চাঁদপুর, শনিবার, ২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ২ জিলহজ ১৪৪৩  |   ৩২ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুরের সাবেক এসপি কৃষ্ণ পদ রায় সিএমপির কমিশনার
  •   চাঁদপুরের রোটার‌্যাক্ট ক্লাবগুলোর জিরো আওয়ার সেলিব্রেশন প্রোগ্রাম
  •   চাঁদপুর পৌরসভার অর্থায়নে একটা ব্লাড ব্যাংক করবো
  •   বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে
  •   রোটারিয়ানগণ সেবামূলক যে মহৎ কার্যক্রম করছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

মিথ্যা মামলা দিয়ে ছাত্র ও গণমাধ্যমকর্মীকে হয়রানির অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মান্দারী গ্রামের মৃত আলী হোসেন কাজীর ছেলে মোঃ মজিব কাজী এলাকার নিরীহ লোকজনের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে চলছে বলে জানা গেছে।

পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিহিংসাপরায়ণ মজিব কাজী কর্তৃক সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াটি মামলার মারাত্মক হয়রানির হাত থেকে অত্র গ্রামের নিরীহ লোকজন, সাধারণ ছাত্র, গণমাধ্যমকর্মী কেউই রেহাই পাচ্ছে না। এর ফলে এলাকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষজন মারাত্মকভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। কেননা তার এই মিথ্যা মামলার হয়রানিতে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হয়ে নিরীহ লোকজন নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বর্তমানে মজিব কাজীর এহেন মিথ্যা মামলার কারণে এলাকার সচেতন জনমনে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এছাড়া মান্দারী গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলাপূর্ণ সামাজিক পরিবেশও দিন দিনই বিঘিœত হচ্ছে। ফলে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এলাকাবাসী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা যায়, মান্দারী গ্রামের স্থায়ী অধিবাসী মোঃ মোস্তফা কাজীর দুই পুত্র যথাক্রমে ওমর শরীফ (৩৫) ও সাব্বির কাজী (২৬)। এদের মধ্যে প্রথমোক্তজন দৈনিক চাঁদপুর সংবাদের স্টাফ রিপোর্টার এবং অপরজন চাঁদপুর সরকারি কলেজের ¯œাতক কলা বিভাগে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। এই গণমাধ্যমকর্মী এবং নিরীহ সাধারণ ছাত্র দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে থানায় কিংবা আদালতে কোনো ধরনের অভিযোগ, মামলা-মোকদ্দমা ছিলো না। তাদের সাথে এলাকার সকলের সদ্ভাব রয়েছে এবং এলাকাবাসী তাদের দুই ভাইকে অত্যন্ত ভালো জানে। মজিব কাজী কর্তৃক এহেন মিথ্যা মামলা দায়ের করায় সকলেই হতবাক ও বিস্মিত হয়েছে।

উক্ত মজিব কাজী গত ৯ মার্চ ২০২২ তারিখে চাঁদপুরের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি দরখাস্ত মোকদ্দমা নং-১৯৬/২০২২ খ্রিঃ দায়ের করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৭(সি) ধারার বিধান মোতাবেক ৩ জনকে প্রতিপক্ষ করেন। এরা হলেন মোঃ সবুজ গাজী (৩০) (পিতা আনোয়ার গাজী), মোঃ শরীফ কাজী (৩৫) (কথিত মোঃ শরীফ কাজী বস্তুত জাতীয় পরিচয়পত্র মোতাবেক ওমর শরীফ) (পিতা মোঃ মোস্তফা কাজী) ও সাব্বির কাজী (২৬) (পিতা মোঃ মোস্তফা কাজী, সর্ব সাং : মান্দারী, পোঃ মহামায়া, থানা ও জেলা : চাঁদপুর)। প্রার্থী বা বাদী উক্ত মামলায় ঘটনার তারিখ হিসেবে ১ মার্চ ২০২২ উল্লেখপূর্বক রোজ বা বার দেখিয়েছেন শনিবার এবং সময় ব্যক্ত করেছেন সকাল আনুমানিক ৯টার সময়। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্ভট। বর্ণিত ঘটনার তারিখে রোজ বা বার ছিলো মঙ্গলবার; কোনো অবস্থাতেই তা শনিবার ছিলো না।

