চাঁদপুর, শনিবার, ১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯, ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   নদীর বাতাসও যেন ঘুরে চলে যায় অন্য কোথাও
  •   শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের সুস্থতা কামনায় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া
  •   একদিনের সফরে আজ চাঁদপুর আসছেন শিক্ষামন্ত্রী
  •   চাঁদপুরের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারই এখন আইজিপি
  •   হাজীগঞ্জে মৃত বোনের চাঞ্চল্যকর ডিভোর্স জালিয়াতি

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

ফরিদগঞ্জে ফসলি জমির উর্বর মাটি ছিনতাই (!) অব্যাহত রয়েছে
এমরান হোসেন লিটন ॥

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ফসলি জমির মাটি গিলে খাচ্ছে ইটভাটা ও নূতন বাড়ি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি যাচ্ছে ইটভাটা, বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে। অসহায় কৃষকদের আর্থিক সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে প্রভাবশালী মহলের কতিপয় লোকজন এ মাটির ব্যবসার সাথে জড়িত। এ বিষয়ে সংবাদকর্মী ও এলাকার সুধীমহলের টনক নড়লেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টনক নড়েনি।

এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসন জেনেও কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় এলাকার সুধী মহলের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন। এখানে ৩ ফসলি জমি থেকে জমির উপরিভাগের ৩ ফুট মাটি (‘টপ সয়েল’) চলে যাচ্ছে ইটভাটা ও বাড়ি নির্মাণে। নানা কৌশলে কৃষকদের কাছ থেকে এসব মাটি কেনা হচ্ছে। আবার মাটি বিক্রিতে অনীহা প্রকাশ করলে অসহায় কৃষকদের ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। এতে করে কমছে জমির পরিমাণ। মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা হ্রাসসহ ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে জমির মাটি আনা নেয়ার কাজে বর্ষা মৌসুমে নৌকার ব্যবহারে মেতে উঠেছে মাঝিরা। এরা জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে রাত-দিন জেগে থাকে কখন নৌকায় মাটি ভরাট করে ব্রিক ফিল্ডে পৌঁছে দিবে। মাটি কাটায় নৌকা ব্যবহার করতে গিয়ে বিভিন্ন খালের দু-পাড়ের বাড়িঘর ভেঙ্গে ব্যাপক ক্ষতি ক্ষতিসাধনের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের দানবীর চাকায় পিষ্ট হচ্ছে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রাস্তাঘাট। সরকারি আইনের তোয়াক্কা না করে প্রশাসনের অসাধু কর্তা ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা দিয়ে ইটভাটার মালিকগণ নির্বিঘেœ তাদের এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় থেকে সংস্কার না হওয়া উপজেলার রাস্তাঘাটগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

৩নং সুবিদপুর ও ৫নং গুপ্টি ইউনিয়নের একাধিক কৃষক জানান, জমির মাটি নেয়ায় জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তারা বলেন, প্রভাবশালী মহলের দালাল চক্রটি গ্রামগঞ্জে হেঁটে হেঁটে অসহায় দরিদ্র কৃষকদের টাকার লোভনীয় প্রলোভন দেখিয়ে মাটি কিনে নিচ্ছে। এতে করে জমির শ্রেণির পরিবর্তনও হচ্ছে।

গত ক’দিনে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ১নং বালিথুবা ইউনিয়ন হতে ৫নং গুপ্টি ইউনিয়ন পর্যন্ত স্থাপিত অবৈধ ব্রিকফিল্ডগুলোতে নৌকা দ্বারা শেষ রাত হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি ব্রিকফিল্ডে নেয়া হচ্ছে। এ সময় একাধিক ব্রিকফিল্ডের মালিক এবং ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে চাইলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মতামত পোষণ করতে অনীহা প্রকাশ করে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল মাহমুদ জানান, এ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির লোক ইটভাটা ও বাড়ি নির্মাণে ফসলি জমির মাটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ফসল উৎপাদনে ব্যাহত হবে। আমরা এ বিষয়ে অবগত আছি এবং উপজেলার মাসিক মিটিংয়ে এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

ইতিপূর্বে চাঁদপুর কণ্ঠসহ আরো কয়েকটি পত্রিকায় এ বিষয়ে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। যার কারণে এলাকার একটি মহল মনে করছে মাটি ব্যবসায়ী অথবা ব্রিকফিল্ডের মালিকের সাথে পরিবেশ অধিদপ্তর ও অন্যান্য দপ্তরের লোকজন সমন্বয় করেই ফসলি জমি নষ্ট করে মাটি ছিনতাই কাজে সহযোগিতা করছে।

চাঁদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ হান্নানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন যদি এ বিষয়ে আমাদের অবগত করে এবং সহযোগিতা করে তাহলে আমরা মাটি কাটা বন্ধ করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

অন্যদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমুন নেছার সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ আমাদের কোনো অভিযোগ করেনি, আমরা অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়