রোববার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ৮ কার্তিক ১৪২৮, ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩  |   ৩০ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাইমচরে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন, দামে অসন্তুষ্ট কৃষক : সবজি ক্ষেতে সবুজ হাসি থাকলেও কৃষকের মুখ ম্লান
  •   অশুভ শক্তি শক্তিশালী হলেও জয়ি হতে পারবে না : শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০০:০০

মেট্রো ওয়াশিংটনে বেআইনি পথে টাকা উপার্জনের প্রতিযোগিতায় কতিপয় ব্যবসায়ী
অনলাইন ডেস্ক

পর্ব-১

মিডিয়াতে প্রতিদিন দেখি আমেরিকাতে বসবাসরত বাংলাদেশী ব্যবসায়ীর জেল জরিমানা হচ্ছে বেআইনিভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্যে। শুধু জেল নয়, সাথে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার জরিমানা করছে। আর তখনই তার ব্যবসা, সম্পত্তি, বাড়ি-গাড়ি সব নিলামে বিক্রি করে দেয়। এতোসব জানার পরেও মেট্রো ওয়াশিংটনের কিছু অসাধু ব্যক্তি বেআইনিভাবে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। কয়েকদিন পূর্বেও ওয়াশিংটনে কয়েকজনের জেল-জরিমানা হয়ে সব হারিয়েছেন। এতো কিছু জানার পরেও একটি সিন্ডিকেট মেট্রো ওয়াশিংটনে বেআইনিভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কাজকর্ম। কাগজপত্র নেই এমন লোকজন দিয়ে কাজ করাচ্ছে রীতিমতো এবং যাদের কাগজপত্র আছে তাদেরকে ঠিকমতো ঘণ্টা দেয় না। সপ্তাহে ১০০ ঘণ্টা কাজ করলেও মাত্র ৬০ ঘণ্টার পয়সা দেয় কোনো ওভারটাইম ছাড়া। কর্মচারীরা কিছু বললে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে সোপর্দ করার হুমকি দেয়। নিরীহ এই কর্মচারীরা নিজেদের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে কিছু বলে না। অথচ মিথ্যাবাদী ও অনবদ্য ইতরগুলো জানে হোমল্যান্ড সিকিউরিটির কাছে রিপোর্ট করলে নিজেরাও জেলে যেতে হবে।

বিধাতা বলেছেন, যে সৎ আর সততার ওপর দৃঢ় এবং ধৈর্য ধারণ করে, অসৎ পথ সামনে এলেও সে পথে পা বাড়ায় না, সে ঠিকই সৎ পথে রিজিক পাবে আর যে অসৎ, যার অন্তর মিথ্যার কালি দিয়ে ভরা, যার বিশ্বাসই এই যে, সৎ পথে জীবনে কিছু করা যাবে না, তার এই হীন বিশ্বাসের কারণে শাস্তিস্বরূপ সে তার রিজিক অসৎ পথেই পাবে। যেহেতু তার অন্তর নোংরা হয়ে গেছে, সুতরাং সে নোংরা পথেই তার রিজিক পাবে, আর যে তার অন্তরকে পবিত্র রাখবে, সে পবিত্র পথেই তার রিজিক পাবে। একজন দুই নাম্বারি করার কারণেই জীবনে এতো টাকার মালিক হতে পেরেছে আর সৎ পথে থাকলে সে পরিমাণ টাকার মালিক হতে পারতো না, এই কথাটা ঠিক নয়। এটাই আমাদের সমাজের জন্যে অনেক ক্ষতিকর একটা কথা। যার কারণে মানুষ হুমড়ি খেয়ে মিথ্যা রাস্তা, দুই নাম্বারি রাস্তা, অবৈধ রাস্তায় নামার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে গেছে। কে কার থেকে বেশি দুই নাম্বারি করতে পারে, কে কার থেকে বেশি দুর্নীতি করতে পারে চলে এর প্রতিযোগিতা। যতোই প্রতিযোগিতা করুক না কেনো, সে অতোটুকুই পাবে যা তার ভাগ্যে নির্ধারিত। আর যদি দুই নাম্বারি, দুর্নীতি না করে ধৈর্য ধরতো এবং হালাল রিজিকের সন্ধান করতো তবে সে ওই পরিমাণ টাকারই মালিক হতো সৎ পথে, হালাল পথে, সম্মানের পথে।

মেট্রো ওয়াশিংটনে প্রতিযোগিতা চলছে কে বেশি দোকান খুলতে পারবে, কে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবে। এই প্রতিযোগিতায় নেমে তারা এখন উন্মাদ হয়ে গেছে। অনেকে কম্পিটিশনে টিকে থাকার জন্যে সুপারভাইজার, ম্যানেজার ও সাধারণ কর্মচারীদেরকে বাড়ি, গাড়ি এমনকি নিজের বউকেসহ অনেক সুবিধা দিয়ে থাকেন। অসাধু এই ব্যবসায়ীগুলো মেট্রো ওয়াশিংটনকে এবং পুরো বাংলাদেশকে কলুষিত করে ফেলেছে। অনবদ্য এই ইতরগুলোর জন্যে জাতি বারবার মিডিয়ার শিরোনাম হয়।

এখন ভাবার বিষয়, যদি দুই নাম্বারি, দুর্নীতি আর অসৎ পথে চলেই কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া যায়, তাহলে তো সব দুই নাম্বারি লোক, অসৎ পন্থা অবলম্বনকারী লোক, সব চোরই কোটিপতি হয়ে যেতো। কিন্তু দেখা যায়, একই সেকশনে দুই নাম্বারি, দুর্নীতি করে কেউ কোটিপতি হচ্ছে আবার কেউ হতে পারছে না। এই চুরি করেই কেউ কোটিপতি হচ্ছে আবার কারো অভাবই যাচ্ছে না। আবার কেউ অনেক দুই নাম্বারি, দুর্নীতি করেও ধরা খাচ্ছে না, আর কেউ সামান্য দুই নাম্বারি বা দুর্নীতি করেই ধরা খাচ্ছে। মানুষ কখন ধরা খায়? যখন সে তার রিজিকের বাইরে উপার্জন করে ফেলে। ওটাতো তার রিজিক না, ওটাতো সে খেতে পারবে না বিধায় সে ধরা খায় এবং সব দিয়ে দিতে হয় আর মাঝখান থেকে কত বড় বেইজ্জতি হতে হয়। এটা তার অন্তরের নোংরামির পুরস্কার। আর যে ধরা না খেয়েই অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে সে নিজেকে খুব চালাক মনে করে যে, কেমন কৌশল অবলম্বন করেছি আজ পর্যন্ত কেউ আমায় ধরতে পারে নি। আসলে এখানে তার চালাকির পাশাপাশি আরও একটি বিষয় হলো এই যে, সে তার রিজিকই উপার্জন করছে বলেই তার চারপাশের সিস্টেম তার অনুকূলে কাজ করছে আর সে ধরা খাচ্ছে না। তার রিজিকের বাইরে গেলেই ধরা খেতো। আর অন্তরের নোংরামির কারণে তার রিজিকই সে পাচ্ছে নোংরা পথে, অসম্মানের পথে, টেনশন পেরেশানির পথে। যদি সততার ওপর দৃঢ় থাকতো, তবে তার রিজিক তার কাছে আসতো সুন্দর পথে, সৎ পথে, সম্মানের পথে। তবে কোনো না কোনোদিন সে ধরা খাবেই। ইনশাআল্লাহ্! (চলবে)

ড. আব্দুস সাত্তার : লেখক ও সাংবাদিক, ওয়াশিংটন ডিসি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়