চাঁদপুর, শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯, ১১ রজব ১৪৪৪  |   ১৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় রিয়া হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন
  •   কোস্টগার্ডের অভিযানে চাঁদপুর কোর্ট স্টেশনে ১৩শ’ কেজি জাটকা জব্দ
  •   ডাঃ সাজেদা পলিন নড়াইলের সিভিল সার্জন
  •   মতলবের আনন্দবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচটি দোকান পুড়ে ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি
  •   ভাষার মাসের প্রথমদিনে বাংলায় রায় দিলেন হাইকোর্ট

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০০:০০

আওয়ামী লীগে যখন দেখি অযোগ্য লোক, তখন অসন্তুষ্টিতে ভুগি
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

আবদুর রব খোকন বিএসসি। অনেক চরাই-উৎরাই পেরিয়ে জীবনের শেষ বয়সে ছেলেদের নিয়ে বেশ ভালো আছেন। ইন্টারমিডিয়েট ২য় বর্ষে পড়ার সময়ে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করার ইচ্ছা নিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। ১৯৭১ সালে তিনিসহ ৭২ জন ছাত্র একত্রে কুমিল্লার গোমতী নদী পার হয়ে ভারতে পাড়ি জমান। সেখান থেকে ট্রেনিং নিয়ে চলে আসেন নিজ গ্রাম হাজীগঞ্জের কাপাইকাপে। কাপাইকাপ, নাসিরকোট, ফুলছোঁয়া গ্রামসহ আশেপাশে সরাসরি যুদ্ধ করেছেন। নাসিরকোট কলেজের সামনে যে ৯ জন শহীদ শুয়ে আছেন তাদের অধিকাংশ শহীদ যুদ্ধ ক্ষেত্রে তার সহযোদ্ধা ছিলেন। ব্যক্তি জীবনে ৬ সন্তানের জনক খোকন বিএসসির বড় ছেলে বর্তমান সরকারের উপ-সচিব, তারপর ধারাবাহিকভাবে সন্তানরা প্রবাসী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাডভোকেট, এমবিবিএস চিকিৎসক ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০০২ সালে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়ে নিজ বাবার নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি খোকন বিএসসির পারিবারিক অর্থায়নে চলছে।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের আয়োজন ‘বিজয়ের মাস ডিসেম্বর : কেমন আছেন মুক্তিযোদ্ধাগণ’ আজকের পর্বে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আবদুর রব খোকন বিএসসি। বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষা নয় সুশিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। তার আরো না বলা কথাগুলো চাঁদপুর কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো :

চাঁদপুর কণ্ঠ : বছর ঘুরে আবার আসলো বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। আপনার অনুভূতি কেমন?

খোকন বিএসসি : বিজয়ের মাস আসলেই ভিন্ন এক অনুভূতি জন্মায় মনে। এ মাসটির কথা মনে পড়তেই ভাবনায় চলে আসে সেই ৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের বিজয়ের আনন্দের কথা। সেই সময়ের সেই স্মৃতিগুলো বারবার অনুভূতিতে নাড়া দেয়।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সার্বিকভাবে আপনি কেমন আছেন?

খোকন বিএসসি : সার্বিকভাবে ভালো আছি। বর্তমান সরকার তথা জাতির পিতার সুযোগ্য কন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে আমরা মুক্তিযোদ্ধাগণ সব স্থানে সম্মানিত হচ্ছি। সেসব বিবেচনা করলে সত্যিকার অর্থে সার্বিকভাবে ভালো আছি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : ৫২ বছর পূর্বের মুক্তিযুদ্ধের কোন্ স্মৃতি আপনার মনে এখনও জ্বলজ্বল করছে?

খোকন বিএসসি : ৭১ সালে আমি তখন ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে। জাতির পিতার ডাকে মুক্তিযুদ্ধ করার প্রচণ্ড আকাঙ্ক্ষা জাগে মনে। যুদ্ধ করার জন্যে একটা তাড়া জাগলো। ট্রেনিং করার উদ্দেশ্য নিয়ে বাড়ি ছেড়ে যাবো কুমিল্লা হয়ে ভারতে। কুমিল্লা যখন যাই তখন দেখি আমার মতো অনেক ছাত্র ভারতে যাওয়ার জন্যে সমবেত হয়েছে। সে যাত্রায় আমরা ৭২ জন ছাত্র ভারতের উদ্দেশ্যে গোমতী নদী পার হওয়ার জন্য বাঁশের সাঁকোতে উঠি। এই সাঁকোতে উঠার পর পাক বাহিনী আমাদের উপর প্রচুর মর্টার সেল নিক্ষেপ শুরু করে। মাথার উপর দিয়ে যখন এক এক করে মর্টার সেল চলে যাচ্ছিল, সে সময় মনে হচ্ছিল আজই জীবনের শেষদিন। সেই ঘটনা আজো মনে জ্বলজ্বল করে জ্বলে।

চাঁদপুর কণ্ঠ : অনেক রক্তে অর্জিত প্রিয় স্বাধীন দেশের বর্তমান অবস্থায় আপনি কতোটুকু সন্তুষ্ট বা অসন্তুষ্ট?

খোকন বিএসসি : স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা যাই। সে সময় আমি যে মহল্লায় যাই সেখানে গিয়ে দেখি সেই মহল্লায় এক বিহারী বাস করছে। তার অত্যাচারে ঐ মহল্লায় কোনো বাঙালি শান্তিতে থাকতে পারতো না, সেই বিহারীকে পুলিশ সবসময় সাপোর্ট করতো। সেই হিসেবে স্বাধীন দেশ নিয়ে সন্তুষ্টিতে আছি। অপরদিকে স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগে যখন দেখি অযোগ্য লোক প্রবেশ করে আর দলটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তখন আমি তা দেখে খুব অসন্তুষ্টিতে ভুগি।

চাঁদপুর কণ্ঠ : সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাতেই মানুষের জন্ম/মৃত্যু। মাফ করবেন, তবুও জানার ইচ্ছা, আপনি আর কতোদিন বাঁচতে চান?

খোকন বিএসসি : বাঁচা-মরা নিয়ে আমার নিজের কোনো ইচ্ছা নেই, এটি পুরোপুরি আল্লাহর ইচ্ছা।

চাঁদপুর কণ্ঠ : বর্তমান বা পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আপনি কী কথা রেখে যেতে চান?

খোকন বিএসসি : বর্তমান বা পরবর্তী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে আমার একটাই কথা, তা হলো-তোমরা শিক্ষা নয় সুশিক্ষা গ্রহণ করো।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়