বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০২১  |   ২৫ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুরে মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার উদ্বোধন
  •   আবরার হত্যায় ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০

নিরুত্তাপ বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব

নিরুত্তাপ বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
বিমল চৌধুরী ॥

নিরুত্তাপ বিসর্জন পর্বের মধ্য দিয়ে শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব। অনাড়ম্বর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীগণ তাদের মাতৃরূপী দুর্গাদেবীকে বিসর্জন দেন, ব্যথা ভারাক্রান্ত হৃদয়ের ভক্তি-শ্রদ্ধা দিয়ে। অন্যান্য বছর দশমীযাত্রা শেষে বিসর্জন পর্বে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যেতো, এ বছর জেলা শহরের কোনো পূজা মণ্ডপেই তা দেখা যায়নি। সকলের মাঝেই বিরাজ করছিল এক অজানা আশঙ্কা। তারা গতকাল ১৫ অক্টোবর শুক্রবার দশমীবিহিত পূজা শেষে সুবিধাজনক স্থানে সকাল ৮টা থেকে বিসর্জন পর্ব কার্যক্রম শুরু করেন। এমনটাই পরিলক্ষিত হয়েছে হাজীগঞ্জ, বলাখালসহ জেলা শহরের কয়েকটি স্থানে। জুম্মার নামাজের আগেভাগে বিসর্জন পর্ব শেষ করে অনেক পূজা মণ্ডপ। তবে চাঁদপুর শহরের প্রতিমা বিসর্জন পর্ব শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টার মধ্যে।

চাঁদপুর শহরের চৌধুরীঘাট এলাকায় কালীবাড়ি মন্দির, গোপাল জিউড় আখড়া, মিনার্ভা পূজা মণ্ডপ, প্রতাপ সাহার বাড়ি পূজা মণ্ডপ, পালপাড়া শীতলা মায়ের মন্দির, গুহ বাড়ি পূজা মণ্ডপ, নতুন বাজার ঘোষপাড়া সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, স্বর্ণখোলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, রেলওয়ে হরিজন কলোনী পূজা মণ্ডপের প্রতিমা অনাড়ম্বর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বিসর্জন পর্ব শেষ করেন পূজারীরা। এছাড়াও চাঁদপুর শহরের কু-ের বাড়ি, মজুমদার বাড়ি, পালপাড়া মাখমের বাড়ির ঘট বিসর্জন দেওয়া হয় এ স্থানে। শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন পর্ব শেষ করার লক্ষ্যে বিজিবি, পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা পরিলক্ষিত হয়। বিসর্জনকালীন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি নরেন্দ্র নারায়ণ চক্রবর্তী, জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডঃ রনজিত রায় চৌধুরী পিপি, পূজা পরিষদ নেতা অ্যাডঃ শীতল ঘোষ, রনজিত সাহা মুন্না, বিকাশ মজুমদার টিটু, সঞ্জীত পোদ্দার, কিশোর সিংহ রায়, চন্দন ঘোষসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকায়ও বিকেলের মধ্যে বিসর্জন পর্ব শেষ হতে দেখা যায়। তবে পুরাণবাজারের হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্স ও দাসপাড়া দুর্গা মন্দিরের দেবী প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়নি। তা বিসর্জন হবে আগামী বছর পূজার আগমুহূর্তে মহালয়ার দিনে। পুরাণবাজারে বিসর্জন পর্ব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে পুলিশ প্রশাসনের সাথে দায়িত্ব পালন করেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল সাহা, সুকান্ত সাহা টিটু, নেপাল সাহা, অজিত সাহা, বিপ্লব সাহা, আশীষ দেবনাথ, শ্রীরূপ বর্মন প্রমুখ।

ধর্মীয় বিধি-বিধান মতে দশমীবিহিত পূজা শেষে মন্ত্রপুত মাধ্যমে অতীতে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পূজারীগণ নেচে-গেয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিকেলের পর থেকে শহরে বিসর্জন পর্ব শুরু করেন এবং প্রতিমা বিসর্জন পর্ব শেষ হতে রাত প্রায় ১০টা বেজে যেতো। কিন্তু গতকালকের বিসর্জন পর্বে তা ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। ধর্মীয় উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্নস্থানে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার প্রেক্ষিতে গত অষ্টমী পূজার দিন থেকেই পূজারীদের মাঝে থমথমে ভাব পরিলক্ষিত হয়। তারা শারদীয় উৎসবের আনন্দ পরিহার পূর্বক নিয়মের দেবী বরণে ব্রতী হন। নবমী পূজার দিনে মণ্ডপে দেখা যায়নি আশানুরূপ দর্শনার্থী। যা ছিল খুবই অকল্পনীয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনায় পূজা পরিষদ নেতৃবৃন্দ হতাশা প্রকাশ করেন। সিদ্ধান্ত নেন সকল প্রকার আড়ম্বড়তা পরিহারের। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সন্ধ্যার পূর্বেই নেতৃবৃন্দ বিসর্জন পর্ব শেষ করার অনুরোধ জানান পূজারীদেরকে। সেই মতে শেষ হয় বিসর্জন পর্ব। শেষ হয় দীর্ঘ প্রতীক্ষার সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়