সেই সাথে উক্ত আজগুবি ও কাল্পনিক মামলায় প্রার্থী বা বাদী যে আষাঢ়ের গল্পের ফাঁদ পেতেছেন তাতে মামলার সময় হিসেবে তিনি যে ঘটনাস্থলের সময় উল্লেখ করেছেন, সে সময় গণমাধ্যমকর্মী ওমর শরীফ অর্থাৎ প্রার্থী বা বাদী কর্তৃক কথিত মোঃ শরীফ কাজী সে সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। তিনি সেইসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেড-এর জাতীয়ভাবে ঘোষিত সরকারি একটি কর্মসূচিতে এবং পরবর্তীতে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সরকারি একটি কর্মসূচিতে। যার সুস্পষ্ট এবং উপযুক্ত ও দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণাদি রয়েছে। উক্ত আষাঢ়ের গল্পের মামলায় প্রার্থী বা বাদী সম্পূর্ণ সাজানো, মিথ্যা ও ভুল তথ্য সন্নিবেশিত করে জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালিয়েছেন। সেই সাথে বিজ্ঞ আদালতে সম্পূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন।

সাংবাদিক ওমর শরীফ সেই সময় এবং দিনভর তার সাংবাদিকতার প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক পৃথক দুটি স্থানে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিমিত্তে একটিতে জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে কর্মসূচির সচিত্র সংবাদ তৈরিতে নিয়োজিত ছিলেন। এমনকি ওইদিন এই দায়িত্ব পালনের পর পর তিনি চাঁদপুর শহরের ষোলঘর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়েও সেখানে তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির নিউজ কভারেজ-এর জন্যে ফটোসেশন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও নেতৃবৃন্দের বক্তব্য সংগ্রহে নিয়োজিত ছিলেন। যার উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।

এই দুটি সরকারি ও জাতীয় কর্মসূচির সচিত্র সংবাদ তৈরির কারণে তার (সাংবাদিক ওমর শরীফের) চাঁদপুর শহরেই দীর্ঘ সময় কেটে যায়। সন্ধ্যার পরে কোনো এক সময় তিনি তার নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। পরদিন অর্থাৎ ২ মার্চ ২০২২ তারিখে দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় উল্লেখিত দুটি বিষয়ের নিউজই সচিত্র সংবাদ আকারে তার নিজ নামে (ওমর শরীফ) প্রকাশিত হওয়ার দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণাদি সংরক্ষিত আছে। অথচ প্রার্থী বা বাদী তার সাজানো ও মিথ্যা মামলায় অর্থাৎ তার মামলার আরজি বা বর্ণনায় উল্লেখিত ব্যস্ত ও নিয়োজিত থাকার সময়টিকেই উল্লেখ করে বস্তুত প্রার্থী বা বাদী নিজেই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলার নামান্তর হিসেবে আত্মঘাতী হওয়ার ফাঁদ পেতে সচেতন এলাকাবাসীর কাছে নিজেই হাস্যকর হয়েছেন।

কেননা দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আবদুর রহমান কর্তৃক স্বাক্ষরিত গত ২৮/২/২২খ্রিঃ তারিখের অফিস আদেশের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন ০১/০৩/২০২২ তারিখ বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্র চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেডে এবং পরবর্তীতে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন বলেই পরদিন অর্থাৎ ০২/০৩/২০২২খ্রিঃ তারিখের দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় পৃথক দুটি সচিত্র সংবাদ ওমর শরীফ নামে প্রকাশিত হওয়ার প্রমাণাদি রয়েছে।

