চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪  |   ২৪ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু
  •   হাজীগঞ্জের কিউসি টাওয়ারে আগুন :  আহত ১০ 
  •   ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শূন্যপদ ২৩০৯
  •   করোনার টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়ার সুপারিশ
  •   চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎষ্পৃষ্টে এক যুবকের শরীর জ্বলসে গেছে

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০

ঋণ খেলাপির ৫ কোটি টাকার সুদ মওকুফের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ
অনলাইন ডেস্ক

ঋণ খেলাপের ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃক এক ব্যবসায়ীর পাঁচ কোটি টাকার সুদ মওকুফের ঘটনা একজন যুগ্ম পরিচালক দিয়ে তদন্তের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ( ২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের অর্থ ঋণ আদালত বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন।

ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সুদ মওকুফ সুবিধা সংশ্লিষ্ট বিআরপিডি সার্কুলারসহ প্রচলিত ব্যাংকিং নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছতার সঙ্গে মওকুফ করা হয়েছে কি না বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন যুগ্ম পরিচালককে দিয়ে তদন্ত করে ২ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া আইনগত খরচ আদায় না করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করায় অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর আদেশের কপি কেন পাঠানো হবে না তা আগামী ২ অক্টোবর আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরীর মেসার্স রেহান ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মনজুরুল আমিন চৌধুরী অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে ঋণ নেন। এ ঘটনায় ২০০৭ সালে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৩ টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য মামলা হয়। ২০১১ সালে আদালত বিবাদীর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। ২০১১ সালে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলে, সোলেনামা জমা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তির আবেদন করেন বিবাদী। কিন্তু সোলেনামার শর্ত মোতাবেক বিবাদী কোনো টাকা পরিশোধ করেননি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালে মামলাটি আবার পুনরায় চালুর আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করলেও গত ১৫ জুন পর্যন্ত ২০ বার সময় নেন বিবাদী।

পরে অগ্রণী ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে আদালতকে জানানো হয়, গত ২১ জুন ৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেন বিবাদী। খাতুনগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সুদ মওকুফের প্রস্তাব করলে অগ্রণী ব্যাংকের ৮০২তম বোর্ড সভায় ৫ সেপ্টেম্বর ৫ কোটি ২ লাখ ১৬ হাজার ৬৯৭ টাকার সুদ মওকুফ করা হয়।

অর্থঋণ আদালতের বিচারক আদেশে বলেছেন, অর্থঋণ আইনের ৩৪ (৬) ধারা মোতাবেক অপরিশোধিত অর্থের ২৫ শতাংশ গ্রহণ না করেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ২ যুগের পুরানো ঋণ খেলাপিকে সুদ মুওকুফ সুবিধা লাভ করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক। আইনগত খরচ মওকুফ করার বিধান না থাকলেও খরচ আদায় না করে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন পাঠিয়েছেন তিনি। কিস্তিতে সরকারি ভর্তুকিসহ পরিশোধের সুবিধা পেয়ে যে গ্রাহক কোনো টাকাই পরিশোধ করেনি তাকে ৫ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করে দিয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ঋণ খেলাপির প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেকে আসামিকে দায়মুক্ত করতে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক অতি উৎসাহী ভূমিকা পালন করেছেন। সোলেনামার শর্ত মোতাবেক টাকা পরিশোধ না করলেও টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ খেলাপের প্রবণতা বাড়ছে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে পরিশোধ না করার প্রত্যয় জন্ম নিচ্ছে। এই অবস্থায় প্রচলিত ব্যাংকিং নীতিমালার আওতায় স্বচ্ছতার সঙ্গে সুদ মওকুফ করা হয়েছে কি না বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন যুগ্ম পরিচালককে দিয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে। সূত্র : ঢাকা পোস্ট।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়