চাঁদপুর, শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯, ১২ রজব ১৪৪৪  |   ২৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নব-নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের সাথে এমপির মতবিনিময়
  •   খলিশাডুলীতে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা
  •   জানুয়ারিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু
  •   আজ রোটারিয়ান মরহুম দেওয়ান আবুল খায়েরের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী
  •   ফরিদগঞ্জে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ আটক তিন

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০

ফরিদগঞ্জে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, কৃষকের মুখে হাসি
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি ॥

ফরিদগঞ্জে রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। আমন ধানের সোনালী শীষে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত। বাতাসে ঢেউ তুলছে সোনালী ধানের শীষ। ধান কাটা ও মাড়াই কাজে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে দিনমজুরদের।

ফরিদগঞ্জ দেশের কয়েকটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ধান-উদ্বৃত্ত উপজেলার মধ্যে অন্যতম। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে আমন চারা লাগাতে দেরি হলেও পরবর্তী সময় আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকেরা। এছাড়া সংসারের খোরাকি, গরুর খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা বৃদ্ধি ও ধানের দাম ভালো থাকায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা। কৃষক মিজান জানান, আগাম জাতের হাইব্রীড ধান কাটা শুরু করে দিয়েছেন অনেক আগেই। এসব ধানের ফলনও ভালো পাচ্ছেন।

দেইচর গ্রামের কৃষক কাদির জানান, আমন ধান প্রতি কাঠায় ২/৩ মণ করে ফলন পাচ্ছি। প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৫০ থেকে ১১শ’ টাকায় বিক্রি করা যায়। এতে তারা খুশি। তবে কৃষকদের দাবি, নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে ধানের দাম আরো বাড়ানো উচিত।

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আমন ধান কেটে ওই জমিতে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ, আলু, বেগুনসহ শীতকালীন সবজি আবাদ করতে পারবে কৃষকেরা। যাতে পরবর্তী সময় বোরো ধান চাষের অর্থের জোগান হয় কৃষকের। তাই প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চাষ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এ বছর প্রায় ৮ হাজার ৩শ’ ২৮ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু চাষ করা হয়েছে ৮ হাজার ৩শ’ ৫০ হেক্টর জমিতে।

এর মধ্যে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৯ হাজার ৫শ’ ৭৯ মেট্রিক টন। কিন্তু তার চেয়েও আরো বেশি ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আশিক জামিল মাহমুদ বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়। প্রত্যেক বছর আমন মৌসুমে কৃষকদের যাবতীয় পরামর্শ ও সেবা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে প্রদান করা হয়, এ বছরও দেয়া হয়েছে। আমন রোপণের পর পর পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না থাকায় কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ছিলো। কিন্তু পানির প্রয়োজনের সময় ক’দিনের টানা বৃষ্টিতে সেই চিন্তার ভাঁজ কেটে কৃষকদের মনে উৎসবের আমেজ এসেছে এবং গত কয়েক মাস আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ধানের ফলন অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম বলেন, ফরিদগঞ্জে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি ধান উৎপন্ন হবে। কারণ অন্যান্য বছর অতিবৃষ্টির ফলে নিচু এলাকায় আমন ধান চাষ করা যেত না। কিন্তু এ বছর নিচু এলাকাসহ উপরের ভিটাসহ অনেক বেশি জমিতে আমনের চাষ করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়