চাঁদপুর, মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯, ২৭ জিলকদ ১৪৪৩  |   ৩৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   অবৈধ দখলদারের কারণে বন্ধ রয়েছে বাবুরহাট জেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণ
  •   ভালোমানের সরঞ্জাম ভালো খেলাকে উৎসাহিত করে : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি
  •   পদ্মা সেতু ভ্রমণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালো কচুয়ার রিয়াদ
  •   শাহরাস্তিতে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক আটক
  •   চাঁদপুরে ১ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২২, ০০:০০

নিপাহ ভাইরাস নিয়ে দেশে গবেষণা, সহায়ক হবে টিকা উৎপাদনে
অনলাইন ডেস্ক

নিপাহ ভাইরাসের টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশে নতুন গবেষণা শুরু করছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর'বি)। সংস্থাটির নেতৃত্বে নরওয়ের দ্যা কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনসের (সেপি) অর্থায়ন ও সমর্থনে এ গবেষণা শুরু হতে যাচ্ছে।

আইসিডিডিআর'বি বলছে, এ গবেষণার মাধ্যমে অত্যন্ত মারাত্মক নিপাহ সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া কয়েকজনের অংশগ্রহণে ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের শরীরের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নিপাহ ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে সহায়তা করবে।

সম্প্রতি আইসিডিডিআর’বি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ৫০ জনেরও অধিক নিপাহ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগী এ গবেষণায় অংশগ্রহণ করবেন। যার লক্ষ্য হচ্ছে পূর্ববর্তী নিপাহ প্রাদুর্ভাবের কারণে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিহ্নিত করা এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে তার পরিবর্তন হয় তা জানার চেষ্টা করা। এই নতুন তথ্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের জন্য টুলস তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করবে। এ গবেষণাটি বাংলাদেশে পরিচালিত হবে, যেখানে প্রায় প্রতি বছরই নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে।

আরও বলা হয়, এই গবেষণাটি পরিচালনার জন্য সেপি ৯ লাখ ৮০ হাজার ডলার সহায়তা প্রদান করবে। সেপি ইতোমধ্যেই মালয়েশিয়ায় ইউনিভার্সিটি অফ মালয়ার সঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের নিয়ে অনুরূপ কার্যক্রম চালাচ্ছে। আইসিডিডিআর'বির এ গবেষণা নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যাকে বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিষয়ক তথ্য উপাত্ত নথিভুক্ত করবে এবং মালয়েশিয়ার আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিপাহ স্ট্রেইনের সঙ্গে তুলনা করা হবে।

নিপাহ ভাইরাসের টিকা/ভ্যাকসিন তৈরির পদক্ষেপ

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ভাইরাস সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পাশাপাশি নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত বায়োলজিকাল উপাদানগুলো নিপাহ ভ্যাকসিনের আসন্ন দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল যা কিনা চলতি ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে তার জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণার টুলস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানদণ্ড উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করবে।

গবেষণার টুলস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্ট্যান্ডার্ডগুলো ইউকে মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সি (এমএইচআরএ) যাদের বায়োলজিকাল স্ট্যান্ডার্ড দক্ষতা আছে এমন বিজ্ঞানীদের সমন্বয় করে প্রস্তুত করা হয়েছে। এই অ্যাসেস ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার স্ট্যান্ডার্ডগুলো সেপি- অর্থায়িত এবং অন্যান্য নিপাহ ভ্যাকসিন ডেভেলপারদের প্রোগ্রামগুলোকে অগ্রসর করতে সহায়তা করবে।

এ প্রকল্পের জন্য সেপির অর্থায়ন যা কিনা ক্লিনিকাল ট্রায়াল এবং নতুন নিপাহ বা আসন্ন সংক্রামক রোগের নতুন প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের স্থানীয় পরীক্ষাগারের সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করবে। সেপির লক্ষ্যমাত্রা যা কিনা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর বৈশ্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রসারিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এই প্রসঙ্গে সেপির গবেষণা এবং উন্নয়ন শাখার নির্বাহী পরিচালক ডা. মেলানি স্যাভিল বলেন, চলমান কোভিড-১৯ সংকট থেকে আমারা বুঝতে পারি যে, যেসব মানুষেরা সংক্রমিত হয়েছে তাদের শরীরে এ ভাইরাস কীভাবে কাজ করে বা এই ভাইরাস শরীরে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় সে সম্পর্কে গবেষণা অতি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করতে পারে। এ ধরনের তথ্য ভ্যাকসিনের মতো জীবন রক্ষাকারী টুলস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ব-নেতৃস্থানীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর’বির সঙ্গে এ নতুন গবেষণাটি নিপাহ ভ্যাকসিনের উন্নয়নে অগ্রসর হওয়ার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ভবিষ্যৎ ভ্যাকসিনের লাইসেন্সকে সমর্থনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও উপাদান সরবরাহ করবে। মহামারি প্রস্তুতির অগ্রগতি ও এই অত্যন্ত মারাত্মক হুমকির ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোকে রক্ষার জন্য এ গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় অংশ নেওয়া নিপাহ থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের আমরা ধন্যবাদ জানাই।

