শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২  |   ২৯ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   ড্রেজার ধ্বংস করাসহ মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
  •   শাহরাস্তিতে আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন
  •   ফরিদগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে ছাত্রলীগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী
  •   হাজীগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত
  •   ভুয়া দুদক কর্মকর্তা সেজে চাঁদা দাবি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২২, ০০:০০

চিতোষী আরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রকাশ্য প্রাইভেট বাণিজ্য
শাহরাস্তি ব্যুরো ॥

শাহরাস্তি উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা চিতোষী, এখানে একটি কলেজ ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় এ এলাকাকে আলোকিত করে রেখেছে। অত্র অঞ্চলের শিক্ষার ক্ষেত্রে এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বিগত করোনাকালীন সময়ে অত্র অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়লেও বর্তমানে আবারো পুরোদমে ক্লাস শুরু হওয়ায় খুশি শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এই সুযোগে কিছু শিক্ষক প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক প্রাইভেট বাণিজ্যে ঝাাঁপিয়ে পড়েছেন। এমন দৃশ্যের দেখা মিলেছে চিতোষী আরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে। অত্র বিদ্যালয়ের দু শিক্ষক প্রকাশ্যে বাজারের ওপর অবস্থিত একটি ভবন শুধুমাত্র প্রাইভেটে পড়ানোর জন্যে ভাড়া নিয়ে সকাল থেকেই প্রাইভেট বাণিজ্যে নিয়োজিত হয়ে পড়েন। দলে দলে চিতোষী আরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভোরেই ছুটে আসেন প্রাইভেটে অংশ নিতে। ভবনের নিচে স’মিল উপরে শিক্ষার্থীদের দল বেঁধে উপরে ওঠার দৃশ্য দেখে ভবনটিতে প্রবেশ করেই দেখা মিলে দু শিক্ষক আলাদা আলাদাভাবে প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। একজনের হাতে বেত আরেক জনের হাতে রয়েছে একটি বই। তাদের পরিচয় নিয়ে জানা গেলো এ দু শিক্ষক চিতোষী আরএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একজন গণিতের মাহফুজার রহমান, আরকেজন কৃষি শিক্ষার সাফায়েত হাসনাইন।

এভাবে শিক্ষানীতি না মেনে প্রাইভেট বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া কতোটা উচিত জানতে চাওয়া হলে গণিতের শিক্ষক মাহফুজুর রহমান বেত হাতে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তিনি পাল্টা প্রশ্ন করে জানতে চান, সবাই তো পড়ায়, আপনারা ওইখানে যান না কেন, শুধুই আমাদেরকে দেখছেন? শিক্ষানীতি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি বলেন, আমাদের স্কুল থেকে আমাদেরকে প্রাইভেট পড়ানো যাবে না এমনটি কেউ বলেনি। তিনি আরো বলেন, আপনারা কেন এসেছেন? কে আপনাদেরকে বলেছে? তবে কৃষি শিক্ষক সাফায়েত হাসনাইন জানান, তিনি সব বিষয়েই শিক্ষার্থীদের পড়িয়ে থাকেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা ১৫-২০ জনের গ্রুপ করে স্যারের কাছে পড়তে আসেন, মাস শেষে তারা অর্থ প্রদান করে থাকেন।

এ বিষয়ে চিতোষী আরএম উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমানের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, শিক্ষানীতি-২০১২ বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। আমি যোগদানের পূর্বে স্কুল আঙ্গিনায় প্রাইভেট পাড়ানো হতো। আমি যোগদানের পর তা বন্ধ করে দেই। স্কুল সীমানার বাইরে কেউ যদি প্রাইভেট পড়িয়ে থাকেন তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী প্রাইভেট পড়ানো যাবে না, আমারা স্কুলে রেজুলেশন করে জানিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য করতে পারবেন না। এ বিষয়ে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। অত্র বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হুমায়ুন রশিদ জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাইভেট পড়ানো যাবে না। এ বিষয়ে আমি শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্যে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান প্রধানকে পত্র দিয়েছি। এরপরও যদি কেউ এ কাজটি করে থাকেন তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়