শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় পুকুর থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার
  •   মোলহেডকে বঙ্গবন্ধু পার্ক নামে অনুমোদন দিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

দেশের ১ম সর্বোচ্চ করদাতার ট্যাক্সকার্ড ও সম্মাননা গ্রহণ করলেন হাজী মোঃ কাউছ মিয়া
স্টাফ রিপোর্টার ॥

চাঁদপুরের কৃতী সন্তান হাজী মোঃ কাউছ মিয়া ২০২০-২১ করবর্ষে ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে সমগ্র বাংলাদেশের ১ম সর্বোচ্চ করদাতার ট্যাক্সকার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন। ২৪ নভেম্বর ঢাকা অফিসার্স ক্লাব অডিটোরিয়ামে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়োজিত ট্যাক্সকার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল। বিশেষ অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মোঃ জসিম উদ্দিন ও অনুষ্ঠানের সভাপতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মুনিম হাজী মোঃ কাউছ মিয়ার হাতে এবারের দেশসেরা করদাতার ট্যাক্সকার্ড সম্মাননা তুলে দেন।

দেশের প্রবীণ ব্যবসায়ী ও দানবীর হাজী মোঃ কাউছ মিয়া এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে ১৯ বার শীর্ষ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।

এছাড়া মুজিববর্ষে দেশের অগণিত সব বাঘা বাঘা ব্যবসায়ীকে পেছনে ফেলে দেশসেরা একক করাদাতা নির্বাচিত হন। ২০২১ সালের ৫ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ মুজিববর্ষের সেরা করদাতা হিসেবে তাঁকে নির্বাচিত করে। আর এ সম্মাননা শুধু তিনি একাই পান। আর সেজন্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তাঁকে সম্মাননা প্রদান করে।

১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ১ নম্বর করদাতা হয়েছিলেন চাঁদপুরের গর্বিত সন্তান কাউছ মিয়া। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি দেশের সর্বোচ্চ করদাতার একজন। এই নিয়ে তিনি টানা ১৯ বার দেশসেরা করদাতা নির্বাচিত হয়ে অনন্য রেকর্ড গড়েন। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যবসায়ী কাউছ মিয়ার পর্যায়ে ধারাবাহিক এতোবার সেরা করদাতার রেকর্ড গড়তে পারেনি। প্রতিবারই শীর্ষ করদাতাদের তালিকায় তাঁর নাম থাকছে সবার উপরে।

হাজী মোঃ কাউছ মিয়া মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ১মসহ ঊনিশবার সেরা করদাতা নির্বাচিত হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোঃ রাহমাতুল মুনিমকে এবং দেশবাসীকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

দেশের সেরা আয়কর প্রদানকারী হাজী মোঃ কাউছ মিয়া ৯২ বছরেও প্রতিদিন অফিস করেন। নিজেই ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের খুঁটিনাটি তদারকি করেন। জর্দা ব্যবসা ছাড়াও আগে থেকেই তাঁর বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। যার কিছু ব্যবসা বয়সের কারণে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন, আবার কিছু ব্যবসা রেখেও দিয়েছেন।

১৯৩১ সালের ২৬ আগস্ট কাউছ মিয়া চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাজী আব্বাস আলী মিয়া ও মাতা মরহুমা হাজী মোসাম্মৎ ফাতেমা খাতুন (জমিদার কন্যা)।

তখনকার সময় ভারতবর্ষের ত্রিপুরা ডিস্ট্রিক্ট ছিলো পূর্বে আগরতলা ও পশ্চিমে কলকাতা পর্যন্ত। তিনি যে বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তৎকালীন আমলের সামুগাদী চরবাহাদুর গ্রামে কাউছ মিয়ার বাবার শুধু বাড়িটিই ছিলো ৮৩৭ শতাংশ জমি নিয়ে। আর তাদের শত শত বিঘা কৃষিজমিতো ছিলোই। তাঁদের বাড়ি ‘হাজী বাড়ি’ হিসেবে পরিচিত ছিলো।

কাউছ মিয়ার ৮ নানা ছিলেন জমিদার। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হবার পর ১৯৫৬ সালে সরকার প্রত্যেক জমিদারকে ১শ’ একর করে জমি বুঝিয়ে দেয়। কাউছ মিয়ার বড় বাবা নানার পিতা আজগর দেওয়ান। তিনি ছিলেন ১৭০০ সালের প্রতাপশালী জমিদার। তাঁর ছিল ৭ ছেলে ও ১ মেয়ে।

৯২ বছরে পা রাখা কাউছ মিয়ার বয়স একানব্বই পার হলেও তিনি এখনো প্রাণবন্ত। কাউছ মিয়া মনে করেন, মানুষ যদি শরীর ও মনের দিক থেকে সুস্থ থাকে, সেটি আল্লাহর নেয়ামত। আল্লাহর রহমত ছাড়া কেউ সুস্থ থাকতে পারে না।

তিনি বলেন, রাব্বুল আলামিনের কাছে শোকরিয়া, আল্লাহ আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছেন। ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টানা ৭১ বছর এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করছি।

১৯৫৪ সাল থেকে এ যাবৎ ২২ বার দেশে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। দেশের যে প্রান্তেই বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙ্গন, পাহাড়ধস হয়েছে এবং ২০২০ সালে যখন বৈশ্বিক করোনা মহামারি দেখা দেয় তখনসহ প্রতিটি দুর্যোগে তিনি বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ত্রাণ-সাহায্য দিয়েছেন।

১৯৮৮-এর ভয়াবহ বন্যার সময় টানা একমাস, ১৯৯৮-এর বন্যার সময় প্রায় দুই মাস দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিবন্দী মানুষের দোরগোড়ায় রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়ে কাউছ মিয়া দেশ-বিদেশে বেশ সুনাম অর্জন করেন। ২০২০ সালে মানুষ যখন মরণব্যাধি করোনাভাইরাসে দিশেহারা, এ সময়েও প্রায় ৭/৮ কোটি টাকার ত্রাণসহায়তা দিয়ে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

করোনার দুঃসময়ের মধ্যেও দেশে পাঁচবার বন্যা হয়েছে। সেই বন্যাকবলিত এলাকায় তিনি তাঁর বিশ^স্ত লোক দিয়ে ত্রাণসহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন। এভাবেই চব্বিশ বছর বয়স থেকে ৬৭ বছর যাবৎ মানবসেবা করে যাচ্ছেন হাজী মোঃ কাউছ মিয়া।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়