রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮  |   ২৩ °সে
আজকের পত্রিকা জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতি শিক্ষা স্বাস্থ্য সারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয়
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৪৩তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্ধোধন
  •   কচুয়ায় কলেজ ছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
  •   স্বাক্ষর জাল করে আওয়ামীলীগের তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ
  •   বিএনপির মানিক-শাহীন দুই গ্রুপের সাথে যুগ্ম মহাসচিবের সভা
  •   কচুয়ায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০০:০০

প্রকৃতি
অনলাইন ডেস্ক

প্রকৃতির শত রূপ। শুভ্র নরম সবুজ চাদরে ঢাকা মায়াময়ী আলিঙ্গনে তুলোর মতো জড়াজড়ি এবং অবাক অনুভূতি। প্রকৃতির মাঝে এবং প্রকৃতির কাছে নতুন দর্শনগুলো আনন্দিত করে তোলে সকলকে। প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকৃতির সৌন্দর্যে, যার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। নানা রঙ্গে রাঙ্গিয়ে তুলে প্রকৃতির সব কিছু যেনো এক আত্মিক সম্পর্কে। প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া একটি সময় তারই মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়। স্রষ্টার অপূর্ব সৃষ্টি প্রকৃতির একান্ত সান্নিধ্যে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা যায় এক অনাবিল বিশালতায়- জ্যোৎস্না ভরা মায়াবী রাতে নীল আকাশের রূপালি নদীর তটে প্রিয় কাব্যে।

জীবন সুন্দর অমোঘ সংহার। প্রকৃতির সাথে জীবন রঙ বদলায় পূর্ণিমার আলোয় বা অমাবস্যার আঁধারে। সুখের অভিলাষ, মধুর স্মৃতি আকাশ ভেদ করে তারার রাজ্যে। নিঝুম রাতে ভুতুম পেঁচার ডাক। আবেগপ্রবল, সীমাহীন গভীরতা, মন-প্রাণ ছোঁয়া অবিচ্ছেদ্য সংযোগ। নান্দনিক জীবনের অবকাশে স্মৃতির মাধুর্যময় আবেগ। নিত্যদিনের সম্পর্ক প্রাণবন্ত ও অফুরন্ত। বলিষ্ঠ ভরসা, সাফল্যের প্রত্যাশায় বেড়ে ওঠা এক অপরূপ নির্মল প্রকৃতি। মনটা হারিয়ে যায় প্রকৃতির মাঝে সাগরের উত্তাল তরঙ্গে। মাটি থেকে জন্মে আবার মাটিতেই মিশে যাওয়া কী অদ্ভুত নিয়ম। প্রকৃতির বেড়াজালে নির্মল সকালে বিশুদ্ধ বাতায়ন সমুদ্রতীরে এবং সবুজ বাগানে। মনের শান্তি উপচে পড়ে নতুন আশার আলোয়। পাহাড় তারই কোল বেয়ে ঝর্ণা, আলো-বাতাস। নীলাকাশ বিশাল সাগরে হুমড়ি খায়। দূরের সবুজ মাঠ, দারুচিনি, জলপাই ও শালবনের বিশাল বিস্তৃতি সবই আগলে ধরে প্রকৃতি। চিত্রা হরিণের কারুকার্যময় শরীর, সোনালি মাছের কী অপরূপ ঝকমকে অবয়ব। পাখিদের নানা বর্ণের রঙিন পালক। আকাশে মেঘের বিচরণ শান্ত-স্নিগ্ধ অপ্রতিম দহরম। প্রকৃতির সৌন্দর্যে মন হারিয়ে যায়, আত্মাকে বোঝার মানবিকবোধ। সূর্য উঠা সকাল, পাখির কলতানে ফুলের উদ্যানে ভরা ফুল, ফলে ফলে বাগান কী অপরূপ কী অপরূপ। প্রকৃতির অবদানে ষড়ঋতুর আনন্দ-উল্লাসে নানা রঙের ছোঁয়া মানবজীবনে। জগৎজুড়ে দৃশ্যমান জীবন প্রাণ সাগর নদী পাহাড় পর্বত পশুপাখি- সবই প্রকৃতির অবদান, যা মানব সৃষ্টি নয়। পৃথিবী তথা বিশ্বব্রহ্মা-সহ সকল সৃষ্টি। প্রকৃতি কথা বলে, নানা বর্ণের প্রেমের উপাখ্যান যার রঙিন ক্যানভাসে জীবন্ত। মানুষের নানা অভিব্যক্তি- সেই হলো প্রকৃতি। প্রকৃতি থেকে নেয়া নানা রঙ, হৃদয়ছোঁয়া মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ ক্যামেরার ফ্রেমে সিনেমার রূপালি পর্দায় প্রকৃতির চলাচল। প্রকৃতি প্রকৃতির মাঝে শান্ত-স্নিগ্ধ অফুরন্ত। প্রকৃতি আবার প্রতিহিংসাপরায়ণ বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঝড় তা-ব, অশ্রুসিক্ত, প্রকৃতি স্তব্ধ নির্বাক আগ্নেয়গিরির মতো ভয়ঙ্কর।

