শুক্রবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৭ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   কচুয়ায় পুকুর থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার
  •   মোলহেডকে বঙ্গবন্ধু পার্ক নামে অনুমোদন দিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট

প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ০০:০০

নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে
প্রবীর চক্রবর্তী ॥

ফরিদগঞ্জ মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলা সদরস্থ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারস্থ শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলা উদ্যাপন কমিটি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলী হরি, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদেকুন্নাহার, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জি এস তছলিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সহিদ উল্যা তপাদার, ডেপুটি কমান্ডার সরোয়ার হোসেন, প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান মিটু, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ শাহআলম প্রমুখ।

দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে র‌্যালি বের হয়ে হয়ে পৌরসভা মাঠে এসে শেষ হয়। পরে জাতীয়, আওয়ামী লীগের পতাকা ও বিজয় মেলার পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা মাঠে পৌর মেয়র আবুল খায়ের পাটওয়ারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম রোমান। এ সময় তিনি বলেন, যতই দিন যাচ্ছে, আমরা আমাদের সূর্য সন্তানদের এক এক করে হারিয়ে ফেলছি। স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছিলেন বলেই আমরা আজ স্বাধীন জাতি। আজ জনপ্রতিনিধি হয়ে দুটি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারপরও আমাদের অতীতকে ভুলে গেলে চলবে না। মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই ইতিহাস আমাদের তথা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে জানতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানাতে মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি আমাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আমরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ওয়াপদা মাঠ বা বর্তমানে যেটি পৌরসভা মাঠ হিসেবে চিহ্নিত সেই মাঠে বিজয় মেলা করে আসছি। আমাদের অনেকেই জানেন না ফরিদগঞ্জে প্রথম মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল ওই ওয়াপদা রেস্ট হাউজ। এই মাঠে মুক্তিযোদ্ধারা কিছুদিনের জন্য হলেও ট্রেনিং নিয়েছেন। তাই এই স্থান এবং রেস্ট হাউজটি আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহনকারী ফরিদগঞ্জের ওয়াপদা রেস্ট হাউজকে সংরক্ষণ করতে হবে, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমি দাবি জানাচ্ছি। রেস্ট হাউজটিকে স্মৃতি হিসেবে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সাথে সাথে এটি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আমরা বেঁচে থাকতে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি চিহ্নগুলোকে এভাবে বিলীন হতে দিতে পারি না। মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে শেষ হওয়ার নয়। কীভাবে এদেশের সাধারণ মানুষ পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছিল, কীভাবে ফরিদগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়েছিল, এসব তথ্য নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে। তবেই স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পাওয়া সম্ভব হবে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভাইস চেয়ারম্যান জিএস তছলিম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সহিদউল্যা তপাদার, ডেপুটি কমান্ডার সরোয়ার হোসেন, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক সফর আলী, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংসদ ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মশিউর রহমান মিটু, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোঃ শাহ-আলম, সহ-সভাপতি আহসান হাবিব নেভী প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধের প্রচ- প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তান বাহিনী ফরিদগঞ্জ ছেড়ে চাঁদপুরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও নিরস্ত্র জনতার প্রচ- প্রতিরোধে মুখে তারা সর্বশেষ এইদিন উপজেলার ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তায় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণের মুখে পড়ে। সেখান থেকে চাঁদপুরে পালিয়ে যাওয়ার সময় পাক বাহিনী সাধারণ মানুষের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে পিছু হটে। এ সময় পাক বাহিনীর গুলিতে বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ মৃত্যবরণ করে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়