চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু
  •   হাজীগঞ্জের কিউসি টাওয়ারে আগুন :  আহত ১০ 
  •   ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শূন্যপদ ২৩০৯
  •   করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সুপারিশ
  •   চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎষ্পৃষ্টে এক যুবকের শরীর জ্বলসে গেছে

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২২, ০০:০০

উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

আসছে ২৬ নভেম্বর শনিবার হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। প্রায় ১০ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য উক্ত সম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সাধারণ নেতা-কর্মীর মাঝে শুরু হয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা-আসলে কী হবে সম্মেলনকে ঘিরে, কে হবেন পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, ভোটাভুটি হবে নাকি কেন্দ্র থেকে কমিটি ঘোষণা দেয়া হবে, নাকি সম্মেলনে ব্যাপক হট্টগোল হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কি সব সামলে নিবে ? দলীয় নেতা-কর্মীরা কতটুকু সহনশীল হবে তার নেতার পক্ষে এমনটাই এখন দেখার বিষয়। তবে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছেন অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ। এদিকে এই সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একঝাঁক প্রার্থী রয়েছেন। এই সম্মেলনে ৩০ হাজার নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটানো হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাঈনুদ্দিন। আসছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এক ঝাঁক নেতা।

সরজমিনে জানা যায়, হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌর বাস টার্মিনালে উক্ত সম্মেলন ঘিরে বিশাল প্যান্ডেল করা হয়েছে। এখানেই আজ বাদে কাল ৩০ হাজার নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটনো হবে। চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সমাবেশ স্থল হওয়ার কারণে অনুষ্ঠান চলাকালীন সড়কটিতে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভবনা রয়েছে। সমাবেশে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় অনেক নেতা বক্তব্য রাখবেন।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের পোস্টারে দেখা যায়, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি, সম্মানিত অতিথি স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি, বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ। সম্মেলনের উদ্বোধক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান বক্তা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম পাটোয়ারী দুলাল। আরো বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সদস্য ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইউসুফ গাজী। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী এবং সঞ্চালনা করবেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী মাঈনুদ্দিন।

সম্ভাব্য সভাপতি প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তারা হচ্ছেন : বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, রোটাঃ আলহাজ্ব আশফাকুল আলম চৌধুরী, রোটাঃ আলহাজ্ব আহসান হাবীব অরুণ, রোটাঃ আলী আশ্রাফ দুলাল, ইঞ্জিঃ সফিকুর রহমান ও জাকির হোসেন মিয়াজী। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন : বর্তমান সাধারণ সম্পাদক গাজী মাঈনুদ্দিন মিয়াজী, সত্য ব্রত ভদ্র মিঠুন, হাজী জসিম, গোলাম ফারুক মুরাদ, শাহাদাত হোসেন ও সমীর লাল দত্ত।

উক্ত সম্মেলনে ঠিক কীভাবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ভোটাভুটি হবে নাকি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করবেন সেটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার হাজার হাজার নেতা-কর্মী এ নিয়ে রয়েছে চরম দ্বিধাবিভক্তিতে। তবে নেতা-কর্মীদের বেশিরভাগই চান তাদের নেতা নির্বাচিত হোক ভোটাভুটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পরে হতে যাওয়া উক্ত সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিলেও নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা-ঠিক কী হবে সম্মেলনকে ঘিরে, পদপ্রত্যাশীদের পক্ষে বিপক্ষে যদি হাঙ্গামার সৃষ্টি হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীই বা কতোটা সহনশীল মনোভাবে থাকবে। তবে নতুন পদ ঘোষণা নিয়ে একটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি যে হবে তা কেউ উড়িয়ে দিচ্ছেন না।

এবারের সম্মেলনে ভোটার হয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের এমন বেশ ক’জন আওয়ামী লীগ নেতার সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা চাই সম্মেলনটি ভোটের মাধ্যমে হোক। এতে করে আমাদেরকে মূল্যায়ন করা হবে। এতো বছর পর সম্মেলন হচ্ছে, ভোট দিতে না পারলে কি আর মজা আছে ? এই সকল ভোটার আরো জানান, ইতোমধ্যে বেশ ক’জন প্রার্থী মোবাইল ফোনে কিংবা সরাসরি দেখা করে দোয়া আর ভোট চেয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাঈনুদ্দিন জানান, আমরা ৩০ হাজার নেতা-কর্মীর সমাবেশ ঘটাবো। অপর এক প্রশ্নে তিনি আর কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জোবাইর সৈয়দ জানান, আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে আমরা অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করার পরিকল্পনা করেছি। অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো ঘটনা রুখে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়