চাঁদপুর, রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯, ১৩ রজব ১৪৪৪  |   ১৬ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সাথে এমপির মতবিনিময়
  •   খলিশাডুলীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
  •   জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু
  •   আজ রোটারিয়ান মরহুম দেওয়ান আবুল খায়েরের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী
  •   ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক তিন

প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

৪ মাসের সন্তান হত্যার দায়ে মা গ্রেফতার!
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পরেই ৪ মাস বয়সী শিশু শাহরিনের মা মানসুরা (৩০)-কে গত সোমবার (২১ নভেম্বর) গ্রেফতার করেছে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে গত ৬ আগস্ট। এই ঘটনায় নিহত শিশুর ফুফু হালিমা বেগম বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মানসুরা হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামের মিজি বাড়ির প্রবাসী ফারুক হোসেন মিয়াজীর স্ত্রী ও হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের মেয়ে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ নাজিম উদ্দিন জানান, চলিত বছরের গত ৬ আগস্ট শিশু শাহরিনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুরের সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। দীর্ঘ কয়েকমাস পর পুলিশ ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোঃ নাজিম উদ্দিন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, শাহরিনের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার আলামত পাওয়ায় শিশুটির মা মানসুরাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তিনি আরো বলেন, তার (মানসুরা) বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, চারমাস বয়সি শিশু শাহরিনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনার খবর পেয়ে চলিত বছরের ৬ আগস্ট (রোববার) শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। শিশু মৃত্যুর বিষয়টি সেই সময় পুলিশের সন্দেহ হলে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার আগের দিন ৫ আগস্ট শনিবার রাতের কোনো এক সময় বাবার বাড়িতে মায়ের কাছে ঘুমিয়ে থাকাবস্থায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিশু শাহরিনের মৃত্যুর ঘটনায় প্রবাসী বাবা ও পরিবারের সদস্যরা রহস্যজনক বলে মনে করছিলেন। সেই সময় শিশুটির বাবার পরিবার মেডিকেল রিপোর্ট (ময়নাতদন্ত) পুলিশের তদন্তের উপর বিষয়টি ছেড়ে দেন।

শিশু শাহরিনের মা মানসুরার দ্বিতীয় স্বামীর ঘরের প্রথম সন্তান। মানসুরার প্রথম স্বামীর ঘরেও একটি সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে তিনি প্রবাসী স্বামী ফারুক হোসেনের সংসার করতেন।

এ বিষয়ে মানসুরা সংবাদকর্মীদের কাছে দাবি করে বলেন, আমি আমার সন্তানকে কেনো হত্যা করবো? ওই দিন রাতে আমি প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে গেলে বাথরুমে বসেই শাহরিনের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। পরে দ্রুত ঘরে এসে তাকে কোলে তুলে দুধ দিই। কিন্তু সে দুধ মুখে নেয় না এবং নড়াচড়াও করে না। আমার ননদরাই কেউ তাকে মেরে আমাকে ফাঁসাতে চাইছে। আমার বিয়ের পর থেকেই তারা আমাকে মেনে নিতে পারেনি। সবসময় আমাকে মানসিক নির্যাতন করে আসছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়