রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৪৩তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্ধোধন
  •   কচুয়ায় কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  •   স্বাক্ষর জাল করে আওয়ামীলীগের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ
  •   বিএনপির মানিক-শাহীন দুই গ্রুপের সাথে যুগ্ম মহাসচিবের সভা
  •   কচুয়ায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০

জেলা বিএনপির সম্মেলন অনিশ্চিতই রয়ে গেলো!
কামরুজ্জামান টুটুল ॥

চাঁদপুর জেলা বিএনপি কমিটি গঠনের প্রস্তুতিকালে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতাকে কাউন্সিলর না করার বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। দলীয় গঠনতন্ত্রের সাথে কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হওয়ার কারণে জেলা বিএনপির সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। গত ২৩ অক্টোবর উক্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো। যে সকল কারণে এই সম্মেলন পিছিয়ে দেয়া হয় সেই একই কারণে ফের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে জেলা বিএনপির আসন্ন সম্মেলন। বিষয়টি চাঁদপুর কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন জেলা বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ২০ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স স্বাক্ষরিত পত্র দেয়া হয় জেলা বিএনপিকে। ঐ পত্রে বলা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক চাঁদপুর জেলা কাউন্সিলরদের তালিকা ও পৌর ইউনিটের অনুমোদিত তালিকা কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠানো জন্য।

অপরদিকে গত ৩০/১০/২০২০ তারিখে জেলা বিএনপি আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর চাঁজেবি ২০/২০২০ স্মারকে চিঠি পাঠান। এতে বলা হয়, জেলা ৮টি উপজেলা ও ৭টি পৌরসভার সম্মেলন সমাপ্ত হয়েছে। সেই আলোকে জেলা বিএনপির সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা চাওয়া হয়।

এ ছাড়াও গত ২৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স প্রেরিতপত্রে চাঁদপুর জেলা বিএনপির সম্মেলন করার জন্যে ২৩ অক্টোরব ২০২১ তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি জানানো হয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে গতকাল ২৩ অক্টোরব শনিবার জেলা বিএনপির সম্মেলন আর অনুষ্ঠিত হয়নি।

জানা যায়, জেলার সকল উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় বিভিন্ন সময়। জেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে উক্ত কমিটিগুলো গঠন করা হয়। কমিটিগুলো গঠন শেষ হয়েছে এমন বিষয়টি জানিয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক গত ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে চিঠি পাঠান। জেলার ৮টি উপজেলা ও ৭টি পৌর কমিটির মধ্যে মোট ১ হাজার ৫শ’ ১৫ জন কাউন্সিলর পদে স্থান পায়। মূলত এই সকল কাউন্সিলর ভোটাধিকারের মাধ্যমে জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করবেন। জেলার সকল উপজেলা ও পৌর কমিটিতে দেড় হাজারের অধিক নেতা-কর্মী কাউন্সিলর হলেও অজ্ঞাত কারণে কাউন্সিলর হতে পারেননি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বহুজনে। এদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডঃ সলিমউল্যাহ সেলিম, মাহবুব আনোয়ার বাবলু, সেলিমুস্ সালাম, কাজী গোলাম মোস্তফা, খলিলুর রহমান গাজী, ফেরদৌস আলম বাবু, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, মাহবুবুর রহমান শাহীন, জসিম উদ্দিন খান বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তফা খান সফরী, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি রাশেদা বেগম হীরা প্রমুখ।

বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা মোতাবেক কেউ প্রার্থী হতে হলে তাকে কাউন্সিলর হতে হবে। বাদ পড়ার কারণে এদের অনেকে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী হতে পারছেন না। এমনকি এমন সকল শীর্ষনেতাকে বাদ দেয়াটাকে দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ভালোভাবে মেনে নিচ্ছে না।

আবার কাউন্সিলর হয়েছেন এমন ভাগ্যবান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, সাবেক এমপি হারুনুর রশিদ, কেন্দ্রীয় নেতা আলহাজ্ব আঃ হান্নান, মোতাহার হোসেন পাটোয়ারী, ড. জালাল উদ্দিন, মোশারফ হোসেন প্রমুখ। এই নেতৃবৃন্দ যে কেউ চাইলে জেলা বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী হতে পারবেন। আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ প্রার্থী হতে চাইলে বিএনপির গঠনতন্ত্রের ১৫ ধারা মোতাবেক এক নেতার এক পদ সেই নির্দেশনাকে রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় পদ বা অন্য পদ থেকে সরে যেতে হবে।

বাদ পড়া শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুনভাবে সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। নতুনভাবে এই দুটি কমিটি করতে গিয়ে গঠনতন্ত্রের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ভাঙ্গা হচ্ছে দু’টি কমিটি। সদর উপজেলা ও পৌর কমিটি ভেঙ্গে যাদেরকে নেয়া হবে তাদের জন্য বিষয়টি সুখকর হলেও ভেঙ্গে দেয়া কমিটি থেকে যারা বাদ পড়বে তাদের কীভাবে মূল্যায়ন করবে বিএনপি সেটাই দেখার বিষয়।

ভিন্ন একটি সূত্রে জানা যায়, কোভিডের এই সময়ে জেলা বিএনপির সম্মেলন করাকালে বিশাল নেতা-কর্মীর উপস্থিতি কতোটা স্বাস্থ্যসম্মত হবে সেটা নিয়ে অনেকে রয়েছেন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলার ঘটনায় প্রশাসন কর্তৃক এই সম্মেলন করার অনুমতি নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। হাজীগঞ্জে মন্দির ও পূজাম-প ভাংচুর হওয়ায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির একটা বড় অংশকে পুলিশ মামলায় জড়িয়ে বাড়ি ছাড়া করেছে। যারা বাড়িছাড়া রয়েছেন তাদের অনেকে উপজেলা বা পৌর কমিটিতে কাউন্সিলর হিসেবে রয়েছেন, যারা কোনোভাবেই সম্মেলনে যোগ দিতে পারবেন না। এমন সব নানান জটিলতা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে জেলা বিএনপির সম্মেলন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি লায়ন ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক এ বিষয়ে বলেন, জেলা নেতাদেরকে বাদ দিয়ে জেলা কমিটি গঠন করা যায় না। এটা নিয়ে আমাদের নিজেদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু বিষয় বিএনপি গঠনতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়