চাঁদপুর, সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩  |   ২০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিজেই ব্যালটে সিল মারতে থাকেন

প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০

প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত ‘গ্রাম হবে শহর’ বাস্তবায়নে

গ্রামেই হচ্ছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

গ্রামেই হচ্ছে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
চাঁদপুর কণ্ঠ রিপোর্ট ॥

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘গ্রাম হবে শহর’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এর সাথে সঙ্গতি রেখে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাঁদপুর পৌরসভার অদূরবর্তী লক্ষ্মীপুর গ্রামের লক্ষ্মীপুর মৌজায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ওই গ্রামে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে ক্যাম্পাস ও ভিসির বাসভবন স্থাপনের স্থান চূড়ান্ত করেছে সরকার। অচিরেই সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর জন্যে দ্রুততম সময়ে সেখানে একাধিক ভবন নির্মাণ অথবা সংলগ্ন কোনো ভবন ভাড়া নেয়ারও চিন্তা-ভাবনা চলছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানান ভিসি অধ্যাপক ড. নাছিম আখতার।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চাঁদপুর জেলা সদরে স্থাপনের আইনী বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ সংক্রান্ত পাসকৃত আইনে এমনটি বলা হয়েছে। সম্প্রতি স্থান পরিবর্তন সংক্রান্ত যে দাবি উত্থাপিত হচ্ছে তা বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম চালু বিলম্বিত করার চক্রান্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদাহরণ টেনে তারা বলেন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ অনুমোদন ও ক্লাস শুরু হওয়ার কয়েক বছর পরও শুধুমাত্র স্থান নির্ধারণ সংক্রান্ত জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে মেডিকেল কলেজটি। এখন পর্যন্ত স্থান নির্ধারণই সম্ভব হয়নি চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের। এ অবস্থায় চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের স্থান চূড়ান্ত হওয়াকে ইতিবাচক বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুমোদনের পর প্রাথমিক স্থান নির্ধারণ করা হয়। এরপর খসড়া আইন পাস হয় মন্ত্রিসভায়। পরর্তীতে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয় সংসদে। প্রকাশিত হয় গেজেট। আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ করা হয় চাঁদপুর সদর উপজেলায়। বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক টিমের পর্যবেক্ষণ, মতামত এবং সুপারিশের ভিত্তিতে ভৌগোলিকসহ নানা কারণে তিন জেলা থেকে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় সুবিধাজনক স্থান হিসেবে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে খাসজমিসহ ৬২ একর প্রায় খালি জায়গায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।

ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি অধিগ্রহণের নিয়ম অনুয়ায়ী ৫০ বিঘার বেশি জমি অধিগ্রহণ করতে হলে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সে হিসেবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তাবিত এলাকায় স্থাপনের জন্যে ভূমি অধিগ্রহণের জন্যে ফাইল অনুমোদন প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর ভূমি মন্ত্রণালয় দ্রুত সময়ে জমি অধিগ্রহণের জন্যে নির্দেশনাও প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত স্থানে বিজ্ঞাপন ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণসহ অন্যান্য কার্যক্রম চূড়ান্তভাবে শুরু হয়েছে।

গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্যে সংসদে বিল পাসের প্রস্তাব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এবং প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সংসদে বিল পাস হয়। এর আগে ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় খসড়া আইনটি পাস হয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। ২০২১ সাল থেকে ২৫ জানুয়ারি প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও কম্পিউটার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছিম আখতারকে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। চাঁদপুরবাসী এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে কবে নাগাদ জেলার প্রথম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়