চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০ চৈত্র ১৪২৭, ২৯ শাবান ১৪৪২
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
গর্ভ ও প্রসবকালীন বিপদচিহ্ন এবং করণীয়
এইচএম জাকির
১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গর্ভবতী মা যতোই সুস্থ-সবল থাকুক না কেনো সন্তান ধারণের ফলে যে কোনো গর্ভবতী মায়ের যে কোনো সময় যে কোনো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে এবং প্রসব-পরবর্তী ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন সময়ের মধ্যে এ ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জটিলতা অনেক সময় বিপজ্জনক ও জীবনের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই গর্ভকালীন বিপদচিহ্ন সম্পর্কে সেবা প্রদানকারী, গর্ভবতী নারীর স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের জেনে রাখা প্রয়োজন।



গর্ভকালীন অর্থাৎ গর্ভে সন্তান আসার পর থেকে প্রসবকালীন প্রতিটা গর্ভবতী মা ও গর্ভের শিশুর জন্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় সামান্য অসচেতনতা বা অবহেলা মা ও অনাগত সন্তানের ভয়াবহ ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। তাই গর্ভকালে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা গুরুত্বের সাথে নিতে হবে। এমন কিছু উপসর্গ আছে যা কোনো অবস্থাতেই অবহেলা করা যাবে না। সেসব উপসর্গ দেখার সাথে সাথে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগসহ নিকটস্থ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া উচিত।



 



রক্তস্রাব : দক্ষ কিংবা অদক্ষ ধাত্রি দ্বারা বাড়িতে প্রসবের সময় বা প্রসবের পর খুব বেশি রক্তস্রাব, গর্ভফুল না পড়া গর্ভ ও প্রসবকালীন কিংবা প্রসব-পরবর্তী বিপদচিহ্নের লক্ষণ। এরূপ বিপদচিহ্ন দেখা মাত্রই দেরি না করে গর্ভবতী মাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিতে হবে। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় রক্তস্রাব হলে বিলম্ব না করে যতো দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।



 



মাথাব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা : গর্ভাবস্থায়, প্রসবকালে ও প্রসবের পরে শরীরে পানি আসা, খুব বেশি মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা গর্ভবতী মায়ের বিপদচিহ্নের একটি। এমতাবস্থায় যতো দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিলম্বে বড় ধরনের বিপদও হতে পারে।



 



ভীষণ জ্বর : গর্ভাবস্থায় বা প্রসবের পর তিনদিনের বেশি জ্বর বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব গর্ভবতী মায়ের জন্যে বিপদের লক্ষণ। বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় যদি কেঁপে কেঁপে ভীষণ জ্বর আসে এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া হয় তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং চিকিৎসা নিতে হবে।



 



বিলম্বিত প্রসব : প্রসবব্যথা ১২ ঘণ্টার বেশি থাকা। প্রসবের সময় বাচ্চার মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ প্রথমে বের হয়ে আসা মা ও শিশুর বিপদচিহ্নেরর অন্যতম একটি। এই অবস্থা বাড়িতে প্রসবের ক্ষেত্রে ঘটলে কোনোভাবেই বাড়িতে চেষ্টা করা যাবে না। না হলে বাচ্চা ও মা দুই জনের জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমতাবস্থায় যতো দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।



 



খিঁচুনি : গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় বা প্রসবের পরে খিঁচুনি হওয়া মা ও শিশু উভয়ের জন্যেই বিপদচিহ্ন। এমন অবস্থা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষায়িত হাসপাতালে মাকে ভর্তি করাতে হবে। খিঁচুনি একলাম্পশিয়ার প্রধান লক্ষণ। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মা ও সন্তান দুজনই মারা যেতে পারে।



উপরোক্ত পাঁচটি বিপদচিহ্ন গর্ভাবস্থার বিপদচিহ্নগুলোর অন্যতম। এছাড়াও গর্ভবতী মায়ের বিভিন্ন ধরনের বিপদচিহ্ন থাকতে পারে। তবে এগুলোকে প্রধান বিপদচিহ্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই এর যে কোনো একটি দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিপদচিহ্নে অবহেলা মা ও শিশু মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই এই সময়ে কালবিলম্ব বা অবহেলা করা যাবে না।



হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গর্ভবতীর স্বামী বা সাথে থাকা স্বজনদের খুবই সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে অবশ্যই নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল নির্বাচন করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ আমাদের দেশে বিশেষ করে বিভাগীয় জেলা শহরের বাইরের প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে নিজস্ব কোনো চিকিৎসক নেই। আবার কোনো কোনো হাসপাতালে থাকলেও তা হাতেগোনা। অধিকাংশ প্রাইভেট হাসপাতালই ডিপ্লোমাধারী, ইন্টার্ন কিংবা সদ্য পাস করা ক্ষণস্থায়ী চিকিৎসক দিয়ে কাজ সেরে নেয়। অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মোবাইল কলের মাধ্যমে পূর্ব থেকে কন্ট্রাক্ট করা চিকিৎসক এনে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকে। এমনও দেখা যায়, একই চিকিৎসক একই সময়ে একাধিক হাসপাতালের কল পেয়ে রোগী দেখে আসতে আসতেও দেরি হয়ে যায়। এক্ষেত্রে চিকিৎসক আসতে আসতে জটিল বা মুমূর্ষু রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায় এবং ততোক্ষণে রোগী মারা যাওয়ার প্রবণতা থেকে যায়। অথচ সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকরা রোগীর অপেক্ষায় বসে থাকে। অনেকের ধারণা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক নেই। এমন ধারণা একেবারেই ভুল। বর্তমান সরকার মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা সেবা প্রদান করে আসছে। চিকিৎসাসেবায় সরকার চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ করে এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা প্রসবসেবা দেয়ার পাশাপাশি বাড়ির পাশে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করে এই সেবাকে বেগবান করেছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণে অবশ্যই সরকারি হাসপাতাল নির্বাচন করা।



সরকারি হাসপাতাল নির্বাচনের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন অবস্থায় কোনো জটিলতা দেখা দিলে সাথে সাথে গর্ভবতী মাকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্, জেলা সদর হাসপাতাল, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ ও বিষেশায়িত অন্যান্য সরকারি হাসপাতাল নির্বাচন করাই ভালো।



 



তথ্যঋণ : কর্ম ও প্রশিক্ষণ সহায়িকা।



লেখক : পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।



 



 



*চিকিৎসাঙ্গন বিভাগে লেখা পাঠানোর ই-মেইল



into.alamin@gmail.com



 



 



 


হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২-সূরা বাকারা


২৮৬ আয়াত, ৪০ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৬। ইহারাই হিদায়াতের বিনিময়ে ভ্রান্তি ক্রয় করিয়াছে। সুতরাং তাহাদের ব্যবসা লাভজনক হয় নাই, তাহারা সৎপথেও পরিচালিত নহে।


 


 


একজন জ্ঞানী প্রশাসক সময়োপযোগী শাসন করেন।


-সিডনি লেনিয়ার।


 


যার মধ্যে বিনয় ও দয়া নেই, সে সকল ভালো গুণাবলি হতে বঞ্চিত।


 


 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ৭,৫১,৬৫৯ ১৪,৮৫,৭৩,২৬৫
সুস্থ ৬,৬৬,৯২৭ ১২,৬৩,৬৯,২৯২
মৃত্যু ৭,৫১,৬৫৯ ৩১,৩৬,৩৮৫
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩২৮২৪২৪
পুরোন সংখ্যা