এ ব্যাপারে দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, ওমর শরীফ দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। তাকে আমি গত ২৮/২/২২খ্রিঃ তারিখে এক অফিস আদেশের মাধ্যমে পরদিন অর্থাৎ ০১/০৩/২০২২খ্রিঃ তারিখে বঙ্গবন্ধু পর্যটন কেন্দ্র চাঁদপুর বড় স্টেশন মোলহেডে চাঁদপুর জেলা টাস্কফোর্স কমিটি কর্তৃক জাটকা রক্ষা অভিযানের উদ্বোধন, জনসচেতনতায় নৌ-র‌্যালি এবং মহড়ার আয়োজন অনুষ্ঠানের সচিত্র সংবাদ পরিবেশনের জন্যে দায়িত্ব প্রদান করি। উল্লেখ্য, উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া ওইদিন পরবর্তী সময়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে অপর একটি কর্মসূচির সংবাদ ও ছবি সংগ্রহের জন্য উক্ত অফিস আদেশের মাধ্যমে দায়িত্ব প্রদান করি। আমার জানা মতে এবং বিশ্বাস মতে, ওইদিন স্টাফ রিপোর্টার ওমর শরীফ উল্লেখিত পৃথক দুটি স্থানে পৃথক সময়ে উপস্থিত থেকে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং ছবি তোলা সাপেক্ষে পৃথক পৃথকভাবে দুটি সচিত্র সংবাদ ওইদিন সন্ধ্যা ৮টায় দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকায় প্রেরণ করে। আমি পরদিন অর্থাৎ ০২/০৩/২০২২খ্রিঃ তারিখে দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় নিউজের গুরুত্ব অনুযায়ী পৃথক পৃথক স্থানে প্রতিবেদক কর্তৃক তৈরি করার কারণে ওমর শরীফ নামেই যথারীতি দুটি সচিত্র সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করি। এতে স্পষ্টত প্রতীয়মান হয়, ওইদিন ওমর শরীফ দীর্ঘসময় চাঁদপুরে থেকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত ছিলো।

এ ব্যাপারে দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ওমর শরীফ জানান, উক্ত মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। যার উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে। উক্ত মামলার প্রার্থী বা বাদী পূর্বশত্রুতার জের ধরে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছে। মামলার ঘটনার সময় অনুযায়ী আমি সেইসময় দৈনিক চাঁদপুর সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মহোদয়ের অফিস আদেশ পালনে অর্থাৎ আমার পেশাগত দায়িত্ব পালনে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদপুর শহরের পৃথক দুটি স্থানের কর্মসূচিতে নিয়োজিত ছিলাম। যার সুস্পষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ রয়েছে।

সাংবাদিক ওমর শরীফ আরও বলেন, উক্ত সাজানো ও মিথ্যা মামলার প্রার্থী বা বাদী মজিব কাজীর সাথে আমাদের জমি-জমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা রয়েছে। এ সংক্রান্তে আমাদের একটি জিআর মামলার সে আসামী। পূর্বশত্রুতার জের ধরে সম্পূর্ণ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে মজিব কাজী আমাকে এবং আমার ছোট ভাইকে ব্যাপক হয়রানি করে মান-সম্মান নষ্ট ও আর্থিকভাবে ক্ষতি করার জন্যেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এহেন ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলা আমাদের নামে সাজিয়ে চাঁদপুরের বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করেছে। আমি এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির আশু সুদৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করি। যাতে এ সাজানো ও মিথ্যা মামলা দায়েরের নেপথ্যে প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয় এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা সাপেক্ষে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় ও অক্ষুণœ থাকে। এ ব্যাপারে চাঁদপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে সনির্বন্ধ অনুরোধ করছি।

এ ব্যাপারে সমাজ গবেষক অভিজ্ঞ ও পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, পল্লীর প্রত্যন্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বৃহত্তর জনস্বার্থে তথা জনগণকে সকল ধরনের মিথ্যা মামলায় নিরুৎসাহিত করার জন্যে চাঁদপুর জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থাগ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। নচেৎ দিন দিনই উক্ত এলাকার সামাজিক পরিবেশ পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটতে থাকবে। তাই তারা অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়