আইসিডিডিআর'বির নির্বাহী পরিচালক ডা. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ভ্যাকসিন গবেষণায় আইসিডিডিআর'বি-র পাঁচ দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। কলেরা, টাইফয়েড, রোটাভাইরাস, হাম, পোলিও, নিউমোনিয়া, ডেঙ্গু, এইচপিডিসহ অনেক ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ও লাইসেন্স অর্জনে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ অবদান রেখেছে। তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আমরা প্রাণী থেকে মানুষে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায় শনাক্তকরণ, রোগের কারণ অনুসন্ধান ও সংক্রমণ গতিশীলতা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করতে বিশ্বের দীর্ঘতম নিপাহ ভাইরাস সার্ভিল্যান্স পরিচালনা করছি।

তাহমিদ আহমেদ বলেন, আমরা নতুন জ্ঞান এবং প্রমাণাদি সংগ্রহের এই মহান উদ্যোগের একটি অংশ হতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত। যা সম্ভাব্য বৈশ্বিক মহামারি অবস্থা তৈরির ক্ষমতা সম্পন্ন নিপাহ রোগের বিরুদ্ধে একটি ভ্যাকসিন উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচাবে।

তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে আমরা যে কাজটি করছি তা আরও শক্তিশালী হবে। আমি এই সুযোগের জন্য সেপির প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

ইউকে মেডিসিনস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট রেগুলেটরি এজেন্সির চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ডা. মার্ক বেইলি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড এবং অন্যান্য রেফারেন্স ম্যাটেরিয়াল তৈরির জন্য আইসিডিডিআর'বির সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উপকরণগুলো সংগ্রহ করা বিশেষ কঠিন, বিশেষভাবে এই ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, ভ্যাকসিন কেনডিডেড ইমিউন রেসপন্স সঠিক পরিমাপের জন্য অ্যাসেসের মানগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ উদ্যোগটি নিপাহ ভ্যাকসিন উন্নয়নের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ যা ঝুঁকিপূর্ণ জনসংখ্যাকে রক্ষা করবে। আমরা এই মূল প্রকল্পে আইসিডিডিআর'বি এর সঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ।

একটি মারাত্মক ভাইরাল হুমকি

নিপাহ ভাইরাস মানুষকে সংক্রমিত করার জন্য সবচেয়ে মারাত্মক প্যাথোজেনগুলোর মধ্যে একটি। প্যারামিক্সোভাইরাস পরিবারের সদস্য টেরোপাস বাদুড়ের (ফ্লায়িং ফক্সসেস) মাধ্যমে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও সংক্রামিত শূকর, সংক্রামিত মানুষ বা বাদুড়ের কামড়ানো ফল বা খেজুরের রসের মতো দূষিত খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত হওয়ার ফলে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ে, শ্বাসযন্ত্র ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এ ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ বলে অনুমান করা হয়।

১৯৯৮/১৯৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে নিপাহ শনাক্ত হওয়ার পর থেকে ভাইরাসটি বাংলাদেশ, ভারত ও ফিলিপাইনে বিক্ষিপ্তভাবে এবং অপ্রত্যাশিত রকমের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে যা হাজার কিলোমিটার অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চল জুড়ে টেরোপাস বাদুড় পাওয়া গেছে। যেখানে দুই বিলিয়নেরও বেশি লোকের বাসস্থান রয়েছে। এমন উদ্বেগও রয়েছে যে, এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভবিষ্যতে আরও অঞ্চলকে প্রভাবিত করতে পারে।

এছাড়াও উদ্বেগ রয়েছে যে, প্যারামিক্সোভাইরাস পরিবারের মধ্যে থেকে ভবিষ্যতের একটি ভাইরাসের জন্য বিশ্বকে প্রস্তুত করা উচিত যা কিনা নিপাহ ভাইরাসের মতো মৃত্যুর হার ও ভাইরাল পরিবারের আরেকটি সদস্য হামের মতো সংক্রমিত হতে পরে। সূত্র : ঢাকা পোস্ট।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়