্পষ্ট করে নির্দেশনা দেয়া আছে। প্রতি সপ্তাহে ভিন্ন ভিন্ন রুটিন তৈরি করে ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষকদের সমন্বয়ে উক্ত শিখন ঘাটতি পূরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। Total ঘাটতি পড়াকে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত করে রুটিনের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের বর্তমান ক্লাসে পড়ার উপযোগী করে তোলার কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের উদ্যোগে এমন বিশেষ ক্লাস চালু করায় অভিভাবকরাও সন্তুষ্ট। তারা এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নামমাত্র ফিতে এমন বিশেষ ক্লাস চালু করায় আমরা খুশি। এর দ্বারা আমাদের সন্তানদের পড়ালেখার ঘাটতি অনেকটা পূরণ হবে আশা করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়