চাঁদপুর, রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯, ১৩ রজব ১৪৪৪  |   ১৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সাথে এমপির মতবিনিময়
  •   খলিশাডুলীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
  •   জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু
  •   আজ রোটারিয়ান মরহুম দেওয়ান আবুল খায়েরের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী
  •   ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক তিন

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তিকে শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট ॥

জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছে দু’ দিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা। ২০ নভেম্বর রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি।

এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। র‌্যালিটি মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় মিলিত হয়। সেখানে বেলুন উড়িয়ে মেলা উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানসহ অন্য অতিথিরা। পরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ মিলন মাহমুদ বিপিএমণ্ডবার, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এমএ ওয়াদুদ, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ, সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার ও প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল-আমিন একাডেমীর নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান আরিশা, হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আল আবরার ও মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাইশা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্যে উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন শিক্ষাক্রম প্রণীত হয়েছে। সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনে দক্ষ হিসেবে আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এগিয়ে যাওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। তারুণ্যের অন্যতম শক্তিই হচ্ছে প্রযুক্তি। তবে প্রযুক্তির প্রসারের ক্ষেত্রে যেনো গ্রাম ও শহরের মধ্যে কোনো বৈষম্য না থাকে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের সামনে যতো সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে নিজেদের তৈরি করতে হবে। সেজন্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশকে শুধুমাত্র শহর কেন্দ্রিক নয়, প্রযুক্তিকে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত করেছেন।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেদবুনিয়া ভূ-উপকেন্দ্র করে গেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজকে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছেন। আমাদের দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছেন। এখন স্মার্ট বাংলাদেশে নিয়ে যাবার জন্যে কাজ করছেন। মন্ত্রী বলেন, আমরা যেনো প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে ডিভাইসের পণ্য না হয়ে যাই সে দিকটায় খেয়াল রেখে এর খারাপ দিক পরিহার করতে হবে। এ ব্যাপারে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সচেতন ও সতর্ক করতে হবে। আমাদেরও একই খেয়াল থাকতে হবে।

সভাপ্রধানের বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, ১৯৭২ সালে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তথ্য প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তৎকালীন সময়ে আমাদের জাতীয় পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ হয়েছে।

তিনি জানান, প্রযুক্তি বান্ধব নানা উদ্ভাবনের মাধ্যমে নাগরিক জীবনকে আরো সহজ, সমৃদ্ধ এবং স্মার্ট করে গড়ে তুলতে এবং সারাদেশের উদ্ভাবকদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা দেশের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে এ মেলার আয়োজন। ৪০টি স্টলে ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া চারটি প্যাভিলিয়নে উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং স্টার্টআপ, ডিজিটাল সেবা, হাতের মুঠোয় সেবা এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিভিন্ন কার্যক্রম প্রদর্শন করানো হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় সমাপ্ত হবে মেলাটি।

উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে মেলার প্রতিটি স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় নিজ নিজ উদ্ভাবন সম্পর্কে অতিথিদের অবগত করেন স্টল প্রধানরা।

মেলায় ডিজিটাল সেবা, উদ্ভাবনী উদ্যোগ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং হাতের মুঠোয় সেবা-এ চার ক্যাটাগরিতে ৪টি প্যাভিলিয়ন রাখা হয়েছে। এ বছর মেলায় মোট ৭০টি স্টলে জেলার ৮ উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল উদ্ভাবনী প্রজেক্ট নিয়ে অংশগ্রহণ করছে।

২১ নভেম্বর বিকেল চারটায় মেলার সমাপনী, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ মেলা।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়