শাশ্বত ধ্যান-ধারণা পারিপার্শ্বিক সুন্দর চির অম্লান প্রকৃতির অবস্থান। হিমালয়ের চূড়ার সাদা বরফে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার আকাশছোঁয়া নৈসর্গিক সুখ এবং নীলাভ ছোঁয়া। বাতাস ভারী সিক্ত হওয়া, প্রকৃতি যেনো নীরব, নিস্তব্ধ। চাঁদের বিশাল এলোমেলো তারার রাজ্যে প্রকৃতির সাথে গোপন রহস্যভরা। সংগীতের সাতটি সাদা আর পাঁচটি কালো সুর প্রকৃতির নানা প্রান্ত থেকে নেয়া স্বতঃসিদ্ধ। প্রকৃতির শব্দ যেনো শব্দ নয় এক অদ্ভুত যোগাযোগ। অনেক সময় প্রকৃতি অন্ধ এবং বধির। তার শ্রবণশক্তি নেই এবং গান তাও আবার মানুষের গলায় উচ্চারিত হয় শ্রুতিমধুর কণ্ঠে এবং আপ্লুত মানুষ তারই গান, কথা শুনে। বৈচিত্র্যের ছোঁয়া পথে-ঘাটে, সকাল-বিকেল, সন্ধ্যারাত রঙের ঢেউ খেলে সৌন্দর্যের সাজসজ্জায়।

মানুষের মধ্যে বিশাল শক্তি লুকিয়ে আছে, যা হলো ইচ্ছাশক্তি। মানুষ প্রকৃতির সাহায্যে তার সুপ্ত ইচ্ছাশক্তি জাগ্রত করতে পারে, যা নিজের মধ্যে লুকিয়ে ছিলো। চাঁদের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে সৃষ্টিকর্তার সৌন্দর্য, তপ্তময় বিশাল সূর্যকে দেখে মহাপরাক্রমশালী বিধাতার অস্তিত্ব, আকাশ তারকার রাজ্য দেখে সৃষ্টিকর্তার উপলব্ধি হয়। এ সবই প্রকৃতির পারিপার্শ্বিকতা থেকে। প্রকৃতি কখনো অসহায়, অন্ধকার গলিতে হুমড়ি খায়। তবে প্রকৃতি আবার হিংসাপরায়ণ নয়। অফুরন্ত উল্লাস, যদিও কখনো অবসন্ন ক্লান্ত, তবে আবার উৎফুল্ল। কখনো বৃষ্টির দোলা দোল খেলে, মাঠে প্রান্তরে সর্বময় মিলে মিশে আছে প্রকৃতি, মানুষের উদার অন্তঃস্থলে। ঋতু ভেদে তারতম্য শ্যামল বাংলার রূপময় সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য।

চিরকাল সুজলা সুফলা প্রকৃতির মুগ্ধতায় ঋতুরঙ্গের খেলা। প্রকৃতি নিজের রূপ, সৌন্দর্যে প্রতিনিয়ত মানুষের অতি কাছাকাছি করে বিচরণ। সাহিত্যে, ছন্দে, উপন্যাসে, কবির উপমা তার লেখনীতে তার বিদ্যমানতা। প্রকৃতি সৌন্দর্যের পূজারী। জীবন চলার পথে সর্বজনীন দূর থেকে ভেসে আসা ঠা-া বাতাস, সিক্ত অনুভূতি লেপ্টে থাকা শরীরে। আলসে দুপুরে ঘুঘুর ডাকে হৃদয় জুড়ায়। স্বপ্নের কুঁড়ে ঘরে মিষ্টি রোদের ছড়াছড়ি প্রকৃতিরই কোলে। নিঝুম সন্ধ্যায় চাঁদের রূপালি উঁকি। সবুজ ঘাসের ডগায় সিক্ত শিশির, রাতে হাসনাহেনার মাতাল গন্ধে প্রকৃতি ঘোমটা টানে ঘুমের নেশায়। বিস্তীর্ণ ঝিলজুড়ে শাপলার রাজ্যে প্রকৃতির কী অপরূপ শোভা। লাল শাপলার মাঝে শুভ্র শাপলার বাহারী রঙ। জীবন পূর্ণিমাতে প্রকৃতি নাচে ভরপুর এই বিশাল ভুবনে। শঙ্খচিলের দল আকাশের বুক চিরে উড়ে সীমাহীন নীলিমায়। প্রকৃতির ডালিতে কত রূপের শোভা ফুলে ফলে। প্রকৃতির গভীরে একটা বিশেষ রং এবং সুরের ব্যাপকতা আছে, যা হৃদয় জুড়ানো। প্রকৃতি যেনো সেরা শিল্প তার অনুপ্রেরণার মূল উৎসে। কল্পনার রাজ্যে চেতনার রং এবং সীমাহীন পরিধি আর ভরপুর নতুন কিছু। আলো রং আলোকময় সৃষ্টি। প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষ নিজেকে খুঁজে পায় সময়মতো। পূর্ণিমার রেশ বিচিত্র মায়াবী, তখন প্রেমিক হতে ইচ্ছে করে একলা আকাশের নিচে। তাই প্রকৃতি ঘিরে মানুষ আর মানুষকেই ঘিরে প্রকৃতি।

লেখক : মাহবুবুর রহমান সেলিম, সভাপতি, ‘শিল্প চূড়া’ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, সভাপতি, মাদকমুক্ত চাঁদপুর গড়ি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়